প্রেস বিজ্ঞপ্তি:
গত ১৫ মার্চ বিকাল ৪টায় রাঙামাটিতে সমঅধিকার আন্দোলন নেতা জাহাঙ্গীর কামালের উপর হামলার তীব্র নিন্দা এবং এ ঘটনায় জড়িত জেএসএস, ইউপিডিএফ ও পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ সন্ত্রাসীদেরকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করার জন্য জোর দাবী জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলন।
বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমকে পাঠানো এক বিবৃতিতে রাঙামাটি জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার এবং সমঅধিকার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব জনাব মনিরুজ্জামান মনির এ দাবী জানান।
বিবৃতিতে তিনি বলেন- গত ১৫ মার্চ বিকাল ৪টায় রাঙামাটি শহরের অদুরে ১০২নং রাঙাপানি মৌজায় নিজ প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কাজ তদারক করতে গেলে কতিপয় পাহাড়ী সন্ত্রাসী সমঅধিকার নেতা, বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী এবং দৈনিক রাঙামাটির প্রকাশক ও মুদ্রাকর জনাব জাহাঙ্গীর কামালকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা তার কাছে ৪০ লাখ টাকা চাঁদাদাবী করেছে নতুবা তাকে জীবনে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে। আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
এদিকে সমঅধিকার আন্দোলন বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সেলিম আহাম্মদ চৌধুরী এবং সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা আব্দুল কুদ্দুস চেয়ারম্যান গতকাল এক বিবৃতিতে পাহাড়ে ঐক্য শান্তি ও সম্প্রীতি স্থাপন এবং সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, মুক্তিপণ বন্ধ করে রাষ্ট্রবিরোধী উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের কবল থেকে পার্বত্যবাসীদের রক্ষার আকুল আবেদন জানিয়েছেন। সম্প্রতি জাগো পার্বত্যবাসী নামক সংগঠনের ডাকে ৩০ হাজার বাঙালির খুনি এবং তথাকথিত জুম্ম জাতির জনক সন্তু লারমার বিরুদ্ধে বান্দরবান জেলাবাসী গত ১২ মার্চ যে সর্বাত্মক হরতাল পালন করেছেন, সে জন্য বান্দরবান জেলাবাসীকে তারা ধন্যবাদ জানান। আগামী ২১ এপ্রিল বান্দরবান প্রেস ক্লাবে জেলা সমঅধিকার আন্দোলনের বার্ষিক সম্মেলন সফল করার জন্য নেতৃবৃন্দ সকলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর কামালের উপর হামলা, অপহরণ, গাড়ী ও মোবাইল লুট করার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। অবিলম্বে অভিযুক্ত পিসিপি নেতা মোহন দেওয়ান চাকমা সহ অন্যান্য সন্ত্রাসীদেরকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি প্রদানের জোর দাবী জানানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে রাঙামাটি সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পলাশ কুসুম চাকমাকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে এবং পার্বত্য যুব ফ্রন্ট, রাঙামাটি জেলা মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন সংগ্রাম কমিটি এবং স্থানীয় পুলিশ বাহিনীর তাৎক্ষণিক উদ্ধার তৎপরতার জন্য তাদেরকে সাধুবাদ জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার না করা হলে ৩ পার্বত্য জেলা তথা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাজধানী ঢাকায় সমঅধিকার আন্দোলনের উদ্যোগে ৯ দফা দাবীতে সমাবেশ, প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল ডাকা দেয়া হবে বলে সংবাদ মাধ্যমকে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ বিকাল ৪টায় রাঙামাটি শহরের অদুরে ১০২নং রাঙাপানি মৌজায় নিজ প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কাজ তদারক করতে গেলে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের (পিসিপির) নেতা মোহন দেওয়ানের নেতৃত্বে অপহরণ চেষ্টার শিকার হন পার্বত্য চট্টগ্রাম সম-অধিকার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সদস্য, রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ এর যুগ্ন আহবায়ক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর কামাল।অপহরণ চেষ্টার সময় সন্ত্রাসীরা তার ব্যবহৃত চাবীসহ গাড়ী, মোবাইল ছিনিয়ে নেয় এবং তার সাথে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সাইডের লোকজন এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে উক্ত পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা সরে যায়। পরবর্তীতে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জনাব পলাশ কুসুম চাকমার সহায়তায় গাড়ীসহ চাবী ও মোবাইল উদ্ধার করে অপহরণ থেকে রক্ষা পেয়ে ফিরে আসতে সক্ষম হন তিনি।