parbattanews

সৈকতে ঝাউবাগান উজাড় করে বালিয়াড়ি দখল

সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন ঝাউবাগান কেটে এবং বালিয়াড়ি দখল করে অবৈধভাবে প্লট তৈরি ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। সরকারি এই জমি নিজেদের তৈরি কাগজপত্রের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। দখলবাজরা বালিয়াড়ি খনন করে তৈরী করেছে মৎস্য ঘের।

সরেজমিনে দেখা যায়, নাজিরারটেক সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় ঝাউগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। বালিয়াড়ি ঘিরে তৈরি করা হয়েছে মৎস্য ঘের। বড় বড় জায়গা দখল করে প্লট আকারে ভাগ করা হয়েছে এবং সেখানে স্থাপন করা হয়েছে পাহারাদার ও সিসিটিভি ক্যামেরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই দখলবাজ চক্রের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন মহেশখালীর বাসিন্দা এডভোকেট সায়েম নামে এক ব্যক্তি। এছাড়া এছাড়া রয়েছে সেলিম, সৈয়দ আলম, সোহেল, মোস্তাক, নাছির, মিজান, সাইফুল, গিয়াস উদ্দিন, মনির, হুমায়ন ও কায়সার সহ আরো অনেকের নাম। তাদের মধ্যে রয়েছে বন পাহারাদার সহ রাজনৈতিক দলের পদ-পদবী ব্যবহার করা লোকজন।

মাঠ পর্যায়ের তথ্য বলছে, রাজনৈতিক প্রভাবকে পুঁজি করে দীর্ঘদিন ধরে এ দখল কার্যক্রম চলছে। আগে যেখানে পূর্ববর্তী সরকারের নেতাকর্মীদের নাম শোনা যেত, বর্তমানে নতুন করে অন্যদের নাম উঠে এসেছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত এডভোকেট সায়েমের সঙ্গে টানা এক সপ্তাহ যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একবার ফোন রিসিভ করে বিষয়টি শুনে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ের কথা বলে ফোন কেটে দেন। এরপর আর ফোন ধরেননি এবং পাঠানো বার্তারও কোনো জবাব দেননি।

স্থানীয়রা জানান, কারা ঝাউবাগান কেটে বালিয়াড়ি দখল করে জমি বিক্রি করছে তা অনেকেই জানেন। কিন্তু তারা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। ফলে দখলবাজরা আগেও যেমন সক্রিয় ছিল, এখনো তেমনি সক্রিয় রয়েছে।

এদিকে বন বিভাগের কক্সবাজারের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. হাবিবুল হক বলেন, “দখলদারদের নির্দিষ্ট নাম আমাদের কাছে নেই, তবে দখলের বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত। কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চালালে ঝাউবাগান ও বালিয়াড়ি দখলমুক্ত করা সম্ভব।

অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলেও অনেক সময় তথ্য ফাঁসের কারণে তা সফল হয় না। কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা তাসনিম বলেন, “দখলদার যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, তালিকা প্রস্তুত করে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। খুব দ্রুত কঠোর অভিযান শুরু হবে।”

সচেতন মহল বলছে, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই দখলবাজির বিরুদ্ধে অতীতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে হতাশা থাকলেও এবার কার্যকর পদক্ষেপের প্রত্যাশা রয়েছে। এখন দেখার বিষয়—প্রশাসনের ঘোষিত উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়।

Exit mobile version