স্টুডেন্ট লোন ও ছোট উদ্যোক্তা সহায়তার ভাবনা তারেক রহমানের

fec-image

চট্টগ্রামে জনসভায় যোগ দেওয়ার আগে তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রবিবার সকাল ১০টা থেকে নগরীর র‌্যাডিসন ব্লু হোটেলে ‘দ্য প্ল্যান: ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে চট্টগ্রাম নগর ও আশপাশের অর্ধশত কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের সাড়ে চারশ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছেন। ‘ইয়ুথ পলিসি’ শীর্ষক বিশেষ সংলাপে অংশ নিয়ে তরুণদের বিভিন্ন উদ্যোগ, শিক্ষার্থী ও পরিবেশ নিয়ে বিএনপির পরিকল্পনা তুলে ধরেন তারেক রহমান।

চট্টগ্রামের এমবিবিএস তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ রাফসান পরিবেশ ও শিক্ষার ওপর প্রশ্ন  করেন, ‘বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর মধ্যে পরিবেশ বিপর্যয় অন্যতম। কিন্তু আমাদের পলিটিশিয়ান এবং পলিসি মেকাররা এ বিষয়ে খুব বেশি কথা বলেন না। কৃষি, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির সঙ্গে পরিবেশ গভীরভাবে জড়িত। যেমন, যদি কৃষক সেচের পানি না পায় এবং শহরে বিশুদ্ধ বাতাস না থাকে। চট্টগ্রামে জলবদ্ধতা হলে জনজীবন স্থবির হয়ে যায়, আর মাতারবাড়িতে কয়লাভৃত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ।’

তারেক রহমানের প্রতিক্রিয়া ছিল বিস্তারিত ও স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘আপনার প্রশ্নে কয়েকটি বিষয় আছে। প্রথমে জলবদ্ধতার সমস্যা। চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বৃষ্টির পানি দ্রুত চলে যায় না, যার ফলে স্থবিরতা তৈরি হয়। এর সমাধান হিসেবে আমরা খাল খননের পরিকল্পনা নিয়েছি। যেমন, নোয়াখালী অঞ্চলের পূর্ববর্তী বন্যার পানি যদি খালে ধরে রাখা যেত, তা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যেত।’

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার লেভেল এত নিচে নেমেছে যে অনেক গাছপালা মারা যাচ্ছে। তাই খাল খনন শুধু বন্যা কমাতে নয়, আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার রিচার্জেও গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী সারা দেশে বিশ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে, শহর ও গ্রামে মিলিয়ে।

পরিবেশ দূষণ নিয়েও তারেক বলেন, শহরাঞ্চলের বাতাস অত্যন্ত দূষিত। আমরা অটোমোবাইল থেকে দূষণ কমানোর পরিকল্পনা নিয়েছি। বছরে প্রায় ২০–২৫ কোটি গাছ রোপণ এবং পাঁচ বছরে ৫০ কোটি গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলা প্রায় ২০–২৫ হাজার চারা উৎপাদন করতে পারে। এর সঙ্গে প্রাইভেট নার্সারির সংখ্যা মিলিয়ে প্রায় এক লাখ চারা রোপণ করা সম্ভব। আমরা মনসুনে এগুলো রোপণ শুরু করব এবং ছোট ছোট ফরেস্ট তৈরি করব।

তরুণ উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থীদের জন্য তারেক বলেন, আমরা ছোট উদ্যোক্তাদের সহজে ব্যবসা করতে সাহায্য করতে চাই। আইন পুরোপুরি পাল্টানো সম্ভব না হলেও, যেখানে সম্ভব তাতে সংশোধন আনা হবে। যেমন, স্টুডেন্ট লোনের মাধ্যমে যারা বিদেশে পড়াশোনা করতে চায়, তাদেরকে সাহায্য করার চিন্তাভাবনা আমাদের পরিকল্পনায় রয়েছে।

সংলাপে তারেকের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে, বিএনপি যুব, শিক্ষার্থী ও পরিবেশ সংরক্ষণকে প্রাধান্য দিয়ে দেশের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: চট্টগ্রাম, তারেক রহমান, বিএনপি
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন