parbattanews

হরমুজ প্রণালি না খুললেও যুদ্ধ থামাতে আগ্রহী ট্রাম্প, অসন্তুষ্ট মিত্ররা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার উপদেষ্টাদের জানিয়েছেন, চলমান দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত তিনি আর টেনে নিতে আগ্রহী নন। এমনকি হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলেও। তবে তার এই অবস্থানে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলো। তাদের মতে, এই পরিস্থিতিতে পিছু হটা মানে কার্যত পরাজয় মেনে নেওয়া।

সোমবার (৩০ মার্চ) প্রকাশিত ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের পরপরই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেয় ইরান। এরপর থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি বন্ধ রয়েছে। বহু চেষ্টা সত্ত্বেও এর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে পারেনি ওয়াশিংটন। তবে এখন এ বিষয়ে সামরিকভাবে এগোতে আর আগ্রহ দেখাচ্ছেন না ট্রাম্প।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টারা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে সামরিক অভিযান চালালে তা নির্ধারিত চার থেকে ছয় সপ্তাহের বেশি সময় নিতে পারে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকায় এমন যুদ্ধে জড়াতে চান না তিনি।

প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, ইরানের নৌ ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দুর্বল করার মতো প্রধান লক্ষ্য অর্জনের পর ট্রাম্প ধীরে ধীরে সংঘাত কমিয়ে আনার কৌশল নিয়েছেন। এর পরবর্তী ধাপে কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে তেহরানকে প্রণালি খুলতে বাধ্য করার চেষ্টা করবে ওয়াশিংটন। তাতেও ব্যর্থ হলে ইউরোপ ও উপসাগরীয় মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হতে পারে, যাতে তারা এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় গত এক মাসে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ট্রাম্প ইতোমধ্যে একাধিকবার ইরানকে এই পথ খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি, ৬ এপ্রিলের মধ্যে প্রণালি খুলে না দিলে দেশটির জ্বালানি ও পানি অবকাঠামোর ওপর হামলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

অন্যদিকে, ইরান এ আহ্বান বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রত্যাখ্যান করেছে। গত এক মাসে হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী একাধিক তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য অর্জনের কাজ আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সম্পন্ন হবে। এরপর হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ এবং এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে কীভাবে পড়ে, সেটিই হবে পরবর্তী পর্যবেক্ষণের বিষয়।

Exit mobile version