রবিবার নিজেদের বিশ্বকাপ উদ্বোধনী ম্যাচে ইকুয়েডরকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে আইভরি কোস্ট। ম্যাচের ৯০ মিনিটে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের উইঙ্গার আমাদ দিয়ালোর করা একমাত্র গোলে ইকুয়েডরের বিশাল সমর্থক গোষ্ঠীকে স্তব্ধ করে দেয় আফ্রিকান জায়ান্টরা।
গ্রুপ ‘ই’-এর এই ম্যাচটি গোলশূন্য ড্রয়ের পথেই এগোচ্ছিল। বাছাইপর্বে ইকুয়েডরের চমৎকার রক্ষণভাগের রেকর্ড মাথায় রাখলে এমন ফল স্বাভাবিকই ছিল এবং ড্র হলে হয়তো দুই দলই খুশি থাকত।
কিন্তু ম্যাচের এক ঘণ্টার মাথায় বদলি হিসেবে নামা ২৩ বছর বয়সী দিয়ালো অন্য কিছু ভেবে রেখেছিলেন। ম্যাচ যখন ইনজুরি টাইমের দিকে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই ডান প্রান্ত থেকে আসা এক ক্রসে দারুণ এক শটে জয়সূচক গোলটি করেন তিনি।
২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে জাপানকে হারানোর পর, ঠিক ১২ বছর পর এটিই বিশ্বকাপে আইভরি কোস্টের প্রথম জয়। এই জয়ের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে যাওয়ার স্বপ্ন দেখতেই পারে দলটি।
ফিলাডেলফিয়ার ঠাসা স্টেডিয়ামে প্রায় ৬৮,২৭৪ জন দর্শকের বেশির ভাগই হলুদ জার্সি পরে ইকুয়েডরকে সমর্থন দিচ্ছিলেন। এমন দর্শকদের সামনে হার দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করাটা দলটির জন্য বড় ধাক্কা।
ম্যাচের প্রথমার্ধে ইকুয়েডরের জন ইয়েবোয়াহ ও অ্যালান মিন্দার দুটি শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। অন্যদিকে, দ্বিতীয়ার্ধে আইভরি কোস্টের ইলি ওয়াহি-র একটি শটও ক্রসবারে লেগে প্রতিহত হয়।
২০২৪ সালের আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন আইভরি কোস্টের পরের ম্যাচ আগামী শনিবারে, টরন্টোতে শক্তিশালী জার্মানির বিপক্ষে। এই জয় নিশ্চয়ই তাদের আত্মবিশ্বাস জোগাবে।
আর্জেন্টাইন কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসে-র অধীনে দক্ষিণ আমেরিকান অঞ্চলের বাছাইপর্বে আর্জেন্টিনার ঠিক পেছনে থেকে দ্বিতীয় হয়ে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছিল ইকুয়েডর।
প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের উইলিয়ান পাচো ও চেলসির মইসেস কাইসেদোদের নিয়ে গড়া রক্ষণ ও মাঝমাঠের কল্যাণে বাছাইপর্বের ১৮ ম্যাচে তারা গোল হজম করেছিল মাত্র ৫টি, যদিও নিজেরা করতে পেরেছিল ১৪টি। মজার ব্যাপার হলো, বাছাইপর্বে তাদের ১৮টি ম্যাচের মধ্যে ৮টি ম্যাচই ০-০ ড্র হয়েছিল এবং ৬টি ম্যাচ শেষ হয়েছিল মাত্র ১ গোলের ব্যবধানে।
প্রথম ম্যাচে হারলেও ইকুয়েডর ঘুরে দাঁড়াতে চাইবে আগামী শনিবারেই। কানসাস সিটিতে তাদের প্রতিপক্ষ কুরাসাও, যারা নিজেদের প্রথম ম্যাচে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে।
