শিক্ষাবিদ ড. প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমার মৃত্যুতে বিভিন্ন মহলের শোক

fec-image

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য ও রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যায়ের অবসরপ্রাপ্ত উপাচার্য শিক্ষাবিদ ড. প্রদানেন্দুু বিকাশ চাকমা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

বুধবার (১৭ আগস্ট) সকাল ৮টা ২০ মিনিটে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৭০ বছর।

উপাচার্য ড. প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উপজাতীয় শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স এর চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জনাব মংসুইপ্রু চৌধুরীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন।

পৃথক বিবৃতিকে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘ড. প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমার মহা প্রয়াণে জাতির অপূরণীয় ক্ষতি হলো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয় রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যায়ের প্রথম এ উপাচার্য শিক্ষা বিস্তার ও সমাজ বিকাশে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। তাঁর এ অবদান শ্রদ্ধার চিত্তে স্মরণ করছি।’

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ ড. প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমার পবিত্র আত্মার শান্তি কামনা এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

ড. প্রদানেন্দু বিকাশ চাকমা সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:

ড. প্রদান্দেু বিকাশ চাকমা ১৯৫২ সালে বর্তমান খাগড়াছড়ি সদর উপজেলাধীন ঐতিহ্যবাহী খবংপড়িয়া গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা সুরেন্দ্র মোহন চাকমা পেশায় একজন শিক্ষক ছিলেন। তিন ভাই দুই বোনের মধ্যে ড. চাকমা হলেন সর্ব কনিষ্ঠ। ছাত্রজীবনে তিনি বিস্ময়কর প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। অল রাউন্ডার হিসেবে সর্বত্র তাঁর সুখ্যাতি ছিল। লেখাপড়ার পাশাপাশি তিনি গান-বাজনা, খেলাধুলা ও পাঠ্যক্রম কর্মকাণ্ডে সবসময় শ্রেষ্ঠ ছিলেন। ছাত্রজীবনে কৃতি ফুটবলার হিসেবে তাঁর ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তা ছিল। অমায়িক ও বন্ধুসুলভ আচার-আচরণের মাধ্যমে সহজেই অন্যের মনকে জয় করতে পারা তাঁর অন্যতম একটি গুণ। তাঁর সেই মানবিক গুণাবলির জন্য শিশু থেকে শুরু করে আবাল বৃদ্ধবনিতা সবাই তাঁকে পছন্দ করে ও ভালোবাসে।

শিক্ষা জীবন:

অদম্য মেধাবী এ মহান ব্যক্তি খাগড়াছড়ির অন্যতম প্রচীর ও আদর্শ বিদ্যাপীঠ খবংপড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। তিনি ১৯৬৯ সনে সেন্টার ফার্স্ট হয়ে খাগড়াছড়ি উচ্চ বিদ্যালয় হতে মানবিক শাখায় প্রথম বিভাগে এসএসসি এবং ১৯৭১ সনে কুমিল্লা বোর্ডে সম্মিলিত মেধা তালিকায় ১৩ তম স্ট্যান্ড করে চট্টগ্রাম কমার্স কলেজ থেকে এইচএসসি (বাণিজ্য) পাশ করেন। অতঃপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হতে কৃতিত্বের সাথে ফার্স্ট ক্লাস সেকেন্ড হয়ে বিএ অনার্স এবং একই বিশ্ববিদ্যালয় হতে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়ে মাস্টার্স ডিগ্রী সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ভারতের গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন।

কর্মজীবন:

তিনি উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীর বিদ্যাপীঠ প্রাচ্যের অক্সফোর্ড নামে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ অনেক বছর যাবত সুনাম ও সাফল্যের সাথে অধ্যাপনা করেছেন। এরপর তিনি রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য পদে নিয়োজিত হন। তিনি ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তি (রাবিপ্রবি) ১ম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালে তিনি পুনঃনিয়োাগ লাভ করেন এবং ২০২২ সাল পর্যন্ত দ্বিতীয় মেয়াদে রাবিপ্রবি উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ২০২১ সালে তিনি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) খণ্ডকালীন সদস্য হিসেবে মনোনীত হন।

তথ্য: (জনাব ধীমান খীসা, খাগড়াছড়ি সমাজকর্মী)

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × 3 =

আরও পড়ুন