সরকারি অফিস দখল করে ব্যবসা : সাত বছর পর দখলমুক্ত আনসার ভিডিপি কার্যালয়

fec-image

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় আনসার ভিডিপি কার্যালয় দখল করে প্রায় দীর্ঘ ৭ বছর ধরে ফটোষ্ট্যাট এন্ড কম্পিউটার প্রিন্ট ও ছবি তোলার ব্যবসা করছিলেন সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার মোঃ জাফর ইকবালের পুত্র মারিশ্যা পোষ্ট অফিসের নগদ উদ্যোক্তা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। অবশেষে দীর্ঘ ৭ বছর পর
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান হাবিব জিতুর নির্দেশে দখলমুক্ত হলো এই আনসার ভিডিপি কার্যালয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ,৭ বছর ধরে বেআইনিভাবে সরকারি অফিস দখল করে ফটোষ্ট্যাট এন্ড কম্পিউটার প্রিন্ট ও ছবি ব্যবসা করছিলেন মারিশ্যা পোষ্ট অফিসের নগদ উদ্যোক্তা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। এছাড়াও এক বৃদ্ধার জমি ও পোষ্ট অফিসের নগদে রক্ষিত ৮০ হাজার টাকা প্রতারণা করে আত্মসাৎ করে বলেও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। প্রতারণার শিকার বৃদ্ধার অভিযোগের ভিত্তিতে নোটিশের মাধ্যমে প্রতারক জাহাঙ্গীরকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য বলা হয়। কিন্তু সে ডাকা সাড়া দেয়নি বলে জানা গেছে।

তারা আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন প্রভাব খাটিয়ে কার্যালয়টি দখলে নিয়ে নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ভুয়া জন্মসনদ ও জাল দলিল করে সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক জাহাঙ্গীর।

সাজেক ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও তলাল চাকমা বলেন, তারা বাপ-ছেলে তাকে পথের ফকির বানিয়েছে। শত শত ভুয়া জন্মনিবন্ধন বানিয়ে তাকে বিপদে ফেলেছে। সাজেকের অনেক ভূমি তারা জাল দলিল দিয়ে দখলে নিয়েছে। তাদের বিষয়ে তিনি
রাঙ্গামাটি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে একটি অভিযোগ দিয়েছেন এখনো কোন সুরাহা পাননি বলে তিনি জানান।

সাজেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নেলসন চাকমা নয়ন বলেন, তারা আমার নামেও বিভিন্ন জায়গায় নামে বেনামে দরখাস্ত দিয়ে হয়রানি করছে। তিনি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেছেন। খুব শীঘ্রই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তাকে আশ্বাস দেন ইউএনও।

বাঘাইছড়ি পোষ্টমাষ্টার মোঃ মামুন বলেন, নগদ উদ্যোক্তা জাহাঙ্গীরের বিষয়ে বহু অভিযোগ তার নজরে পড়েছে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে শীঘ্রই তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এসব বিষয়ে মুঠোফোনে জাহাঙ্গীরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান হাবিব জিতু জানান, সরকারি অফিস দখল করে কোন ব্যবসা-বাণিজ্য চলতে পারে না। তাই গত বছরের নভেম্বর মাসে কার্যালয়টি খালি করার জন্য নোটিশ দেয়া হয়। এতেও কাজ না হওয়ায় গত মঙ্গলবার উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অভিযান চালিয়ে কার্যালয়টি
খালি করা হয়।

তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর বর্তমানে পলাতক রয়েছে। তাকে আইনের আওতায় এনে দ্রুত তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × 5 =

আরও পড়ুন