শান্তিচুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়নে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে: বীর বাহাদুর এমপি

fec-image

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী শান্তিচুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়নে সবাইকে এক মন নিয়ে কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে সরকার একপায়ে দাঁড়িয়ে আছে। শান্তিচুক্তির যা বাস্তবায়ন হয়েছে, তা তো হয়েছেই। কিছু বাস্তবায়ন হয়নি। এগুলোকে গতিশীল করতে সবাইকে একসাথে কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে কাজ করতে হবে। একে কিভাবে আরও গতিশীল করা যায় সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা আছে। হানাহানি, সংঘাত করে তো কোন লাভ নেই। আমরা যারা শান্তির পক্ষে আমাদের সব বাঁধা অতিক্রম করে একসাথে কাজ করে গেলেই চুক্তির বাকিগুলো আরও দ্রুত বাস্তবায়ন হবে।

বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়ন: সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের গুরুত্ব’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

আইসিএলডিএস এর সভাপতিপ মো: জমিরের সভাপতিত্বে সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মেছবাহুল হক, আইসিএলডিএস এর নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রশিদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নববিক্রম ত্রিপুরা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন, ড. প্রফেসর আমেনা মহসিন, সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী শমসের মবিন চৌধুরী বীর বিক্রম, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মেজবাহ কামাল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

মন্ত্রী বলেন, পাহাড়ে সমস্যা ছিল, কিন্তু সমাধানের পথও বের হচ্ছে। আজকে যারা আমরা এসেছি এ সম্প্রীতির জন্যই এখানে এসেছি। এখন গুটিকয়েক মানুষ সবাইকে জিম্মি করে অশান্তির ঘটনা ঘটালে সবাই যদি সেই অশান্তির পথেই চলে যায় তাহলে কিভাবে হবে। অধিকাংশ মানুষ শান্তির পক্ষে আছে, উন্নয়নের পথে আছে, শান্তিচুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়নের পক্ষে আছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাহাড়ের সত্যিকারের শান্তি চান। তিনি এ শান্তির লক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি চান পাহাড়িরা দেশের জন্য বোঝা না হয়ে দেশের জন্য সম্পদে পরিণত হোক। তিনি আন্তরিকভাবে এটি চান।

তিনি বলেন, আমরা সবাই পার্বত্যবাসী, কি পাহাড়ী, কি বাঙালি, আমরা যারা শান্তি চাই আমাদের মধ্যে ঐক্য থাকতে হবে। আমাদের মধ্যে সহাবস্থান থাকতে হবে। যারা সন্ত্রাসী করে, চাঁদাবাজি করে, খুন খারাপি করে তাদের বিরুদ্ধেও আমাদের প্রতিবাদ করতে হবে। সে যেই হো্ক।

এ সময় পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়নচিত্র তুলে ধরে বীর বাহাদুর এমপি বলেন, পাহাড়ে উন্নয়ন হয়েছে। উন্নয়ন হচ্ছে। এখন অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে এগিয়ে যাচ্ছে। পাহাড়ে শান্তি, সমৃদ্ধি, সহাবস্থান যাই বলি না কেন উন্নয়ন হচ্ছে, এর সঙ্গে সঙ্গে সমস্যার সমাধানও হচ্ছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মেছবাহুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে ভাবেন। তিনি ক্ষমতায় এসে বলেছিলেন পাহাড়ে শান্তি ফিরিয়ে আনাই তার মূল কাজ হবে। তিনি তার এই কথার অনেকাংশেই বাস্তবায়ন করেছেন। শেখ হাসিনা পার্বত্য অঞ্চলের সংকটকে বিবেচনায় নিয়ে শুরু থেকেই কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, এখন পার্বত্য অঞ্চলে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। শিক্ষাখাতে, স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়ন হয়েছে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করেছে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ।

তিনি বলেন, দু:খজনক হচ্ছে আজকেও রক্তক্ষয়, সংঘাত ও সংঘর্ষের ঘটনা শোনা যাচ্ছে। এর একটি কারণ আমাদের সম্প্রীতির অভাব। এ সম্প্রীতি বজায় রাখতে আমরা যারা শান্তির কথা বলছি, আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। পাহাড়ী-বাঙালি সবাই শান্তি চায়। কিছুসংখ্যক মানুষ অশান্তি সৃষ্টি করছে। এদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে। সবাইকে একসাথে মিলে সংকট নিরসন করতে হবে।

ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্তের সঞ্চালনায় সভায় পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নববিক্রম ত্রিপুরা, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব সি এম সফি সামী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন প্রবন্ধ পাঠ করেন।

অনুষ্ঠানের শেষের দিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে আগত বাঙালি সংগঠনগুলো সম্মেলনে একতরফা বক্তব্য দেয়া হচ্ছে বলে তাদের পক্ষে কথা বলতে দেয়ার সুযোগ দেয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু সঞ্চালক সেই অনুরোধ প্রত্যাখান করলে তারা অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন।

এদিকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেক সাংবাদিক আয়োজকদের কাছে বেশকিছু লিখিত প্রশ্ন করেন। কিন্তু একটি ছাড়া আর কোনো প্রশ্নের জবাব না দেয়ায় তারাও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: প্রধানমন্ত্রী, বীর বাহাদুর এমপি, শান্তিচুক্তি
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eleven + 11 =

আরও পড়ুন