সরকারি ঘর পাচ্ছেন রাঙামাটির খই খই মারমা

fec-image

দেশের টেবিল টেনিসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় রাঙামাটির খই খই মারমাকে ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসন।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী খই খই মারমার জন্য বাড়ি নির্মাণের জায়গা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে খই খই মারমার গ্রামের বাড়ি রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার দুই নং গাইন্দ্যা ইউনিয়নের চুশাক পাড়ায় ঘর নির্মাণের আশ্বাস দেন তিনি।

রাঙামাটির রাজস্থলীর মহাসড়কের মূল সড়ক থেকে বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত, ছোট বাঁশের সাঁকো, পাহাড়ি পথ আর ঝিরি ও দুর্গমতা মাড়িয়ে খই খই মারমার বাড়ি। চনের চালা ও বাঁশের বেড়ার একটি ঘরে থাকেন তিনি। তাই জেলা প্রশাসকের এমন উদ্যোগে এখন আনন্দের জোয়ার বইছে পুরো গ্রাম জুড়ে।

পার্বত্যনিউজের প্রতিনিধি সরেজমিনে পান, খই খই মারমার গ্রামের বাড়িতে আনন্দঘন পরিবেশ। এলাকাবাসী খই খই এর মা ও বাবা কে অভিনন্দন জানাতে বাসায় হাজির হচ্ছেন। ঘরে শোভা পাচ্ছে তার বিভিন্ন সময়ে অর্জন করা মেডেল, ক্রেস্ট ও ট্রফি।
এলাকাবাসী জানান, খই খই এই অর্জনের পথটি এত মসৃণ ছিল না। টেবিল টেনিসের প্রতি একাগ্রতা আর ভালোবাসার কারণে এত প্রতিবন্ধকতাকে পাশ কাটিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বিশ্বমঞ্চে।

স্থানীয়রা বলেন, "আমাদের গ্রামের মেয়ে দেশের হয়ে টেবিল টেনিস খেলে যে সম্মান বয়ে এনেছেন, সেটা আমাদের জন্য গর্বের। কতটা ভালো লেগেছে তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। আমরা চাই সে দেশের হয়ে খেলে আরও সুনাম বয়ে আনুক।"

খই খই মারমার মা মোহ্লাচিং মারমা বলেন, "আমি খুব খুশি হয়েছি, মেয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে, আশীর্বাদ করতে বলেছে। আমি চাই ও আরও ভালো খেলে দেশের সুনাম বয়ে আনুক।"

তার বাবা বলেন, "সেই দিনের ছোট্ট মেয়ে আজ দেশের হয়ে খেলে দেশকে বিজয়ী করেছে, পাশাপাশি সে শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। এটা আমার জন্য গর্বের। আশীর্বাদ করি ও আরও এগিয়ে যাক।"

খই খই মারমার সফলতা দেখে ছুটে আসছেন, রাঙামাটি জেলার জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী। তিনি শনিবার সকালে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে খই খই মারমার সাথে বিস্তারিত আলাপ করেন, এবং তাকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।

উল্লেখ্য, খই খই মারমা আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে দেশের জন্য অসাধারণ সাফল্য এনে দিয়েছেন। তিনি ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে টেবিল টেনিসের মিশ্র দ্বৈত ইভেন্টে রৌপ্য পদক জিতে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা সাফল্য এনে দেন। এই ১৮ বছর বয়সী মারমা বালিকা বিকেএসপির শিক্ষার্থী এবং ঘরোয়া প্রতিযোগিতাতেও ডাবলসহ সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি পেয়েছেন। দুর্গম পাহাড় থেকে প্রতিকূলতা পেরিয়ে খই খই মারমা এখন দেশের নারীদের আদর্শ।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: খই খই মারমা, রাঙামাটি, রাজস্থলী
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন