শক্তিশালী কূটনৈতিক তৎপরতাই রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের একমাত্র পথ : উপদেষ্টা সাখাওয়াত

fec-image

শক্তিশালী কূটনৈতিক তৎপরতাই রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের একমাত্র পথ বলে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম. সাখাওয়াত হোসেন। ১৭ নভেম্বর সোমবার দুপুরে রাজধানীর শেরাটন হোটেলে রোহিঙ্গা সংকটে নির্বাচনোত্তর বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জসমূহ বিষয়ক আলোচনায় এসব কথা বলে তিনি।

উপদেষ্টা সাখাওয়াত বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান কোনো অস্ত্রের বিষয় নয়, এটি কূটনীতির বিষয়। মিলিটারি দিয়ে এই সমস্যার সমাধান হবে না। এভাবে সমাধানের চেষ্টা করলে আমাদের দেশ কোথায় যাবে জানি না। মিয়ানমারকে আন্ডারমাইন করা উচিত হবে না।’

উপদেষ্টা সাখাওয়াত আরও বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি শক্তিশালী কূটনৈতিক তৎপরতাই এটা সমাধানের একমাত্র পথ। এর মাধ্যমেই রোহিঙ্গাদের তাদের ভূমিতে ফেরানো সম্ভব হবে। বিকল্প কোনোভাবে নয়।’

মিয়ানমারে নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় কয়েক লাখ রোহিঙ্গা। বর্তমানে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে ৩৩টি ক্যাম্পে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে। আট বছর ধরে তারা সেখানে অবস্থান করছে, যা স্থানীয় জনগণের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে।

রোহিঙ্গা সংকটে নির্বাচনোত্তর বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জসমূহ বিষয়ক এই আলোচনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পার্বত্যনিউজের সম্পাদক ও সিএইচটি রিসার্চ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান পলাশ। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা বাংলাদেশের। কিন্তু বাংলাদেশ এই সমস্যার সমাধান খুঁজছে আমেরিকা, চায়না, ভারত ও ইউরোপের কাছে। বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বের কেউ চায় না রোহিঙ্গারা ফিরে যাক। তাই বাংলাদেশেরই রোহিঙ্গাদের ফেরানোর পরিকল্পনা করতে হবে। প্রয়োজনে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিদেশী সহায়তা চাওয়া যেতে পারে। কিন্তু তারা যদি না করে তাহলে বাংলাদেশকেই এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রোহিঙ্গাদের ফেরাতে বিদেশের দারস্ত হননি। আমাদের সামনে একমাত্র পথ রয়েছে জিয়াউর রহমানের পথ অনুসরণ। মিয়ানমারের জান্তা বা আরাকান আর্মিকে কার্যকরভাবে বোঝাতে হবে, রোহ্ঙ্গিাদের বাংলাদেশে রাখা তাদের জন্য ফিরিয়ে নেয়ার চেয়ে বেশি ক্ষতিকর। একমাত্র সেক্ষেত্রেই তারা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে। সেটা কার্যকরভাবে বোঝানোই আমাদের সামনে একমাত্র পথ।’

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: উপদেষ্টা, বক্তব্য, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম. সাখাওয়াত হোসেন
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন