শান্তি চুক্তির বর্ষপূর্তি ঘিরে কাউখালীতে ইউপিডিএফ-জেএসএস মুখোমুখি

fec-image

পার্বত্য শান্তি চুক্তির ২৮ বছর পূর্তি ঘিরে কাউখালীতে ইউপিডিএফ-জেএসএস ফের মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। ১ ডিসেম্বর সোমবার উপজেলার মিতিঙ্গাছড়িতে জেএসএস (সন্তু) ও সীমান্তবর্তী রইশ্যাবিলী এলাকায় চুক্তি বিরোধী ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপ অবস্থান নেয়।

এখন পর্যন্ত বন্দুক যুদ্ধে জড়ায়নি কোনো গ্রুপ। তবে চাঁদাবাজির মূল স্পট দখল নিতে যে কোন মূহুর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়াতে পারে সশস্ত্র দল দু’টি। এমন আশংকার কথা জানিয়েছে বিশ্বস্ত একাধিক সূত্র ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক বাসিন্দা।

নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, ১ ডিসেম্বর সোমবার সকাল থেকে জেএসএস (সন্তু) গ্রুপের ৩৫-৪০ জনের সশস্ত্র দল কাউখালীর মিতিঙ্গাছড়ি হয়ে সীমান্তবর্তী রাঙ্গুনিয়ার রইস্যাবিলি এলাকার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা চালায়। কিন্তু রইস্যাবিলী এলাকায় পূর্বে থেকে অবস্থান করা ইউপিডিএফ সশস্ত্র ক্যাডারদের কাছে খবর গেলে তারা জেএসএস’কে প্রতিরোধে দ্রুত মিতিঙ্গাছড়ি এলাকা ঘিরে ফেলে।

অবস্থা বেগতিক জেএসএস দ্রুত ওই স্থান ত্যাগ করে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নেয়। একই এলাকার দখল নিয়ে গত ২৬ নভেম্বর দু’পক্ষের সংঘর্ষে শতাধিক রাউন্ড গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এতে জেএসএস’র এক সদস্য নিহত হন। যদিও ওই ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশী বলে জানিয়ে ছিলো স্থানীয়রা।

২ ডিসেম্বর পার্বত্য শান্তি চুক্তির ২৮তম বর্ষ পালন করবে সন্তু লারমার জেএসএস। বর্ষপূর্তি ঘিরে কাউখালী ও সীমান্তবর্তী রাঙ্গুনিয়ার কাঠ ব্যবসায়ী, ইটভাটা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বার, সাধারণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে কয়েক কোটি টাকা আদায় করছে জেএসএস।

অপরদিকে চুক্তি বিরোধী প্রসীত বিকাশ খিসার ইউপিডিএফও চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে জেএসএস থেকে কোন অংশে পিছিয়ে নেই। মূলত চাঁদাবাজির মূল উৎস্য ইটভাটা পাড়া ও কাঠ ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে খ্যাত রইস্যাবিলী ও চেলাছড়া এলাকা দখল ও নিহত জেএসএস সদস্যের প্রতিশোধ নিতেই ফের মুখোমুখি হয়েছে দল দু’টি।

ফলে যে কোন মূহুর্তে পুনরায় রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র যুদ্ধে জড়িয়ে যেতে পারে ইউপিডিএফ ও জেএসএস। এমন আশংকার কথাই জানিয়েছে নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: কাউখালী, পার্বত্য শান্তিচুক্তি
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন