সরকারি কর্মকর্তাদেরকে সব ধরনের কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে উন্নয়ন কাজ সম্পন্নকরণে সহযোগী হতে বললেন বান্দরবান আসনের সাংসদ সাচিং প্রু জেরী।
বুধবার (১ জুলাই) জেলা পরিষদ মিলনায়তনে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার প্রতিটি দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাসান।
সাচিং প্রু জেরী বলেন, সরকার দেশকে এগিয়ে নিতে চায়। আর উন্নয়ন কাজে প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মচারীকে সহযোগী হিসেবে দেখতে চান। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাহাড়ের মানুষের প্রতি যে দরদ ও ভালোবাসা দেখাচ্ছেন, তা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করিয়ে দেয়। প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়ন মানে পাহাড়ের উন্নয়ন, যাতে পাহাড়ি-বাঙালি সবার কল্যাণ নিহিত আছে।
তিনি আরও বলেন, পাহাড়ের এ উন্নয়ন সম্পন্ন করতে একবিন্দু পরিমাণ দুর্নীতিও প্রধানমন্ত্রী চান না। তাই দলমত নির্বিশেষে সকলকে মাদক, অনলাইন জুয়া ও দুর্নীতি থেকে মুক্ত রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাতে হবে।
সফরের এক ফাঁকে নাইক্ষ্যংছড়ির ৫ ইউনিয়নের দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে অপর এক বৈঠকে তিনি বলেন, যারা দেশ ও দলকে ভালোবাসে, তারা দলকে বিভাজন করে বিতর্ক সৃষ্টি করবে না। যারা বিএনপি করে, তারা পরস্পর ভাই-ভাই। কোনো বিতর্ক নয়। সরকারি কাজে কোনো দুর্নীতি চান না তিনি। এককথায়, ভেদাভেদ ভুলে দেশকে এগিয়ে নিতে সকলের বিতর্কহীন ভূমিকা চান তিনি।
এর আগে তিনি বিগত ১৭ বছরে যারা আওয়ামী কষাঘাতে মিথ্যা মামলা ও হয়রানির শিকার হন, তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। আর তাদের মধ্য থেকে ৭৫ জনকে প্রাথমিক পর্যায়ে আর্থিক সহায়তা দেন তিনি।

জোহরের নামাজের পর তিনি উপজেলা চত্বর ও খননকরা নাইক্ষ্যংছড়ি খালে পৃথক ২টি গাছের চারা রোপণ করে প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষচারা রোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন এমপি জেরী।
এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নকালে তার সঙ্গে ছিলেন বান্দরবান জেলা বিএনপির সদস্য নুরুল আলম কোম্পানী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ, সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা) হামিদা চৌধুরী, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা) শামিমা আক্তার, বিএনপি নেতা যথাক্রমে নুরুল কাশেম, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক সাইফুদ্দিন বাহাদুর, রশিদ আহমদ চেয়ারম্যান, ডা. চাহ্লা থোয়াই, হায়দার আলী কোম্পানী, ওছাই মং ছোট, জসিম উদ্দিন, আলম ফরাজীসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তা, সুশীল সমাজ, শিক্ষক ও সাংবাদিকসহ অন্যান্যরাও এসব কর্মসূচিতে অংশ নেন।
তিনি সকাল ১১টায় নাইক্ষ্যংছড়ি পৌঁছে তার কর্মসূচি শেষ করে দুপুরের পরপরই লামা উপজেলার মতবিনিময় সভায় যোগ দিতে নাইক্ষ্যংছড়ি ত্যাগ করেন।
