শীতের পরশে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে রাঙ্গামাটি পর্যটন শিল্প

fec-image

শীতে পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠছে পার্বত্য পর্যটন নগরী রাঙ্গামাটি। যেন শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলার দর্শনীয় পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটক বাড়তে শুরু করেছে।

শীতের পরশে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে জেলার পর্যটন শিল্প। শীতের শিশির ভেজা সকালের পর্যটন স্পটগুলোতে ভ্রমণপিয়াসু মানুষের আনাগোনা বাড়ার কারণে বদলাতে শুরু করেছে এই জেলার দর্শনীয় স্থানগুলোর দৃশ্যপট। প্রতিনিয়ত রাঙ্গামাটিতে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নৈসর্গিক প্রকৃতির হাতছানিতে আগমন ঘটছে প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসু মানুষের।

শহরসহ আনাচে-কানাচে বিনোদন ও দর্শনীয় স্পটগুলোতে এখন পর্যটকদের সরব উপস্থিতি লক্ষণীয়। বিশেষ করে সরকারি ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। শহরের আবাসিক হোটেল গুলোতে বুকিং আছে মোটামুটি। অভিজাত আবাসিকস্থল পর্যটন মোটেল, হোটেল মতিমহল, সুফিয়া হোটেল, গ্রীণ ক্যসেল এবং নীডস্ হিল ভিউ এর প্রায় রুম বুকিং রয়েছে।

রাঙ্গামাটির অন্যতম দর্শনীয় স্থান হলো, মনোরম ঝুলন্ত সেতু, ডিসি বাংলো পার্ক, জেলা পুলিশের পলওয়েল ও লাভপয়েন্ট স্পট, সুবলং ঝরনা স্পট, আরণ্যক, পেদাটিংটিং, টুকটুক ইকোভিলেজ, বেড়ান্যে লেক, বড়গাং, মুন্সী আবদুর রউফ স্মৃতিসৌধ, সুখী নীলগঞ্জ, রাজবন বিহার, চাকমা রাজার বাড়িসহ প্রচুর দৃষ্টিনন্দন ও বিনোদন কেন্দ্রসহ রাঙ্গামাটি শহরের আনাচে-কানাচের স্পটগুলো পর্যটকদের সরব উপস্থিতিতে মুখর।

এ ছাড়াও কাপ্তাইয়ের জাতীয় উদ্যান, নৌবাহিনী পর্যটন স্পট, শিলছড়ি স্পট, বিজিবি স্পট, বনশ্রী পর্যটন স্পটসহ বিভিন্ন জায়গায় ছুটছেন পর্যটকরা। পাড়ি জমাচ্ছেন ভারতের মিজোরাম সীমান্তবর্তী বাঘাইছড়ির সাজেক পর্যন্ত।

এক দিক দিয়ে এই শীতের মৌসুম হলো পাহাড়ের দুর্গম অঞ্চলের দর্শনীয় স্থানগুলো ভ্রমণের উপযুক্ত সময়। প্রাকৃতিক নির্মল ছোঁয়া পেতে পার্বত্য জনপদের পাহাড়ের আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ভ্রমণপিয়াসু পর্যটকরা। প্রচুর এই শীতে কুয়াশার চাদরে ঢেকে থাকা রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার পাহাড়গুলো দূর থেকে দেখে মনে হয় প্রকৃতি যেন সবটুকু উজাড় করে দিয়ে পেখম মেলে বসে আছে এই এলাকার পর্যটন শিল্পের সৌন্দর্য বিকাশে। যান্ত্রিক জীবনের নানা কর্মব্যস্ততার ছক থেকে বেরিয়ে এসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি রাঙ্গামাটিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসা পর্যটকরা।

এ দিকে রাঙ্গামাটি জেলার পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে পার্বত্য এই অঞ্চলের সহজ-সরল পাহাড়ি-বাঙালি মানুষগুলোর আয় রোজগারও। পর্যটকদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে আবাসিক হোটেল-রেস্টুরেন্ট, হস্তশিল্পের কারুকাজ, চাকমা ও মারমা সম্প্রদায়ের তৈরি তাঁতের কাপড়সহ ঐতিহ্যবাহী ব্যবসাগুলোর বেচা-বিক্রিও জমে উঠেছে।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক মো. জহিরুল ইসলাম জানান, না আসলে বুঝতে পারতাম না প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি রাঙ্গামাটি। খুবই সুন্দর একটি জেলা। তবে পর্যটন স্পটগুলোর অবকাঠামো আরও একটু উন্নত করলে এখানে আরও পর্যটক আসবে।

চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক মো. হোসেন আলী জানান, প্রতি বছরই রাঙ্গামাটিতে বেড়াতে আসা হয়। পাহাড় দেখলে মনটাও পাহাড়ের মতো বিশাল হয়ে যায়।

বনানী টেক্সটাইলের মালিক এমদাদ হোসেন জানান, এ বছর রাঙ্গামাটিতে পর্যটক একটু বেশি। বেচা-বিক্রি মোটামুটি হচ্ছে। তবে একটি সমস্যা হলো পর্যটন ঝুলন্ত ব্রীজের ওই পারে যেসব হকার বেচা-বিক্রি করছে তাদের কারণে একটু বেচা-বিক্রি কম হচ্ছে বলে তিনি জানান।

টেক্সটাইল কাপড় বিক্রেতা সাথোয়াই মারমা জানান, গত ডিসেম্বর মাসে বেচা-বিক্রি একটু বেশি হয়েছে। বিশেষ করে শুক্র-শনিবার বেশি বেচা-কেনা হয়।

পর্যটন ট্যুরিষ্ট বোট-মালিক সমিতির ইজারাদার প্রতিনিধি স্বপন চাকমা জানান, গত ডিসেম্বর মাসে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় রাঙ্গামাটিতে বেশ পর্যটকের আগমন ছিলো এবং ট্যুরিষ্ট বোটগুলোরও মোটমুটি ভাড়া হয়েছে। তবে জানুয়ারির প্রথম থেকে একটু কমে গেছে।

স্থানীয় আবাসিক হোটেল ব্যবসায়ী ও ‘হোটেল প্রিন্স’এর মালিক নেছার আহমদ জানান, ডিসেম্বর মাস থেকেই তার হোটেলে আগত পর্যটকদের টানা বুকিং চলছে। দেশি বিদেশি পর্যটকের ভারে রাঙ্গামাটিতে আবাসিক হোটেল মোটেল গুলোতে এখন জমজমাট অবস্থা। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষণীয়।

স্থানীয় আবাসিক হোটেল নীডস্ হিল ভিউ এর ম্যানেজার মো. রাসেল আহমেদ জানান, গত বছরের তুলনায় এই বছর ভালো আয় হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত হোটেলের সব রুম বুকিং রয়েছে বলেও তিনি জানান।

রাঙ্গামাটি ট্যুরিষ্ট পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ মাকসুদ আহমদ জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ট্যুরিষ্ট পুলিশের একটি মোবাইল টীম দায়িত্ব পালন করছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি, সবাই সুন্দরভাবে রাঙ্গামাটি শহর ঘুরছেন।

সরকারি পর্যটন বিভাগের রাঙ্গামাটি পর্যটন ও হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়ুয়া জানান, বর্তমানে প্রচুর সংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটছে রাঙ্গামাটিতে। গত ডিসেম্বর মাসে সরকারের রাজস্ব খাতে আয় হয়েছে প্রায় ৭০ লাখ টাকা। সামনে আরও বাড়বে।

তিনি আরও জানান, রাঙ্গামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সে এখন বুকিং থাকছে প্রায় শতভাগ। সরকারি সাপ্তাহিক ছুটির দিন প্রতি শুক্র ও শনিবার পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকছে রাঙ্গামাটি পর্যটন কমপ্লেক্স। কমপ্লেক্সের বাইরেও জমছে পর্যটকদের কোলাহল। পর্যটন কমপ্লেক্সে রাজস্ব আয় এখন মোটামুটি ভালো ।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: পর্যটন, রাঙ্গামাটি, শিল্প
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × two =

আরও পড়ুন