শিক্ষার্থী শ্রাবণ দেওয়ানকে হত্যা করা হয়েছে: ওয়াদুদ ভূইয়া

fec-image

শিক্ষার্থী শ্রাবণ দেওয়ানকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে তার বিচার দাবি করেছেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া। তিনি শুক্রবার (১২ আগস্ট)খাগড়াছড়িতে বিদ্যালয়ে গেট চাপা পড়ে নিহত শ্রাবণ দেওয়ানের জেলা শহরের নারায়খাইয়া পাড়ার বাড়িতে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে গিয়ে এ দাবি জানান।

তিনি শ্রাবণ দেওয়ানের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য আর্থিক সহযোগিতা করেন। এ সময় শ্রাবণ দেওয়ানের মা বাসনা চাকমা ও পিতা প্রণয় দেওয়ানসহ স্বজনদের কান্নায় এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে।

ওয়াদুদ ভূইয়া, ভবিষ্যতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসন দিয়ে বলেন, ‘স্কুল গেটের চাপা পড়ে শিশু শিক্ষার্থী শ্রাবণ দেওয়ানে মৃত্যুর ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা নয়। এটি হত্যাকাণ্ড। কারণ সদর উপজেলা এলজিইডির অর্থ রবাদ্দে বিদ্যালয়ের বাউন্ডাবি ও গেটটি ঠিকাদার ৬ মাস আগে নির্মাণ কাজ শেষ করেছে। কিন্তু গেটটি ছিল নড়েবড়ে। তাই গাছের খুটি দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। স্কুলের অভিভাবকদের আপত্তি সত্ত্বে কতৃপক্ষ ব্যবস্থা নেয়নি। এখানে এলজিইডি, ঠিকাদার ও স্কুল কতৃপক্ষের চরম গাফেলতি ছিল। কাজে এটাকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে দায়ীদের বিচার দাবি। দেশে জনগণের সরকার না থাকার কারণে সর্বত্র নৈরাজ্য চলছে। কোথাও জবাবদিহিতা নেই।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি প্রবীণ চন্দ্র চাকমা, ক্ষেত্র মোহন রোয়াজা, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক মিন্টু, অনিমেষ চাকমা রিংকু, সাংগঠনিক সম্পদক আব্দুর রব রাজা, আবু তালেব, জেলা যুবদলের সাধারন সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল ও সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল আলমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বুধবার(১০ আগস্ট) সকাল ৯টা। প্রতিদিনের মতো খবং পুড়িয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক প্রাথমিকের শিক্ষার্থী শ্রাবণ দেওয়ান তার মা বাসনা চাকমার হাত ধরে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করছিল। এ সময় বিদ্যালয়ের গেইটটি তাদের উপর পড়ে। মা বাসনা বেঁচে গেলেও ছেলে শ্রাবণ দেওয়ান ঘটনাস্থলে প্রাণ হারায়। শ্রাবণ দেওয়ান জেলা সদরের নারায়ন খাইয়া পাড়ার প্রণয় দেওয়ানের ছেলে। অভিভাবকরা এ ঘটনার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষকে দায়ীকে করেছে।

জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১১ ডিসেম্বর তাৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম খবং পুড়িয়া সরকারি বিদ্যালয়ের নতুন ভবন উদ্বোধন করেন। আর ২০২০-২১ অর্থ বছরে বিদ্যালয়ের গেটসহ বাউন্ডারি ওয়াল নির্মিত হয়। এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্কুলের বাউন্ডারি ওয়ালসহ গেটটি নির্মাণ করেন। কিন্তু এ দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যালয়ের গেটটি না লাগিয়ে গাছের খুটি দিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 + 5 =

আরও পড়ুন