সৌর বিদ্যুতের বদৌলতে মানিকছড়ি’র কৃষিক্ষেত্রে পরিবর্তনের হাওয়া

fec-image

‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র উদ্যোগ,ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ এ স্লোগানে দেশব্যাপি বিদ্যুৎবিহীন লোকালয়ে হত-দরিদ্র জনগোষ্ঠী’র ঘর-বাড়ি, সরকারি অফিস-আদালত,রাস্তা-ঘাটে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে নিরাপত্তা স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি সৌর বিদ্যুতের বদৌলতে কৃষিক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটতে যাচ্ছে উপজেলার তৃণমূলে।

দেশকে ডিজিটালের আওতায় আনতে বিদ্যুৎবিহীন জনপদে চলছে সৌর বিদ্যুতে জনপদ আলোকিত করার কাজ। ২০১৬-২০২০ পর্যন্ত মানিকছড়ি উপজেলার প্রত্যন্ত জনপদে স্কুল-মাদরাসা, মসজিদ-মন্দির, ক্যায়ং, দরিদ্র পরিবার, জনসমাগমস্থল( অফিস-আদালত,রাস্তা-ঘাট) উপজেলার বিভিন্ন স্থানে হোম সিস্টেম ও স্ট্রীট লাইট স্থাপনের পাশাপাশি তৃণমূলের (বিদ্যুৎবিহীন জনপদে) কৃষক সমাজে পরিবর্তন আনতে এবং অনাবাদী কৃষি জমিতে অনায়াসে ফসল উৎপাদনে ডিজিটালের হাওয়া ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

উপজেলার একাধিক স্পটে বিশাল বিলে স্থাপন করা হয়েছে সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল। গত ২০১৮-১৯অর্থ বছরে ‘বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন’ উপজেলার বড়বিলস্থ বিলের (৫০একর) একপাশে স্থাপন করেছে সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল। এতে ওই বিলের সিংহভাগ কৃষক মোটর দিয়ে দ্বারা গভীর নলকূপ থেকে/ছড়া বা খাল থেকে প্রতিনিয়ত পানি উত্তোলন করে অনায়াসে চাষাবাদ চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের মনে এখন রঙ্গিন স্বপ্ন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ১৮-১৯ অর্থবছরে উপজেলা অনগ্রসর জনপদ বড়বিল এলাকার বিশাল বিলের( প্রায় ৫০একর ধান্য জমি) একাংশে ‘বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন(বিএডিসি)’ স্থাপন করেছে সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল। এতে করে ওই জমির কৃষকরা সৌর বিদ্যুতে অনায়াসে খাল থেকে পানি তুলছে এবং বছরব্যাপি ধান,ভুট্টা, মরিচ, টমেটো, শাক-সবজি চাষ করছে। পানি নিয়ে এখন আর তাদের চিন্তা করতে হয় না।

এছাড়া উপজেলা প্রত্যন্ত জনপদে কৃষকরা সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি কৃষকরা নিজ উদ্যোগে সেচ ব্যবস্থা করে এ বছর ভুট্টা চাষে বিপ্লব ঘটিয়েছে। তিনটহরী ‘এ.কে এগ্রো এন্ড ডেইরী’ ফার্মে ১১একর জমিতে ভুট্টা চাষ করেছে। ওই ফার্মের মালিক আলহাজ্ব মো. ইকবাল চৌধুরী বলেন, এখনকার কৃষকরা উৎসাহ ও উদ্দীপনার অভাবে এবং ভুট্টা বাজারজাত করণে সমস্যা ভেবে লাভবান একটি ফসল চাষাবাদে এত দিন পিছিয়ে ছিল।

এখন আমার ডেইরি ফার্মসহ সমতলের ডেইরী ফার্মে প্রচুর ভুট্টা ব্যবহার হয়। যার কারণে ভুট্টার বাজারজাত এখন সহজ হয়েছে। অনায়াসে সবাইকে চাষাবাদ করার জন্য উপজেলা কৃষি অফিস কৃষকদের প্রণোদনাসহ পরামর্শ দিচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম মজুমদার বলেন, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন সময়োপযোগী একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এতে ওই বিলের শতশত কৃষকরা উপকারভোগী হতে পারবে।

যদিও প্রকল্প সংশ্লিষ্ঠ কেউ আদৌ ওই প্রকল্প সর্ম্পকে উপজেলা কৃষি অফিসকে কোন কিছু জানায়নি। তথাপি সরজমিনে কাজ করতে গিয়ে আমরা প্রকল্পটি দেখেছি এবং কৃষকদেরকে এ প্রকল্পের সুযোগ গ্রহন করে কৃষিক্ষেত্রে নিজেদেরকে পরিবর্তনের সুযোগ নিতে উৎসাহ দিচ্ছি।

এছাড়া কৃষকদের লাভবান একটি ফসল ভুট্টা চাষে গত বছর উপজেলা ১৫০জন কৃষককে সরকারী প্রণোদনা দিয়েছি। এ বছর উপজেলার প্রায় ১৩০ হেক্টর জমিকে ভুট্টা চাষ হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

6 + five =

আরও পড়ুন