বান্দরবানের লামার সরই ইউনিয়নের আলমগীর সিকদার হত্যা মামলায় আসামি মোহাম্মদ সেলিমকে (৫০) কারাগারে পাঠিয়েছে জেলা দায়রা জজ আদালত।
আজ রবিবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে বান্দরবান জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক জামিউল হায়দার এ আদেশ প্রদান করেন।
দন্ডপ্রাপ্ত আসামী- লোহাগাড়া উপজেলা ৬নং ওয়ার্ডের রশিদার পাড়ার গ্রামে ছৈয়দুর রহমান ছেলে মোহাম্মদ সেলিম।
মামলা সূত্রে জানা যায়, জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২০১৯ সালের ২৩ জুলাই সাড়ে ১০টায় লামা সরই পুলাং পাড়ায় নিজের মুরগি খামার থেকে বাড়িতে ফিরছিলেন। ফেরার পথে রাবার বাগান পৌঁছালে সেলিম উদ্দিনসহ তার সহযোগীরা আলমগীর সিকদারকে কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এই ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুই হত্যাকারী সায়মন ত্রিপুরা ও বীর বাহাদুর ত্রিপুরাকে গ্রেফতার করে।
মামলা সূত্রে আরো জানা যায়, সেলিম উদ্দিন, জয়নাল আবেদীন ভুট্টু ও তার ভাই জমির উদ্দীন নিহত আলমগীর সিকদার হত্যাকান্ডের প্রধান পরিকল্পনাকারী ও হত্যাকারী। এ ঘটনার হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত মর্মে হত্যাকারী সায়মন ত্রিপুরা, বীর বাহাদুর ত্রিপুরা আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দিতে হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
মামলা আইনজীবী বলছেন, পুলিশ তদন্তে হত্যার আগের দিন বিভিন্ন স্থানে অন্যান্য হত্যাকারীসহ সেলিম উদ্দিনের স্বশরীর উপস্থিতির সিসিটিভি ফুটেজ, লোহাগাড়া মামনি হাসপাতালে যাওয়ার সিসিটিভি ফুটেজ, লোহাগাড়ায় আবাসিক হোটেলে অবস্থান করার ফুটেজ প্রমাণ পায়। এমনকি আলমগীর সিকদারকে হত্যার সময় যেসব অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে (রাম দা) ওই অস্ত্র যে কামার থেকে ক্রয় করা হয়েছিল তিনিও স্বীকার করেছেন।
এরই প্রেক্ষিতে হত্যা মামলাটির অন্যতম অভিযুক্ত আসামি মোহাম্মদ সেলিম উদ্দীন আজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেন।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আলমগীর চৌধুরী জানান, দায়রা ৪৯২২ মামলাটি ২০১৯ সালের বান্দরবান জেলার একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা ছিল। এই মামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা সেলিম উদ্দিন মামলা রুজু হওয়ার প্রায় ৭ বছর পলাতক ছিলেন। আজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত জামিন মঞ্জুর না করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, আলমগীর সিকদার লামার সরই ইউনিয়ন আ. লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন।
