parbattanews

সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বেইজিংয়ের পূর্ণ প্রতিশ্রুতি পেলো মিয়ানমার

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং গতকাল মঙ্গলবার মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। চীনে সফররত মিনের সঙ্গে বেইজিংয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মিয়ানমারের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। থাইল্যান্ড থেকে প্রকাশিত মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাবতীর প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

চীন মিয়ানমারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র। ২০২১ সালে মিন অং হ্লাইংয়ের সামরিক অভ্যুত্থানে নির্বাচিত সরকারপ্রধান অং সান সু চি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরও চীন দেশটির বিরল স্থায়ী অংশীদার হিসেবে পাশে রয়েছে। ওই অভ্যুত্থানের পর পশ্চিমা দেশগুলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক কমিয়ে দেয়।

অভ্যুত্থানের পর শুরু হওয়া মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধে বেইজিং একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পক্ষেও প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছে চীন। ওই নির্বাচনে অং সান সু চির দলকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং সেনাবাহিনী-সমর্থিত সংসদ সদস্যরা সহজে জয় পান। পরে তাঁরা মিন অং হ্লাইংকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেন।

মঙ্গলবার বেইজিংয়ের জাঁকজমকপূর্ণ গ্রেট হল অব পিপলে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার পর মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন সি চিন পিং। চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে সি বলেন, মিয়ানমারের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার প্রচেষ্টাকে চীন ‘দৃঢ়ভাবে সমর্থন’ করে।

এপ্রিলে বেসামরিক প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি মিন অং হ্লাইংয়ের দ্বিতীয় রাষ্ট্রীয় সফর। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় গড়ে ওঠা ইন্টারনেটভিত্তিক প্রতারণা কেন্দ্রগুলোকে ঘিরে বেইজিং ও নেপিডোর সম্পর্ক কিছুটা টানাপোড়েনের মধ্যে পড়েছে। এসব প্রতারণা চক্রের প্রধান লক্ষ্য ছিল চীনা নাগরিকেরা। সি চিন পিং মিন অং হ্লাইংকে বলেন, ‘নতুন সরকার উন্নয়ন ও নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে এমন একটি সঠিক উন্নয়ন পথ খুঁজে পাবে, যা দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং জনগণের সমর্থন পাবে। এই প্রচেষ্টায় চীন সমর্থন দিচ্ছে।’

সি চিন পিং আরও বলেন, দুই দেশকে টেলিকম জালিয়াতি, অনলাইন জুয়া এবং মাদক পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। চীন-মিয়ানমার সম্পর্কের প্রশংসা করে তিনি বলেন, দুই দেশ ‘সুখে-দুঃখে সব সময় একসঙ্গে থেকেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মিয়ানমারের সব পক্ষ যেন সংলাপের মাধ্যমে শান্তি ও জাতীয় পুনর্মিলনের পথে এগিয়ে যায়, চীন তা সমর্থন করে।’

এর আগে গত সোমবার মিন অং হ্লাইং বেইজিংয়ে পৌঁছান। তাঁর দপ্তর প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, তাঁকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। পাঁচ দিনের এই সফরের প্রথম কয়েক ঘণ্টায় তিনি চীনের মহাকাশ কর্মসূচির কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বেইজিং অ্যারোস্পেস সিটি পরিদর্শন করেন। সফরকালে তাঁর চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এবং দেশটির শীর্ষ আইনপ্রণেতা ঝাও লেজির সঙ্গেও বৈঠক করার কথা রয়েছে।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর কাছে অস্ত্র সরবরাহকারীদের অন্যতম প্রধান দেশ চীন। পাশাপাশি চীনের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সক্রিয় মিয়ানমারের দুটি শক্তিশালী জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে ঐতিহাসিক দুটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি করাতেও মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছে বেইজিং। একসময় এসব গোষ্ঠী সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।

গৃহযুদ্ধের কারণে মিয়ানমারের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশটির জনগণ দারিদ্র্যের মুখে পড়েছে। তবে একই সময়ে দেশটি খনন করা বিরল মৃত্তিকা খনিজের (রেয়ার আর্থ মিনারেল) একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সরবরাহকারীতে পরিণত হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি উৎপাদনে এসব খনিজ চীনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Exit mobile version