সন্তু লারমা শান্তিচুক্তির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন : পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী

CHTDB-16.11.13

আলমগীর মানিক, রাঙামাটি :

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড বাতিলের দাবি শান্তিচুক্তি বিরোধী। চুক্তি অনুযায়ি পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে উন্নয়ন বোর্ড একটি অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠান বাতিলের দাবি করে পক্ষান্তরে পার্বত্য শান্তিচুক্তিরই বাতিলের দাবি জানাচ্ছেন সন্তু লারমা এমনই অভিযোগ করেছেন মন্ত্রী। আজ শনিবার পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় সমন্বিত সমাজ উন্নয়ন প্রকল্প ৩য় পর্যায় শীর্ষক পাড়াকর্মী সম্মেলন ২০১৩ উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

একদিকে শান্তি চুক্তির বাস্তবায়ন অপরদিকে চুক্তিরই অংশ উন্নয়ন বোর্ড বাতিলের দাবি জানানো স্ববিরোধী বক্তব্য উল্লেখ করে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের প্রয়োজনীয়তা আছে বলেই ১৯৭৬ সালের জারিকৃত অর্ডিনেন্সকে আইনে পরিণত করার লক্ষে মন্ত্রি পরিষদ একমত হয়েছে। তারই আলোকে কাজ করতে গিয়ে যেহেতু শান্তি চুক্তি হয়েছে সেহেতু তাদের পরামর্শ নেওয়া দরকার বিধায় আমরা আঞ্চলিক পরিষদের পরামর্শ নিলাম। কিন্তু আমরা পরামর্শ নিতে গিয়ে জানতে পারলাম যে, পার্বত্যাঞ্চল থেকে পার্বত্য চ্ট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড বিলুপ্ত করে দেওয়ার জন্য তারা পরামর্শ দিয়েছেন। যেসমস্থ নেতারা, শান্তিচুক্তি বাস্তবায়িত হয়নাই এবং চুক্তি লঙ্গিত হচ্ছে এই ধরনের কথাবার্তা বলেন, আবার তারাই যদি শান্তি চুক্তি লঙ্গণ করেন তখন আমাদের কাছে অবাক লাগে বিস্ময় লাগে।

শান্তি চুক্তির ক খন্ডের ক, খ,গ,ঘ,ঙ এর ঘ খন্ডের ১০ নাম্বার ধারাই হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড সর্ম্পকিত উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, এই ধারায়ই উল্লেখ রয়েছে যে, পার্বত্যাঞ্চলে উন্নয়ন বোর্ড থাকবে এবং কাজ করবে, এটা শান্তি চুক্তিতে স্বীকৃত। অথচ যারাই বলছেন, প্রতিনিয়ত শান্তিচুক্তি লঙ্গিত হচ্ছে, বাস্তবায়নে বিলম্বিত হচ্ছে তারাই শান্তিচুক্তির লঙ্গন করছেন এবং তারাই শান্তিচুক্তিকে মানছেন না, জানিয়ে মন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, আমরা তাদের কি ভাষায় জবাব দেবো বুঝে উঠতে পারছি না।

শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের ব্যাপারে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী জানান, পার্বত্য শান্তিচুক্তির ৭২ টি ধারার মধ্যে ইতোমধ্যে ৪৮টি ধারা সম্পূর্ন বাস্তবায়িত হয়েছে আর ১৫ টি ধারা আংশিক বাস্তবায়িত এবং বাকি ৯টি ধারা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। গ্রেট ব্রিটেন ও আয়ারল্যান্ডের শান্তি চুক্তির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এতসব বিরুধীতা সত্বেও আমরা শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে অনেক এগিয়ে গেছি। কিন্তু কোনো প্রকার বাঁধা-নিষেধ না থাকার পরও গ্রেট-ব্রিটেন আয়ারল্যান্ডের শান্তিচুক্তি সিকি পরিমানও বাস্তবায়ন হয় নাই। যারা আমাদের এখানে বলেন শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন হয়নাই, তাদের জবাবের প্রেক্ষিতে মন্ত্রী এসব কথা বলেন বলে অনুষ্ঠানে জানান।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান তরুণ কান্তি ঘোষ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, ইউনিসেপের প্রোগ্রাম অফিসার মাসিং নেওয়ার, সমন্বিত সমাজ উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক এসএম জাকির হোসেন, রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাইফ উদ্দিন ও উক্ত প্রকল্পের ব্যবস্থাপক জানে আলম।

এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় সমন্বিত সমাজ উন্নয়ন প্রকল্প ৩য় পর্যায় শীর্ষক পাড়াকর্মী সম্মেলন ২০১৩ উপলক্ষে মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের আমলে আইসিডিবি’র ব্যাপারে কিছু গুরুত্বপূর্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পাড়াকর্মীদের বেতন বাতা বৃদ্ধি, নতুন পাড়াকেন্দ্র স্থাপন, পাড়াকর্মীদের মধ্যে সিনিয়র পদ সৃষ্টি করা, কাপ্তাই লেকের পাশ্বোর্ক্ত এলাকাগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য ইঞ্জিনচালিত দেশীয় বোট সরবরাহ, ৬০০টি হ্যান্ড ওয়াশের কেন্দ্র স্থাপনসহ এক হাজার পাড়াকেন্দ্র পুনঃনির্মান করা হবে বলে জানান পার্বত্যমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার। পরে মন্ত্রী পাড়াকর্মী সম্মেলনে আগত পাড়াকর্মী ও অতিথিদের সাথে নিয়ে মধ্যন্হ ভোজে অংশগ্রহণ করেন।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eleven − 3 =

আরও পড়ুন