সাউথ এশিয়ান পেশাদার বক্সিংয়ে লাইট ওয়েট শিরোপা জিতেছেন রাঙামাটির সুর কৃষ্ণ চাকমা

fec-image

দেশের প্রথম পেশাদার বক্সিং ‘সাউথ এশিয়ান প্রফেশনাল বক্সিং ফাইট নাইট—দ্য আল্টিমেট গ্লোরি’ ৬১ কেজি লাইটওয়েট ইভেন্টে জিতেছেন রাঙামাটির জুরাছড়ির সুরকৃষ্ণ চাকমা।

টুর্নামেন্টে মিরপুর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোরে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় রাউন্ডের শুরুতেই অ্যাটাক করতে গিয়ে রিংয়ে পড়ে যান নেপালি বক্সার মহেন্দ্র বাহাদুর চাঁদ, ফলে নকডাউনের পয়েন্ট পান সুরকৃষ্ণ চাকমা। চার রাউন্ড শেষে তিন বিচারকের কাছ থেকে ৪০-৩৬,৪০-৩৬, ৩৭-৩৯ পয়েন্ট পেয়ে লড়াই জিতে নেন জুরাছড়ির এই বক্সার।

তার এই জয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যান সুরেশ কুমার চাকমা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিতেন্দ্র কুমার নাথ।

সুর কৃৃৃৃৃৃষ্ণ চাকমা

 

দেশের প্রথম পেশাদার বক্সার সুরকৃষ্ণ চাকমা। ব্রিটিশ-বাংলাদেশি বক্সার আলী জ্যাকোর হাত ধরে পেশাদার জগতে যাত্রা শুরু হয়েছিল তাঁর ২০১৮ সালে। ভারতে গিয়ে দুটি লড়াই জিতেছিলেন। সেই শুরু, আর সেখানেই ইতি হতে চলেছিল তাঁর পেশাদার ক্যারিয়ারের। আলী জ্যাকোর সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়েছিলেন, হারিয়েছিলেন পেশাদার জগতের পথটাও।

অবশেষে বাংলাদেশ বক্সিং ফাউন্ডেশনের (বিবিএফ) উদ্যোগে সেই সুর রিংয়ে নেমেছেন দেশের মধ্যেই।

বাংলাদেশ, নেপাল ছাড়াও ভারতের এক বক্সার অংশ নেন এ আসরে। এই ইভেন্টে মোট তিনটি আন্তর্জাতিক লড়াই হয়। এ ছাড়া আরও চারটি লড়াইয়ে স্থানীয় আটজন বক্সার লড়েন।

এই বক্সিং থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনায় প্রথম সাফল্য পেয়েছিল বাংলাদেশ ১৯৮৬ সালে, সিউলে দশম এশিয়ান গেমসে। সেই আসরে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন বাংলাদেশের মোশাররফ হোসেন। এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে বাংলাদেশের সেটাই ছিল প্রথম পদক।

তবে মিরপুরস্থ শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টের মধ্যদিয়েই বাংলাদেশ অনুষ্ঠিকভাবে প্রবেশ করল পেশাদার বক্সিং যুগে। ওয়ার্ল্ড বক্সিং কাউন্সিলের অনুমোদনে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় সহযোগিতা করেছে এক্সেল স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড প্রোমোশনস।

এ আসরে বাংলাদেশ, নেপাল ও ভারতের ১৪ জন বক্সার ওয়েট ক্লাসে মোট সাতটি ফাইটে অংশ নেন। তারকা বক্সার মোহাম্মদ আল আমিন ও সুরো কৃষ্ণ চাকমাসহ বাংলাদেশের মোট ১১ জন বক্সার খেলেছেন এ টুর্নামেন্টে।

প্রতিযোগিতার প্রধান আকর্ষণ ছিল বাংলাদেশ ও নেপালের দুই পেশাদার বক্সার মোহাম্মদ আল আমিন এবং ভারত চাঁদের ফাইট। ৬৬ কেজি ওয়েল্টারওয়েট ক্যাটাগরির এ দুই বক্সার চার রাউন্ড লড়াই করেন। যেখানে জয় পান গত বাংলাদেশ গেমসে সোনা জেতা বক্সার আল আমিন।

দেশের বক্সারদের আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম দিতে এবং বক্সিং খেলাকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার সুযোগ করে দিতেই বিবিএফের এই আয়োজন বলে জানান সংগঠনের সভাপতি আদনান হারুন।

বৃহস্পতিবার প্রতিযোগিতার সফল সমাপ্তির পর শনিবার তিনি বলেন, ‘দেশে এমন ত্রিদেশীয় পেশাদার বক্সিং টুর্নামেন্টের আয়োজন এর আগে কেউ করেননি। আমাদের বক্সিংয়ের ইতিহাসে এটি একটি বিরল ঘটনা। আমি বিশ্বাস করি আমাদের আয়োজন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আমাদের এমন আয়োজনের ধারা অব্যাহত থাকবে।’

আদনান হারুন যোগ করেন, ‘আমরা একটি পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে চলছি। পেশাদার বক্সিংকে ঘিরে দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা আছে আমাদের। আমি চাই বাংলাদেশের অ্যামেচার বক্সাররা এগিয়ে আসুক পেশাদার প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে। যদি তারা পেশাদার প্রতিযোগিতায় অংশ নেন তাহলে আর্থিক সচ্ছলতার পাশাপাশি তাদের সামাজিক মর্যাদাও বাড়বে।

পেশাদার বক্সার হিসেবে লাইসেন্স পাওয়ার পর গ্লোবাল র‌্যাঙ্কিংয়ে তাদের জায়গা হবে। আমাদের দেশে বেশ ভালোমানের অ্যামেচার বক্সার রয়েছেন। তারা যদি নিজেদের পেশাদারিত্বে নিয়ে আসেন তাহলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বেশি ভালো করতে পারবেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বক্সারদের সঙ্গে ফাইট করে দেশের মান বাড়াতে পারবেন বলে মনে করি।’

বিবিএফের সভাপতি আরও বলেন, ‘আমি নিজেই একজন বক্সার। বক্সিংকে ভালবাসি বলেই সংগঠকের ভূমিকায় থেকে এই খেলার উন্নয়নে কাজ করতে নেমেছি। সবার সহযোগিতা পেলে দেশে পেশাদার বক্সিং খেলাকে অনেক বেশি জনপ্রিয় করে তুলতে পারবো বলে বিশ্বাস করি।’

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two + 1 =

আরও পড়ুন