রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা: জাহেদ উর রহমান বলেছেন, শিবির প্যানেল থেকে নির্বাচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা যখন একের পর এক আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছেন, তখন শিবির তাকে থামানোর চেষ্টা না করে বরং ডিফেন্ড করেছে। তিনি বলেন, শিবিরের এমন কর্মকাণ্ডে বুঝা যাচ্ছে তাদের মাদার অর্গানাইজেশন (জামায়াত ইসলামী) যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে পুরো দেশে একই চিত্র ফুটে উঠবে।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের এক ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন তিনি।
ডা: জাহেদ উর রহমান ভিডিও বার্তায় বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় আসলে কি করতে পারে তার একটা ছোটখাটো প্রদর্শনী চলে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ডাকসুতে শিবির প্যানেল থেকে নির্বাচিত কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমার পাজলামো নিয়ে আগেও বলেছি। ঢাবি চত্বরে ভ্রাম্যমাণ দোকানদারদের গায়ের জোরে তুলে দেওয়া, পেটানো, লাঠি দিয়ে খোঁচানো, নানান কিছু তিনি করে বেড়িয়েছেন, যেটা করার এক্তিয়ার তার ছিল না। তার পাজলামো চলছেই। এই দল, এই সংগঠনগুলো এই রকমই।
সম্প্রতি সর্বমিত্রের এক কর্মকাণ্ডের উদাহরণ টেনে ডা: জাহেদ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে কিছু শিশু-কিশোর খেলতে আসছিলো, এটা নিয়মে নাও থাকতে পারে। সেটা যদি হয়েও থাকে, তাদেরকে ধরে লাঠি হাতে কান ধরে ওট বস করাচ্ছেন সর্বমিত্র চাকমা। শিবিরের একজন প্রতিনিধি করাচ্ছেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি যখন নিয়ম ভাঙছিলেন, আইন নিজের হাতে তুলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হয়ে পড়ছিলেন, তখনতো শিবির এই কর্মকাণ্ড থামানোর চেষ্টা না করে বরং সর্বমিত্র চাকমাকে ডিফেন্ড করার চেষ্টা করেছেন। এতেই বুঝা যায়, এটাই আসলে শিবিরের ধর্ম।
রাজনৈতিক এই বিশ্লেষক বলেন, এরা এটাই চান আসলে। এরা এটাই মনে করেন, আমি প্রায় বলি যে দলটা জানেন না কোন জিনিসটা ডিফেন্ড করতে হবে, কোন জিনিস থেকে সরে আসতে হবে, সে দল নাকি দেশ চালাবে। শিবিরের কথা বলছি না, তাদের মাদার অর্গানাইজেশন (জামায়াত ইসলামী)।
তিনি আরও বলেন, এসব পাজলামো তারা করতে থাকুক, দেশের জনগণ বুঝুক, এদের মাদার অর্গানাইজেশন জামায়াতকে যদি তারা ভোট দেন তাহলে কি দাঁড়াবে।
আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ডা: জাহেদ বলেন, আমি কোনোভাবেই মনে করি না তারা কারচুপি করেও ক্ষমতায় যেতে পারবে, তবে তারা যে কয়টা আসনে জিতবে, সে কয়টা আসনে একই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। আইনশৃঙ্খলার নামে, নিয়মরক্ষার নামে এসব পাজলামো, ইতরামো করতেই থাকবেন তারা। এটা একটা চাঞ্চল্যকর প্রমাণ হয়ে থাকবে। আগামী নির্বাচনে ভোটারদের এই বিষয়গুলো মাথায় রাখা জরুরি হবে।
উল্লেখ্য, রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা গিয়েছে, কয়েকজন শিশু-কিশোরকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে কান ধরে ওঠ বস করাচ্ছেন সর্বমিত্র চাকমা। এই সময় সর্বমিত্রের হাতে একটি লাঠিও দেখা গিয়েছে।
