সাঙ্গু নদীর তীরে চলছে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলার প্রতিযোগিতা: ধ্বংস হচ্ছে নদী

fec-image

বান্দরবানের মানুষের পানির উৎস মেটাতে একমাত্র ব্যবস্থায় হলো সাঙ্গু নদী । কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন কারণে ধ্বংস হচ্ছে নদী, ফলে হারাচ্ছে নাব্যতা, নদীর পাড়ে প্রতিনিয়ত চলছে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলার প্রতিযোগিতা।

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবান । যেখানে একবার কারো বিচরন হলে সে দ্বিতীয়বার আসার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে প্রকৃতির সৌন্দর্যের টানে। আর এই সৌন্দর্যকে বৃদ্ধি করেছে পাহাড়ের বুক জুড়ে বয়ে যাওয়া সাঙ্গু নদী। এছাড়াও বান্দরবানের মানুষের পানির উৎস মেটাতে একমাত্র ব্যবস্থায় হলো সাঙ্গু নদী । কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন কারণে ধ্বংস হচ্ছে নদী, ফলে হারাচ্ছে নাব্যতা, নদীর পাড়ে প্রতিনিয়ত চলছে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলার প্রতিযোগিতা।

পাহাড়ের বুক থেকে এই নদী গিয়ে মিশেছে বঙ্গোপসাগরে। ঝড় বৃষ্টি ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরিবেশ এর সকল কিছু উপেক্ষা করে বান্দরবানকে আঁকড়ে ধরে আছে এই সাঙ্গু নদী। সেজন্য পার্বত্য চট্টগ্রামের জনপ্রিয় একটি নদী হিসেবে পরিচিত হয়েছে সকল বান্দরবানবাসীর কাছে ।

বাংলাদেশের সকল এলাকা থেকে ছুটে আসা সকল লোকজন প্রকৃতিকে উপলব্ধি করতে ছুটে বেড়ায় দূর থেকে দূরান্তে সাঙ্গু নদীর বুক জুড়ে বিভিন্ন জায়গাতে। যাওয়ার পথেই চোখে পড়ে ছোট-বড় বিভিন্ন প্রাকৃতিক দৃশ্য।

কিন্তু সবকিছুর পরেও কিছু স্বার্থপর মানুষ নিজের চিন্তা করে দিনের পর দিন বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন কিছুর অজুহাতে এই নদীর বুক জুড়ে স্থাপন করে যাচ্ছে অবৈধ স্থাপনা । প্রতিনিয়তই গড়ে তুলছে ঘরবাড়ি। যার ফলে নষ্ট হচ্ছে নদীর নাব্যতা, দূষণ হচ্ছে পরিবেশ, ভরে যাচ্ছে নদীর পাড়।

যে সাঙ্গু নদীতে একসময় মাছে ভরপুর ছিল বর্তমানে তা তেমন বেশি দেখতে পাওয়া যায় না। শুকনো মৌসুমে চলে প্রতিযোগিতা অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণের। নদীর ধারে মলমূত্র স্থাপন ময়লা-আবর্জনা সবকিছুর ফলে দূষিত হচ্ছে নদীর পানি। হারাচ্ছে নদীর আসল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।

নদীর পাশে সরোজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে প্রতিদিনের নিত্য ব্যবহারিক ময়লা-আবর্জনা নদীর পাড়ে ফেলে ভরাট করছে নদীর পাড়। প্রভাবশালী মহল ও বিভিন্ন আইনের মারপ্যাঁচে দেখিয়ে এই অবৈধ স্থাপনা গড়ে যাচ্ছে নদীর পাড়ে বসবাসরত কিছু স্থানীয় বাসিন্দা। অনেক সময় গরিব অসহায়ত্বের দোহাই দিয়ে তারা একের পর এক ঘরবাড়ি অবৈধ স্থাপনা তৈরি করে যাচ্ছে নদীর পাড়ে।

নদীরক্ষা বিষয়ে বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দল বান্দরবান জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি বাবু মনির সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমরা দীর্ঘদিন ধরে বান্দরবানের নদী রক্ষার জন্য অনেক চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিছু অসাধু মানুষ অবৈধভাবে নদীর পার দখল করেন ঘরবাড়ি তৈরি করাই দিন দিন নদীর নাব্যতা কমে যাচ্ছে। ফলে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টির পানি হলে জলাবদ্ধতার সম্মুখীন হতে হয় সম্পূর্ণ বান্দরবানবাসীকে। এছাড়া বান্দরবানের সকল দূষিত বজ্র পদার্থ ময়লা-আবর্জনা নদীতে ফেলার কারণে নদীর পানি দূষিত হচ্ছে এবং সেই দূষিত পানি সংশোধন করে আবার সকল বান্দরবানে সরবরাহ করা হচ্ছে। তাই নদী পরিব্রাজক দল নদী রক্ষার স্বার্থে গত ২০১৯ এপ্রিল বান্দরবান হিলভিউ কনভেনশন হল প্রাঙ্গণে দু’দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। এছাড়াও নদী রক্ষায় বাংলাদেশ সরকার ২০২০ সালে একটি সংবিধান তৈরি করেন । তার সূত্র অনুযায়ী সকল প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানা যায়, বান্দরবান জেলায় বিভিন্ন কারণবশত ৪০০টি নদী, ঝিরি, ঝরনা ধ্বংস হয়ে গেছে।

নদীর পাড়ে অবৈধ স্থাপনের বিষয়ে বাজার চৌধুরী (মংক্যাচিং ) সাথে কথা বললে তিনি জানান , আমরা চাই নদীর পাড় অবমুক্ত হোক। নদী তার প্রাণ ফিরে পাক এবং আগের মত নদীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাক। যারা অবৈধভাবে ঘরবাড়ি করে নদীরপাড় দখল করেছে প্রশাসনিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় ।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ নদী রক্ষা কমিটি বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক দাউদুল ইসলাম এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান , নদী রক্ষার জন্য খুব দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, বিষয়টি আমাদের মাথায় আছে। আমরাও চাই নদীরক্ষা হোক তার জন্য আমরা নদী রক্ষা কমিটি এবং অন্যান্য যারা আছি সবাই মিলে বসে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × 4 =

আরও পড়ুন