বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব সালাহউদ্দিন আহমদকে গ্রেফতার করার প্রতিবাদে এবং তার মুক্তির দাবিতে পেকুয়ায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ডাকা অনির্দিষ্টকালের হরতাল কর্মসূচি চলছে। বুধবার (১১ মার্চ) রাত ১১ টা থেকে এ হরতাল কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
হরতাল চলাকালে কোথাও রিক্সা ছাড়া আর কোন দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল করছে না। অফিস আদালত খোলা থাকলেও এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করায় লোকজনের আনাগোনা ছিল খুব কমই। বৃহস্পতিবার ছিল পেকুয়ায় জমি ক্রয় বিক্রয়ের দিন হরতাল ও এলাকার পরিস্থিতি উত্তোজনা বিরাজ করায় জমি ক্রয় বিক্রয় করতে আসেনি লোকজন। সকালে বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ বিজিপি টহল ছিল চোখে পড়ার মত।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল পেকুয়া উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে সালাহউদ্দিন আহমদ কে মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত গত ১১ মার্চ রাত ১১ টা থেকে পেকুয়ায় এ অনির্দিষ্টকালের হরতালের ডাক দেয়া হয়।গতকাল সকালে উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক কামরান জাদিদ মুকুট স্বাক্ষরিত এক বিবৃতির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি বিবৃতিতে বলেন, পেকুয়া পুলিশ প্রশাসন অন্যায়ভাবে বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে নির্যাতন ও আটকের নামে হয়রানি করছে। ক্ষমতা অপব্যবহারের জন্য একদিন প্রশাসনকে সবকিছুর খেশারত দিতে হবে বাংলার জনগণের কাঠগড়াই। নেতাকর্মীদের কে আটকের নামে অহেতুক নির্যাতন এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি বন্ধ করার জন্য অনুরোধ করেন।
তিনি আরো বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের মামলা হামলা করে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না। তিনি হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন বিএনপির কাণ্ডারী যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমদকে অবিলম্বে আদালতে হাজির করা না হলে উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে কঠোর কর্মসূচী দিয়ে পেকুয়ার সাথে অন্যান্য দেশের যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হবে। সালাহউদ্দিন আহম্মদকে মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা আন্দোলন চালিয়ে যাবে।
এদিকে উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে শুক্রবার বাদ জুমার নামাজের পর বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমদের শারীরিক সুস্থতা ও নিঃশর্ত মুক্তি লাভের জন্য প্রত্যেক মসজিদে খতমে কোরআন ও বিশেষ মোনাজাত এবং মুক্তির জন্য বিক্ষোভ মিছিলসহ নানা কর্মসূচীর ঘোষণা দেয় উপজেলা বিএনপির মূখপাত্র ও উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ রুবেল।
উল্লেখ্য, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব সালাহউদ্দিন আহমদকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাদা পোশাকধারী সদস্যরা ঢাকা উত্তরার একটি বাসা থেকে গত ১০ মার্চ রাতে গ্রেফতার করেছে এমন সংবাদ বুধবার (১১ মার্চ) রাত ৯ টায় পেকুয়ায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে পৌঁছলে নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। নেতাকর্মীরা পেকুয়া চৌমুহুনী ও পেকুয়া বাজারের দোকানপাট বন্ধ করে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে যানচলাচল বন্ধ করে।
এদিকে পেকুয়া চৌমুহুনী থেকে উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ রুবেল ও শ্রমিকদলের সভাপতি মজিবুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি মিছিল বের করলে পেকুয়া থানার পুলিশ এসে মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দেয়। একই ভাবে পেকুয়া বাজারেও মিছিল করতে চাইলে পুলিশ তাদেরকেও বাধা দেয়।
অপরদিকে বিএনপির মিছিলের পাল্টা জবাব দিতে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী পেকুয়া চৌমুহুনী জড়ো হয়ে বাজারের দিকে রওনা দিলে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে যায়। এ সময় কে বা কারা পেকুয়া বাজারে ৩ রাউন্ড ফাকা গুলি বর্ষণ করে। কারা এ গুলি বর্ষণ করছে তার সঠিক উত্তর দিতে পারেনি পেকুয়া থানার পুলিশ। পরে চকরিয়া থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিপি এনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখে।
তারপরও পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে রাতে বিভিন্ন স্থানে ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিপি মোতায়ন করা হয়েছে। পেকুয়া থানার ওসি আবদুর রকিব ও এসআইদের নেতৃত্বে গভীর রাতে শুরু করে চিরুনি অভিযান। আর এ অভিযানে বিভিন্ন এলাকা থেকে ১১ জন নিরহ ব্যক্তিকে রাতে ঘুমান্ত অবস্থায় পুলিশ ও বিজিপি বাড়ি বাড়ি গিয়ে আটক করে।
পেকুয়া চৌমুহুনী এলাকার মৃত ওকিল আহমদের পুত্র কবির হোসেন, দেলোয়ার মিস্ত্রী, জাফরের পুত্র ছাত্রদলকর্মী নাছির উদ্দিনসহ ১১ জন কে আটক করে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে পেকুয়া থানার এস আই শাহাজাহান কামাল বাদী হয়ে শতাধিক অজ্ঞাত আসামী দেখিয়ে গাড়ি ভাঙচুর ও পুলিশের কাজে বাধা প্রদান করার অপরাধে মামলা দায়ের করে।
পেকুয়া থানার ওসি আবদুর রকিব জানায়, আটক ব্যক্তিদের বিকালে জেল হাজতে প্রেরণ করবে পুলিশ। তিনি আরো জানান, পেকুয়ার পরিস্থিতি শান্ত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।

