শান্তিচুক্তির ফলে সরকার পার্বত্য অঞ্চলে দৃশ্যমান উন্নয়ন করেছে : থানজামা লুসাই

fec-image

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই বলেছেন, পাহাড়ে শান্তি ফিরিয়ে আনতে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন সরকারের সাথে জনসংহতি সমিতির মধ্যে পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা অনেকের কাছেই পার্বত্য শান্তি চুক্তি নামে অবহিত। এই চুক্তির মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের জনসাধারণের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে উন্নয়ন অগ্রযাত্রার পথে চলতে শুরু করে। চুক্তির ফলে অনগ্রসর এই জেলায় উন্নয়নের লক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ এবং তিন পার্বত্য জেলায় স্থানীয় সরকার পরিষদের নাম পরিবর্তন হয়ে পার্বত্য জেলা পরিষদ করা হয়।

সরকারের ২৮টি বিভাগ জেলা পরিষদের ন্যাস্ত বিভাগ করা হয়। যে সকল বিভাগ হস্তান্তর করা হয়নি পর্যায়ক্রমে সে সকল বিভাগও হস্তান্তর করা হবে বলে আমার দৃড় বিশ্বাস।

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সকালে জেলার সাংস্কৃতিক ইনিস্টিউটে পার্বত্য শান্তি চুক্তির ২৮তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জেলা পরিষদের আয়োজনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় তিনি আরো বলেন শান্তিচুক্তির ফলে এই অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, পর্যটনসহ অবকাঠামোগত দৃশ্যমান ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে,এছাড়া পার্বত্য উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা এই অঞ্চলের উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক।

এই অঞ্চলের বসবাসকারী সকল পাহাড়ি,বাঙ্গালী সকল ধর্ম গোষ্ঠীর জনসাধারণ সম্প্রীতি বজায় রেখে একসাথে উন্নয়নের কাজ চলমান রাখতে সহযোগিতা কামনা করেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, অধ্যাপক থানজামা লুসাই। এসময় অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য বান্দরবান সেনা রিজিয়ন, জেলা প্রশাসন সহ সকল সরকারি দপ্তরকে ধন্যবাদ জানান।

এর আগে সাকলে বেলুন ও শান্তির প্রতিক পায়ড়া উড়িয়ে পার্বত্য শান্তি চুক্তির ২৮ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান সেনা জোন কমান্ডার, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ হুমায়ূন রশীদ,জিএসও২ (ইন্টেলিজেন্স) মেজর পারভেজ রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, জিনিয়া চাকমা, মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা, মো. নজরুল ইসলাম, ট্যুরিস্ট পুলিশ সুপার, মোহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী সহ জেলা প্রশাসন ও সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি বৃন্দ।

পরে জেলা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনিস্টিউটের অডিটোরিয়ামে কয়েকটি সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: বান্দরবান
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন