মংডুতে বিদ্রোহীদের আশ্রয়ে বিমান হামলা, সীমান্তে আসছে রোহিঙ্গারা

fec-image

বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে মন্ডু বুথিডং টাউনশীপের গোদাম পাড়াসহ আশপাশের কয়েকটি রোহিঙ্গা পাড়ায় আরকান আর্মিকে আশ্রয় দেয়াকে কেন্দ্র করে মিয়ানমার সেনারা সে সব গ্রামে বুধবার ও বৃহস্পতিবার বিমান হামলা চালিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) ভোর ৪টা থেকে দুপুর পর্যন্ত মুহুমুর্হু যুদ্ধ বিমান থেকে গোলা বর্ষণে সে সব গ্রামের লোকজন বাড়ি-ঘর ছেড়ে বাংলাদেশে পাড়ি দিতে অগ্রসর হচ্ছে। অনেকে ইতিমধ্যে পাহাড়ি পথ বেয়ে সীমান্তে জড়ো হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রিত একাধিক রোহিঙ্গা এ প্রতিবেদককে বলেন, এসব রোহিঙ্গাদের মাঝে তাদের স্বজনও রয়েছে। যারা দু’দিন ধরে পাহাড়ের নানা স্থানে অবস্থান করছে। বর্তমানে তারা খাদ্য সংকটে পড়েছে ।

এসব রোহিঙ্গারা নানা মাধ্যমে বৃহস্পতিবার বিকেলে এ খবরটি পৌঁছান বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তাদের আত্মীয় স্বজনদের কাছে। যেন সীমানা পাড়ি দিযে তারা কুতুপালং রেহিঙ্গা ক্যাম্পে স্থান পায় সহজে। গত মাস খানেক আগে যেভাবে স্থান নিয়েছিলো ৫ পরিবারের ১৬ রোহিঙ্গারোহিঙ্গা ক্যাম্পের আবদুর রহমান, আবদুল মাজেদ ও হাবিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন এ প্রতিবেদককে।

ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গির আজিজ ও মেম্বার দিল মোহাম্মদ বলেন, গত ২ মাস ধরে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীর সাথে কয়েকটি বিদ্রোহী বাহিনীর যুদ্ধ চলে আসছিলো নিজেদের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে। বিশেষ করে বাংলাদেশ সীমান্তের জিরো লাইনে বিদ্রোহী আরকান আর্মিকে দমনে তাদের আস্তানায় লক্ষ্য করে ভারী গোলা ছুঁটে আসছে মিয়ানমার সেনারা। যার কয়েকটি গোলা সীমান্তের জিরো লাইন পেরিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে তুমব্রু উত্তরপাড়া মসজিদের পাশে ও তুমব্রু কোনার পাড়ায় এসে পড়ে। এতে জিরো পয়েন্টের ১ রোহিঙ্গা যুবক মারা যায়, আহত হয় অপর ১ জন।

এ ঘটনার পর বাংলাদেশ সীমান্তের নাইক্ষংছড়ি সদরের ঘুমধুমে ইউনিয়নের তুমব্রুর ৩৪ পিলার থেকে নাইক্ষংছড়ি সদর ইউনিয়নের ফুলতলীস্থ ৪৭ নম্বর পিলারের ৪২ কিলোমিটার সীমান্ত জুড়ে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। আর এ সীমান্তে কয়েক দফা স্থলমাইন বিস্ফোরণে পর ৩৫ পিলার থেকে ৫৪ পিলারের ৬০ কিলোমিটার সীমান্ত জুড়ে স্থলমাইন বসানোর কারণে আরেক আতংক যুক্ত হয়। যাতে দুঃচিন্তায় পড়ে সীমান্তের শত শত বাংলাদেশী লোকজন।

একাধিক রোহিঙ্গা নেতা জানান, এরই মাঝে গত ২ দিন সীমান্তে মর্টার শেলের আওয়াজ শোনা না গেলেও মন্ডুর টাউনশীপের আশপাশের গ্রামসমূহে বিমান হামলার পর রাখাইনের রোহিঙ্গারা প্রাণ ভয়ে বাংলাদেশ সীমানার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আবার অনেকে বাড়ি ঘর ছেড়ে তুমব্রু, থাইনখালী, পালংখালী ও হোয়াইকং পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে আসার পথ খুঁজছে।

এ দিকে রোহিঙ্গা নেতা আবদুল মাজেদ জানান, গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার দু’দিন ধরে মিয়ানমার সরকার সীমান্তের তুমব্রু রাইট ক্যাম্প থেকে দক্ষিণের কয়েকটি সীমান্ত চৌকিতে সেনা সংখ্যা বৃদ্ধি ও বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমারেখার নাফনদীসহ জলসীমানায় মিয়ানমার নৌবাহিনীর অতিরিক্ত টহল ও নিরাপত্তা জোরদার করছে করার কারণে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষীরা সর্তক অবস্থান নিয়েছে।

এদিকে ঘুমধুমের তুমব্রু বাজার ব্যবসায়ী শফিক আহমদ, আবদুল জব্বার ও আবদুল কাদের বলেন, ওপারে বিমান হামলা ও সেনা বৃদ্ধির খবরে এদেশে মানুষ আতংক গ্রস্ত হলেও এপারে বিজিবি টহল জোরদার করায় সীমান্তের লোকজন স্বাভাবিক জীবনে সময় পার করছে।

এসব বিষয় নিয়ে সোনাইছড়ি ও নাইক্ষংছড়ি সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান যথাক্রমে এ্যনি মার্মা ও নুরুল আবছার ইমন অভিন্ন সূরে এ প্রতিবেদককে বলেন, তাদের স্ব-স্ব ইউনিয়ন এলাকার সীমান্তবর্তী গ্রামের মানুষরা বিমান, গোলাগুলি ও স্থলমাইন বিস্ফোরণের ভয়ে তটস্থ থাকলেও তারা পরিষদের মেম্বার, চৌকিদার দফাদারসহ সকলের মাধ্যমে সীমান্তে নিরাপত্তায় নিয়োজিত বিজিবির কঠোর অবস্থান বিষয়ে সচেতন করে রাখছেন। বৃহস্পতিবার ও তারা সীমান্তের নাগরিকদের এ ধরণের ক্যাম্পইন করেছেন তারা।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: মিয়ানমার, রোহিঙ্গা, সীমান্ত
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

6 − three =

আরও পড়ুন