হাত ধোয়াতে ভুল

fec-image

এত সহজ কাজেও ভুল হতে পারে। যে কারণে হাতে জীবাণু বিস্তার হওয়া থেকে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ে।

খাওয়ার আগে ও পরিচ্ছন্নতার কাজ করার পর হাত ধুয়ে থাকেন সবাই। তবে হাত ধোয়াটা সঠিক উপায়ে না হলে তা কোনো কার্যকর ফলাফল দেয় না।

স্বাস্থ্য-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে হাত ধোয়ার ক্ষেত্রে যে সকল ভুল হয়ে থাকে তা সম্পর্কে এখানে তুলে ধরা হল।

যথেষ্ট সময় নিয়ে হাত না ধোয়া: মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি’র করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৯৫ শতাংশ মানুষ জীবাণু ধ্বংস করতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে হাত ধোয় না। যুক্তরাষ্ট্রের ‘ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’ সেন্টার অনুযায়ী, হাত ধুতে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সময় ব্যয় করা উচিত। সচরাচর মানুষ হাত ধুতে ৬ সেকেন্ড ব্যয় করে।

হাতের সুক্ষ্ম অংশ ঠিক মতো না ধোয়া: হাতের দুই তালুতে কেবল সাবান মালিশ করা মানেই ঠিক মতো হাত ধোয়া না। হাতের সুক্ষ্ম অংশ যেমন- নখের চারপাশ ও নখের ভেতরে ভালো মতো পরিষ্কার করা না হলে তাতে জীবাণু বাসা বাঁধে। হাত থেকে ময়লা দূর করতে আঙুলের চারপাশ, ভাঁজ ও নখ ভালো মতো পরিষ্কার করতে হবে।

হাত ঠিক মতো না শুকানো: হাত ঠিক মতো ধোয়ার পরেও তা ঠিক মতো শুকানো জরুরি। জীবাণু আর্দ্রস্থানে বাসা বাঁধতে পছন্দ করে। হাত ভেজা থাকলে তাতে খুব সহজেই জীবাণু বাসা বাঁধে। হাত শুকানোর জন্য যদি কাগজের তোয়ালে এবং বাতাসের ব্যবস্থা থাকে তাহলে অবশ্যই কাগজের তোয়ালে বেছে নেওয়া উচিত। আর যদি ‘ব্লোয়ার’ ব্যবহার করেন তাহলে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে হাত শুকাতে হবে।

কেবল ‘ওয়াশরুম’য়ে গেলে হাত ধোয়া: জনসাধারণ ব্যবহার করে এরকম জিনিস, যেমন- এলিভেটর, দরজার হাতল, এটিএম বা ব্রিজের হাতল ইত্যাদি ধরার ফলে জীবাণু ও ব্যাক্টেরিয়াতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। অধিকাংশ মানুষই কেবল ‘ওয়াশরুম’ ব্যবহারের পরে হাত ধোয়। ফলে অন্যান্য জিনিস থেকে হাতে জীবাণু প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটানোর সম্ভাবনা থেকেই যায়।

‘রিফিল ডিস্পেন্সার’ ব্যবহার করে হাত ধোয়া: তরল সাবানের ‘ডিস্পেন্সার’ ব্যবহারকে নিরাপদ মনে হতে পারে। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, এ থেকেও জীবাণু ছড়াতে পারে। তাই সবসময় নিজের কাছে ‘সোপ পেপার’ রাখুন এবং ব্যবহার করুন।

হাত ধোয়ার পরে অন্য কিছু সম্পর্শ করা: হাত ধোয়ার পরেই অন্য কিছু স্পর্শ করা হাতে আবার জীবাণুর সংক্রমণের কারণ হতে পারে। যেমন- হাত ধুয়ে কল বন্ধ করা বা দরজার হাতল ব্যবহার ইত্যাদি হাতে জীবাণুর বাসা বাঁধতে সহায়তা করে। তাই হাত ধোয়ার পর কল বন্ধ করা বা দরজা খুলতে টিস্যু ব্যবহার করা নিরাপদ।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: গবেষণা, স্টেট ইউনিভার্সিটি, স্বস্থ্য
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × 5 =

আরও পড়ুন