বাংলাদেশে প্রায় ২৫ হাজার বিদেশি নাগরিক অবস্থান করছেন। এদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যা সাড়ে ৮ হাজার। তবে প্রকৃত সংখ্যা সরকারি এই হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি। নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে অবৈধ ভারতীয়দের হস্তান্তর করতে চায় বাংলাদেশ। খবর যুগান্তরের
১০ জুন প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, অবৈধ ভারতীয় নাগরিকরা অবৈধভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করছে। বাংলাদেশি উল্লেখ করে ভারত থেকে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে পুশইনের চেষ্টা চালালেও সেই পথে হাঁটছে না বাংলাদেশ সরকার। কূটনৈতিক চ্যানেলে অবৈধ ভারতীয়দের তাদের দেশে পাঠানোর চেষ্টা করছে বাংলাদেশ সরকার।
অবৈধ ভারতীয়দের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ভারতকে একাধিক চিঠি দিয়েছে সরকার। তবে এসব চিঠি আমলে না নিয়ে উলটো তারা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে লোক পুশইনের জন্য বিএসএফকে গোপন নির্দেশনা দিয়েছে। যা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতের অবৈধ নাগরিকদের ফেরত নেওয়ার কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ওয়ার্ক পারমিট বা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বিদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশে থেকে যাওয়া এবং অবৈধভাবে কর্মসংস্থানে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি এখন দেশের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্যুরিস্ট বা বিজনেস ভিসায় এসে আর ফিরে না গিয়ে এখানেই থেকে যাওয়ার প্রবণতা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। ভারতীয় নাগরিকরা মূলত দুটি উপায়ে বাংলাদেশে অবৈধভাবে অবস্থান করছেন। প্রথমত, অধিকাংশ ভারতীয় নাগরিক বৈধ ট্যুরিস্ট, বিজনেস বা অন-অ্যারাইভাল ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও তারা দেশে ফিরে যান না।
দ্বিতীয়ত, তৈরি পোশাক খাত, টেক্সটাইল, বায়িং হাউজ, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, তথ্যপ্রযুক্তি খাত এবং বিভিন্ন এনজিওতে মধ্যম থেকে উচ্চপর্যায়ের ব্যবস্থাপনায় বহু ভারতীয় কাজ করছেন। এদের অনেকেরই বৈধ ওয়ার্ক পারমিট বা আয়কর নথি নেই।
