সিরিয়া থেকে সেনা কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করছে ইরান

fec-image

ইসরায়েলি হামলার পর সিরিয়া থেকে নিজেদের সিনিয়র কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করছে ইরানের অভিজাত বিপ্লবী গার্ডস বাহিনী (আইআরজিসি)।

এখন তারা নিজেদের সামরিক অবস্থান বজায় রাখতে ইরানপন্থি শিয়া মিলিশিয়াদের ওপর নির্ভর করবে। এ সম্পর্কে অবগত পাঁচটি সূত্র ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।

এক দশক আগে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সমর্থনে সিরিয়ায় সেনা কর্মকর্তাদের মোতায়েন শুরু করেছিল ইরান। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে সিরীয় ভূখণ্ডে ইসরায়েলি হামলায় ৬ জনের বেশি ইরানি সেনা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন ছিলেন আইআরজিসির শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

তিনটি সূত্র বলেছে, তেহরানের কট্টরপন্থিরা এমন হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার দাবি তুলছে। কিন্তু সিনিয়র কর্মকর্তাদের ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্তটি মূলত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে ইরানের সরাসরি জড়িয়ে পড়া এড়ানোর অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।

সূত্রগুলো বলেছে, সিরিয়া থেকে একেবারে সামরিক উপস্থিতি বাদ দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা আপাতত ইরানের নেই। তবে এই সিদ্ধান্তে গাজায় চলমান হামাস-ইসরায়েল সংঘাত যে পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে প্রভাবিত করছে, সেই আভাস উঠে আসছে।

হামাসের সমর্থক ইরান সরাসরি গাজা যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া থেকে নিজেকে দূরে রেখেছে। কিন্তু লেবানন, ইয়েমেন, ইরাক ও সিরিয়ায় ইরানপন্থি মিলিশিয়া গোষ্ঠী বা কথিত প্রতিরোধ অক্ষ ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে হামলা চালিয়েছে।

আঞ্চলিক এক সিনিয়র গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেছেন, সিনিয়র ইরানি কমান্ডাররা সিরিয়া ছেড়েছেন। তাদের সঙ্গে মাঝারি পর্যায়ের কর্মকর্তারাও ছিলেন। এতে ইরানি কর্মকর্তাদের উপস্থিতি হ্রাস পেয়েছে।

সূত্রটি নিশ্চিত করেনি কতজন কর্মকর্তা সিরিয়া ছেড়েছেন। রয়টার্সের পক্ষ থেকেও স্বতন্ত্রভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এই বিষয়ে আইআরজিসি ও সিরিয়ার তথ্য মন্ত্রণালয়ের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সিরীয় যুদ্ধের সময় কয়েক হাজার যোদ্ধা পাঠিয়েছে ইরান। এদের মধ্যে আইআরজিসির কর্মকর্তারাও ছিলেন। আনুষ্ঠানিকভাবে এসব কর্মকর্তারা উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন বলে দাবি করে আসছে তেহরান। তবে বেশিরভাগ যোদ্ধা ছিলেন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠীর সদস্য।

তিনটি সূত্র বলেছে, আইআরজিসি এখন অভিযান পরিচালনা করবে দূর থেকে। এক্ষেত্রে মিত্র হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর সহযোগিতা নেওয়া হবে।

ইরানের ঘনিষ্ঠ এক আঞ্চলিক কর্মকর্তা বলেছেন, সিরিয়ায় থাকা কর্মকর্তারা তাদের কার্যালয় ছেড়েছেন এবং আড়ালে অবস্থান করছেন। ইরানিরা সিরিয়া ছাড়বে না। কিন্তু তারা তাদের উপস্থিতি ও গতিবিধি কমিয়ে আনছে।

সূত্র মতে, এসব পরিবর্তনে অভিযান পরিচালনায় কোনও প্রভাব পড়েনি। উপস্থিতি কমানোর ফলে গাজা-ইসরায়েল যুদ্ধে তেহরানের জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সহযোগিতা করবে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: ইরান, ইসরায়েলি, সিরিয়া
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন