সরকারী হাসপাতাল: নরমাল ডেলিভারীতে আস্থা বাড়ছে বান্দরবানের নারীদের

fec-image

শহর অঞ্চলে আধুনিক চিকিৎসায় সিজিরিয়ান অপারেশন বাড়লেও পার্বত্য জেলা বান্দরবানের বিভিন্ন হাসপাতালে বেড়েছে নরমাল ডেলিভারী। বিশেষ করে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের মায়েরা সরকারী হাসপাতালমুখী হচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে প্রত্যন্ত এলাকায় একাধিক সফল ডেলিভারীর কারণে মানুষের মাঝে এই আস্থা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত জুলাই মাসে লামা হাসপাতালে ২৪জন, রুমা হাসপাতালে ১৫ ও আলীকদম হাসপাতালে ১২জন শিশু নরমাল ডেলিভারিতে জন্মগ্রহণ করেছে। এছাড়া রোয়াংছড়িতে ৮জন, নাইক্ষ্যংছড়িতে ৫ এবং থানচি উপজেলায় ১জন। তবে বৈশ্বিক মহামারী করোনাকালীন সময়ে গর্ভবতী মায়েরা কিছুটা হাসপাতাল বিমুখ হয়েছে। পরিস্থিতি পার করে যারাই হাসপাতালে আসছেন তাদের নিরাপদ প্রসুতি সেবায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যাচ্ছেন জেলার বিভিন্ন হাসপাতালের মিডওয়াইফরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বান্দরবানের সাত উপজেলায় অন্তত শতাধিক দুর্গম ও অনুন্নত এলাকায় এখনো অধিকাংশ গর্ভবতী নারীরা নিজ বাড়িতে সন্তান প্রসব করে থাকেন। একটু সচেতন নাগরিক এবং কোন গর্ভবতী নারীর স্বাস্থ্যসেবার অবনতি হলেই হাসপাতাল আসেন। অন্যথায় বাড়িতে অদক্ষ ধাত্রী দ্বারা প্রসবের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঝুকি নেন নারীরা। এই অবস্থায় ঝুকি নেওয়া এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে স্বাস্থ্যবিভাগের বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে।

এদিকে হাসপাতালের প্রশিক্ষিত মিডওয়াইফ বা ধাত্রীরা প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছেন বিভিন্ন উপজেলায়। তাদের নরমাল ডেলিভারীগুলো এলাকায় প্রশংসা কুড়াচ্ছে। ফলে গ্রামে কাউন্সেলিং বা গর্ভবতী মায়েদের পরামর্শের মাধ্যমে আগামীতে হাসপাতালগুলোতে আরও সফলতা আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি জেলার রুমা উপজেলায় বন্যাকালীন সময়ে নৌকায় সন্তান প্রসবের একটি ঘটনা জেলাজুড়ে আলোচনা শুরু হয়। সেবাদাতা রুমা হাসপাতালের মিডওয়াইফ ঝিল্কি শর্মা প্রশংসায় ভাসছেন সর্বত্র। এই ব্যাপারে ঝিল্কি শর্মা বলেন- লাইফে অনেক ডেলিভারী করেছি কিন্তু চাকরী জীবনের অল্পসময়ে নৌকা এবং চাঁদের গাড়িতে নরমাল ডেলিভারী দুটির বিষয়ে আমি খুবই এক্সাইটেড। এই ঘটনাগুলো আমার জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

অন্যদিকে চাকরীতে যোগদানের দুই মাসের মধ্যে পর পর পাঁচটি নরমাল ডেলিভারী করে আলোচনায় রয়েছেন জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি হাসপাতালের মিডওয়াইফ আসমাউল হুসনা। গত জুলাই মাসে তিনি নিজেই ৬টি নরমাল ডেলিভারী করেছেন। কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতার বিষয়ে তিনি বলেন- করোনাকালীন সময়ে গর্ভবর্তী নারীদের মধ্যে অনেকে হাসপাতালে আসতে চান না। মনে ভয় কাজ করে অনেকের। এরপরও পূর্বের তুলনায় এখন অনেক সচেতনতা বেড়েছে মানুষের। ঝুকিপূর্ণ হোম ডেলিভারী না করে হাসপাতালমুখী করতে আমরা কাউন্সেলিং করছি মায়েদের।

আলীকদম পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের এফডাব্লিউবি চিংক্য চিং চাক বলেন, পূর্বের তুলনায় গ্রামের নারীরা এখন সরকারী সেবা গ্রহণে অনেক আগ্রহী হয়ে উঠছে। গ্রামের অনেক নারীর অস্ত্রোপাচার ছাড়াই নরমাল ডেলিভারীগুলো নারীদের কাছে আস্থা বেড়েছে।

সফল ডেলিভারী পরবর্তী কয়েকজন মায়ের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, গ্রামের মানুষের মাঝে পূর্বের কিছু ভ্রান্ত ধারনার কারনে অনেক গর্ভবতী নারী হাসপাতালে আসতে চাননা। পরিবারের অভিভাবকরা মনে করেন হাসপাতালে পুরুষ ডাক্তাররা ডেলিভারী করান। এছাড়া হাসপাতালে আর্থিক খরচের বিষয়ও অনেকের মনে ভয় কাজ করে। কিন্তু হাসপাতালে মিডওয়াইফ দ্বারা সুন্দর সেবার বিষয়টি তারা জেনেছেন ডেলিভারীর পর। যার কারণে আগামীতে মিডওয়াইফদের বিষয়ে প্রচারণা, প্রত্যেক হাসপাতালে পর্যাপ্ত মিডওয়াইফ নিয়োগসহ সুন্দর ডেলিভারীর স্থান তৈরি করার দাবি জানান সচেতন নারীরা।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × two =

আরও পড়ুন