
“পার্বত্য জেলাগুলো নিয়ে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র নতুন কিছু নয়”
স্টাফ রিপোর্টার:
বৈশাবী উপলক্ষে রাঙামাটিতে গান গাইতে আসছেন প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী আসিফ আকবর। রাঙমাটি জেলা পুলিশের আয়োজনে আগামী ১৫ এপ্রিল জেলা শহরে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন আসিফ ও তার দল। শুধু সঙ্গীত নয়, এই সফরে বিজু উৎসবও উপভোগ করবেন শিল্পী। আসিফ আকবর গতকাল তার ফেসবুকে এক স্ট্যাটাস দিয়ে রাঙামাটির ভক্তদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
রাঙামটি সদর থানার ওসি সোহেল ইমতিয়াজ আসিফের বাল্য বন্ধু জানিয়ে স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, “আমার বাল্যবন্ধু সোহেল ইমতিয়াজ এখন রাঙ্গামাটি সদর থানার ওসি। ক্যারিয়ারের প্রায় তেরো বছর বিভিন্ন সময়ে রাঙ্গামাটিতে চাকুরী করেছে। আমি রাঙ্গামাটি গেলে ওসি স্যারের সাথে মোটর বাইক নিয়ে ঘুরে বেড়াই। একসাথে স্কুল কলেজে পড়েছি,সারাক্ষনই আমাকে বকাঝকা করে। এবার প্ল্যান ছিলো বিজু উৎসবে ফ্রি ওপেন এয়ার কনসার্ট করবো, অশান্ত পাহাড়ে একটু শান্তির প্রত্যাশায়, এখনো আশাবাদী, সঙ্গে থাকছে রাঙ্গামাটি পুলিশ প্রশাসন।”
রাঙামাটিতে বিজু উৎসবে যোগ দেখার স্মৃতি রোমান্থন করে আসিফ তার পোস্টে লেখেন, “আগামী ১২, ১৩, ১৪ এপ্রিল বিজু উৎসব। বেশ কয়েক বার বিজুতে অংশ নিয়ে এ বাড়ী ও বাড়ী দাওয়াত খেয়েছি। এরা আমার আত্মীয় স্বজন বা পূর্ব পরিচিত নয়। আলোময় চাকমা, শ্যামল ত্রিপুরা, কুন্তল চাকমারা আমার বন্ধু, সেই সুবাদে রাঙ্গামাটির অনেক গহীন পাহাড়েও ঘরে ঢুকে যেতে পেরেছি। বিজুতে পাহাড়ে নেমে আসে আনন্দের বন্যা “
শুধু বিজু নয়, রাঙামাটির সৌন্দর্যেরও ভক্ত শৈশব থেকেই। সে সৌ্ন্দর্যের টানে বারবার ছুটে গেছেন রাঙা মাটির দেশে। আসিফ লিখেছেন, “বাংলাদেশের রানী রাঙ্গামাটি। সৌন্দর্যের লীলাভুমি। প্রতিবছর অন্তত একবার না গেলে মনটা অতৃপ্ত থেকে যায়। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে পড়ার সময় চান্স পেলেই চলে যেতাম জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের সাথে আড্ডা মারতে। সেখানে পরিচয় আলোময় চাকমার সাথে,তারপর নিয়মিত রাঙ্গামাটি যাওয়া এবং সৌন্দর্য সুধায় চোখ জুড়িয়ে নেয়ার পর্বটা শুরু।”
তবে রাঙামাটিকে ভালবাসলেও সেখানকার কিছু উপজাতি শুধুমাত্র বাঙালী হবার কারণে তাকে ঘৃণা করে পোস্ট দেয় এ তথ্য জানিয়ে ব্যথিত আসিফ পোস্টে লিখেছেন, “ হঠাৎ করেই কিছুদিন আগে একটা পোষ্ট চোখে পড়লো, একটু আবেগী হয়ে গেলাম। প্রিয়াংসু চাকমা তার পোষ্টে লিখেছেন – “মনে রাখবেন, আপনারা পাকিস্তানীদের যেমন ঘৃণা করেন। এমন সময় আসবে আমরাও বাঙ্গালীদের জন্মের ঘৃণা করবো। সে আমরা মরি বা বাঁচি”। ওখানে জুম্ম নারী এবং স্কুল ছাত্রীর সঙ্গে যে অত্যাচারের বিবরণ আছে, গা এমনিতেই শিউরে ওঠে । পার্বত্য জেলাগুলো নিয়ে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র নতুন কিছু নয় । ওখানে কিছু NGO এর অপতৎপরতা চোখে পড়ার মত। প্রিয়াংসু চাকমার কাছে ক্ষমা চেয়ে বলতে চাই – হে ভূমিপুত্র, মনে প্রানে বিশ্বাস করি, এদেশটা আমাদের সকলের ।
“ ধর্ম বর্ন যার যা থাকুক, কোনো ভেদাভেদ নাই সমতল বাসী পাহাড়ী মানুষ, সকলেই ভাই ভাই ”
এদিকে আসিফ চাকমাদের ভূমিপূত্র বলায় তার উপরে বেশ ক্ষুদ্ধ পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালী সম্প্রদায়। তারা আসিফের পোস্টে নানা তথ্য উপাত্তের লিংক দিয়ে তার ভুল ভাঙানোর চেষ্টা করছে।