“শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন” এই মূলনীতি ধারণ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম জনপদগুলোতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তায় কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার ৩৬ নং সাজেক ইউনিয়নের সাজেক পর্যটন এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোনের উদ্যোগ ও তত্ত্বাবধানে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে এক মতবিনিময় সভা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময় সভায় সাজেক পর্যটন এলাকায় নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য সংরক্ষণ, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রতিটি রিসোর্ট, দোকান ও রেস্টুরেন্টের আশপাশ প্লাস্টিকমুক্ত রাখার বিষয়ে ব্যবসায়ী, রিসোর্ট মালিক ও ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে পর্যটন এলাকার পরিবেশ সুরক্ষা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়ে সবাইকে সচেতন করা হয় এবং নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানানো হয়।
আবর্জনা ও পচনশীল দ্রব্য এবং প্লাস্টিক জাতীয় বর্জ্য আলাদা আলাদাভাবে রাখা সহ নিন্মলিখিত বিষয়ের উপর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
১। প্রতিটি দোকান, রেষ্টুরেন্ট এবং রিসোর্টের সামনে ০২ টি করে ডাষ্টবিন থাকবে। একটিতে প্লাষ্টিক জাতীয় দ্রব্য এবং ২য় টিতে পচনশীল জাতীয় দ্রব্য রাখা হবে।
২। নিদিষ্ট স্হান ব্যতীত কোথাও ময়লা ও বোতল ফেলা যাবে না।
৩। প্রতি বুধবার বিকাল ১৫০০ ঘটিকা হতে কংলাক হতে সাজেক পুলিশ ফাঁড়ি পর্যন্ত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন অভিযান পরিচালনা করা হবে।
৪। প্রতিটি দোকান, রেস্টুরেন্ট এবং কটেজ/ রিসোর্ট থেকে ১জন করে প্রতিনিধি বাধ্যতামূলক ভাবে ময়লা পরিস্কার অভিযানে উপস্হিত থাকতে হবে।
৫। সাজেক ভ্যালি এলাকায় যেহেতু প্লাস্টিক বর্জ্য শোধনাগারের ব্যবস্হা নাই তাই সকল প্লাস্টিক দ্রব্য শোধনাগারের জন্য সাজেক টিওবি’র ক্যাম্প কমান্ডারের তত্বাবধানে বাঘাইহাট জোনের মাধ্যমে খাগড়াছড়ি পাঠানো হবে।
উপস্থিত সকলে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে পরিচালিত এ ধরনের কার্যক্রম সাজেকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সংরক্ষণ, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং টেকসই পর্যটন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
