সড়কে গাড়ির কান্না, শোনার কেউ নেই

fec-image

টানা বর্ষণে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের শহর ও শহরতলীর প্রধান সড়ক ও উপ-সড়কের বেহাল দশা বিরাজ করছে। এতে করে একপ্রকার সড়কে গাড়ির কান্নায় বিভিন্ন যন্ত্রাংশ খারাপ হয়ে যাচ্ছে। আর প্রতিনিয়ত জনদুর্ভোগ তো আছেই। পৌর এলাকার প্রধান সড়কের কিছু কিছু অংশ ঠিক থাকলেও পুরো পৌরসভার অলি-গলি সড়ক উপসড়ক এখন খানাখন্দকে ভরপুর। সচেতন মহলের দাবি-কক্সবাজার শহর বিশ্বের কাছে একটি পর্যটন নগরী হিসেবে পরিচিত। তাই এখানকার সড়কের এমন অবস্থা হয়েছে তা-নিজেদের লজ্জিত মনে হচ্ছে। কোন কোন সড়ক দিয়ে চলাচল একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শহরের প্রধান সড়ক ও উপ-সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়তই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে হাসপাতালে আসা রোগি, রোগির স্বজনসহ দূ-দূরান্ত থেকে আসা হাজারো জনসাধারণ। পাশাপাশি চরম ভোগান্তির শিকারও হচ্ছেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও দূর্নীতির কারণে সংস্কার হচ্ছে না। এমনকি মাঝে মধ্যে কোন সড়ক সংস্কার হলে নিন্মমানের দ্রব্যসামগ্রী ব্যবহার করায় সড়কের মেয়াদ ৬ মাসও টেকসই থাকেনা। এর কারণে পিচ-খোয়া উঠে তৈরি হয়েছে ছোট ছোট অসংখ্য গর্ত ও খানা-খন্দক। প্রতিদিন এই সড়কে হেলেদুলে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। সড়কে নিত্যদিন যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। রাস্তার বেহাল দশা ও ভোগান্তির যন্ত্রণায় ইদানীং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চলছে ক্ষোভের অনুভূতির প্রকাশ।

এমনকি কক্সবাজারের এক মুুক্তিযোদ্ধা আগামি ২৪ ঘন্টার মধ্যে সড়কের কাজ না করলে সওজ এর নির্বাহী প্রকৌশলীকে জুতাপেটা করারও হুমকি দিয়েছে। বলা চলে কক্সবাজার শহর ও শহরতলীর প্রায়ই সড়ক উপসড়ক খানা-খন্দকে ভরপুর। বিশেষ করে উপজেলা গেইটে, বাসটার্মিনাল, আলির জাহাঁল প্রধান সড়কে, চৌধুরী ভবনের সামনে প্রধান সড়কে, বিভিন্ন অলিগলিসহ প্রায়ই প্রধান সড়ক ও উপ-সড়কের ছোট ছোট গর্ত ও খানা খন্দক। এমনকি কোন কোন জায়গায় একেবারেই চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এর ফলে যানজট নিত্য দিনের সঙ্গী-তে পরিণত।

জায়গায় জায়গায় শুধু পিচই নয় খোয়াও উঠে গেছে। শুধু যানবাহন নয়, পথচারীদের চলাফেরায়ও অসুবিধা হচ্ছে। প্রায় একই অবস্থা পুরো পৌর শহর জুড়ে। এমনকি পর্যটন স্পট কলাতলীর অলিগলিতে সড়কে জলাবদ্ধতা ও চলাচল অনুপোযোগী হয়ে পড়ে আছে। যার ফলে প্রতি বছর বর্ষার সময়ে এলাকার মানুষের দূর্ভোগ পোহাতে হয়। নির্বাচনের আগে কাউন্সিলর ও মেয়ররা সড়কটি পাকা করার প্রতিশ্রুতি দিলেও তাদের কথায় চিড়া কখনো ভিজতে দেখা যায়নি।

কক্সবাজারের এক শিক্ষানবীশ আইনজীবি ইউসুফ আরমান জানান, রাস্তা ঘাটের বেহাল অবস্থা দেখে অতটুকু ভাল লাগছেনা। ফলে অনেক ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হচ্ছে। অথচ দেখার কেউ নাই। কাকে কি বলবো।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: কক্সবাজার, কলাতলী, সড়ক
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × one =

আরও পড়ুন