সড়ক দুর্ঘটনায নিহত ৬ পরিবার পেল প্রধানমন্ত্রীর ৩৫ লাখ টাকার অনুদান

fec-image

কক্সবাজারের চকরিয়ায় পিকআপ গাড়ির চাপায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬ ভাইয়ের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ৩৫ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান আনুষ্ঠানিক ভাবে তুলে দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) বিকেলে ডুলাহাজারা মালুমঘাট হাসিনাপাড়ায় নিহতের পরিবারের মাঝে প্রয়াত সুরেশ চন্দ্র সুশীলের বাড়িতে এ চেক তুলে দেন সংসদ সদস্য জাফর আলম।
ডুলাহাজারা ইউপি চেয়ারম্যান হাসানুল ইসলাম আদরের সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক অনুদানের টাকা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন
কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সাংসদ আলহাজ্ব জাফর আলম।

এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেপি দেওয়ান, কক্সবাজার সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (চকরিয়া সার্কেল) মো: তফিকুল আলম, চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, জেলা পরিষদের সদস্য কমর উদ্দিন আহমদ, চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামীলীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটু প্রমুখ।

ডুলাহাজারা ইউপি চেয়ারম্যান হাসানুল ইসলাম আদর জানান, গত ৮ ফেব্রুয়ারিতে এক দুর্ঘটনায় ছয় ভাই নিহত হওয়ার ঘটনা সারাদেশে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এতে পরিবারটি নিঃস্ব হয়ে গেছে। নিহতদের সন্তান ও স্ত্রীদের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী বরাবর আমি (চেয়ারম্যান) আবেদন করেছিলাম। চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জাফর আলমের সুপারিশে আবেদনটি আমলে নিয়ে নিহত ছয় ভাইয়ের পরিবারের জন্য ৩৫ লাখ টাকা অনুদান ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার বিকেলে নিহতের পরিবারের সদস্যদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের ৩৫ লাখ টাকার সহায়তায় তুলে দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে বাবা সুরেশ চন্দ্র শীলের শ্রাদ্ধানুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ার মালুমঘাট এলাকায় পিকআপ ভ্যানচাপায় অনুপম শীল (৪৬), নিরুপম শীল (৪০), দীপক শীল (৩৫), চম্পক শীল (৩০) ও স্মরণ সুশীল (২৯) নিহত হন। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রক্তিম সুশীল মারা যান। ঘটনার ১০ দিন আগে তাদের বাবা সুরেশের মৃত্যু হয়। বাবার শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে যোগ দিতে তারা ৯ ভাইবোন বাড়িতে সমবেত হয়েছিলেন। সেখানকার একটি মন্দিরে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শেষে একসঙ্গে ৯ ভাইবোন (৭ ভাই ও ২ বোন) হেঁটে বাড়িতে আসার জন্য সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

এ সময় পিকআপের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই একসঙ্গে চারজনের মৃত্যু হয়, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরেক ভাই। ঘটনায় অক্ষত অবস্থায় বেঁচে যান সুরেশ চন্দ্র শীলের মেয়ে মুন্নী শীল। আহত হন সুরেশ চন্দ্রের আরও দুই ছেলে ও এক মেয়ে। নিহতদের বোন হীরা শীল মালুমঘাট খ্রিস্টান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়েছে।

এদিকে, পিকআপ ভ্যানের চালক সাহিদুল ইসলামকে ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে আটক করে র‌্যাব। তাকে আটকের পর র‌্যাব জানায়, ঘটনার দিন রাস্তায় বেশি কুয়াশা থাকা সত্ত্বেও চালক দ্রুত কক্সবাজার পৌঁছে সবজি ডেলিভারি দিতে বেপরোয়াভাবে পিকআপটি চালাচ্ছিলেন। কুয়াশা ও অতিরিক্ত গতির কারণে মালুমঘাট বাজারের নার্সারি গেটের সামনে রাস্তা পার হতে অপেক্ষারতদের দূর থেকে লক্ষ্য করেননি তিনি। ফলে তাদের কাছাকাছি এসে লক্ষ্য করলেও গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ না করতে পারায় হৃদয় বিদারক এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে সুরেশের কর্মক্ষম ছয় ছেলের পরিবারের স্বপ্ন তছনছ হয়ে যায়। বাকরুদ্ধ হয়ে যান নিহতের মা মানু বালা।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: সড়ক দুর্ঘটনা
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seven + eight =

আরও পড়ুন