সুইজারল্যান্ডে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের প্রতিনিধিদলের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৈঠকে মূলত লেবাননে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ছাড়ের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, লেবাননে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ অবমুক্ত করার বিষয়টি কেন্দ্র করে আলোচনাটি চলমান। তবে আলোচনায় ইসরায়েলের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিল না। এদিকে তেল আবিব শুরু থেকেই এই ইস্যুকে বৃহত্তর কোনো সমঝোতা প্রক্রিয়ার অংশ করার বিরোধিতা করে আসছে।
ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি এক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান সংঘাত পুরোপুরি বন্ধ ও যুদ্ধবিরতি কার্যকরভাবে মানা না হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তাদের তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র না পাওয়া পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের বিষয়ে কোনো পরিবর্তন আসবে না।
ইরান আরও জানিয়েছে, লেবানন যুদ্ধ সম্পূর্ণভাবে শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বড় কোনো চুক্তি আলোচনায় তারা অংশ নেবে না। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, নির্ধারিত শর্ত—বিশেষ করে নির্দিষ্ট অনুচ্ছেদের বাস্তবায়ন—নিশ্চিত না হলে চূড়ান্ত আলোচনায় প্রবেশ করা সম্ভব নয়।
অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক থেকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের একটি কূটনৈতিক সমাধান খুঁজছে। তার মতে, আলোচনার মাধ্যমে আঞ্চলিক সম্পর্কগুলোকে স্থায়ীভাবে পুনর্গঠনের সুযোগ রয়েছে।
তবে একই বক্তব্যে তিনি ইরানকে আঞ্চলিক অস্থিরতার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি জানান, সাম্প্রতিক আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও এখনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো বাকি।
ভ্যান্স আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো এমন একটি ভবিষ্যৎ তৈরি করা যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো একসঙ্গে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য কাজ করতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা, টাইমস অব ইসরায়েল
