হানিকুইন আনারসে সয়লাব রাঙামাটির বাজার

fec-image

পার্বত্য জেলা রাঙামাটির আনারস পুরো দেশ জুড়ে বিখ্যাত। মৌসুমী রসালো মিষ্টান্ন ফলটি বর্তমানে জেলার পুরো বাজার দখল করে আছে। বিক্রেতাদের হাক-ডাক এবং ক্রেতাদের ক্রয়ে হাটগুলো বেজায় ব্যস্ত। চলতি বছরে জেলায় আবহাওয়া ভালো থাকায় অন্যান্য বছরের তুলনায় ফলনও বেশ ভাল হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রসালো ফলটি জেলার বাইরে চট্টগ্রাম ও ঢাকার বাজারে যাচ্ছে।

পাহাড়ের মাটি আনারস চাষের উপযোগী হওয়ায় আবাদ বাড়ছে দিনদিন। পাহাড়ে উৎপাদিত ক্যামিক্যালমুক্ত রসালো ফলটির স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি জেলার বাইরে চাহিদা রয়েছে বেশ। পাহাড়ের ভাজে ভাজে কৃষকরা চাষ করে ফলটি। উৎপাদিত এই ফল কৃষকরা ইঞ্জিন বোটে করে রাঙামাটি শহরের সমতাঘাট, তবলছড়ি, পৌর ট্রাক টার্মিনাল এবং রির্জাভ বাজারে নিয়ে আসছে। সেখান থেকে পাইকারী ব্যবসায়ীরা ক্রয় করে ট্রাকে করে জেলার বাইরে নিয়ে যাচ্ছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাঙামাটি কার্যালয় থেকে জানানো হয়- হানিকুইন জাতের এই আনারসটি জেলায় চলতি মৌসুমে ২ হাজার ১শ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে। বর্তমানে আনারসের ব্যাপক চাহিদা এবং উৎপাদন ভাল হওয়ায় কৃষকদের আনারস চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়।

এদিকে রাঙামাটির বনরূপা, কলেজগেইট, তবলছড়ি এবং রিজার্ভবাজার হাটগুলো ঘুরে দেখা গেছে- প্রতি জোড়া বড় আনারস ৬০ টাকা, মাঝারি ৪০ এবং ছোটগুলো ২০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। ফলন ভাল হওয়ায় এবং দাম হাতের নাগালে থাকায় বেজায় খুশি ক্রেতারা। রসালো ফলটি খেয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছেন তারা।

নানিয়ারচর উপজেলার আনারস চাষী দীপ্তিময় চাকমা বলেন, এ বছর ১০ একর পাহাড়ি জমিতে আনারস চাষ করেছি। উৎপাদনও হয়েছে বেশ। তবে তুলনামূলক দাম পাচ্ছি না। উৎপাদন বেশি হওয়াতে বাজারে আনারসের দাম পূর্বের তুলনায় কিছুটা কম।

জেলার আনারস ব্যবসায়ী রহমত মিয়া বলেন, কখনো লাভ বেশি আবার কখনো লোকসান গুনতে হয়। এ বছর উৎপাদন ভাল হওয়ায় আনারসের দাম অন্যান্য বছরের তুলনায় কিছুট কম বলে জানান এ ব্যবসায়ী।

রাঙামাটিতে আনারস কিনতে আসা চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী আসাদ সওদাগর বলেন , প্রতিবছর লাখ পিচ আনারসে ক্রয় করি রাঙামাটি থেকে। এ অঞ্চলের আনারস অত্যন্ত সুস্বাদু এবং ক্রেতাদের চাহিদা ব্যাপক রয়েছে। তাই প্রতি মৌসুমে এখান থেকে আনারস ক্রয় করে চট্টগ্রামে নিয়ে যায়।

আনারস কিনতে আসা আবুল ফজল বলেন, আমাদের অঞ্চলের মতো এত সুস্বাদু আনারস আমি এখনো খায়নি। দাম বেশি থাকুন বা না থাকুক প্রতি বছর পরিবারের জন্য আনারস ক্রয় করে থাকি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাঙামাটি কার্যালয়ের উপ-পরিচালক তপন কুমার পাল বলেন, চলতি মৌসুমে জেলায় হানিকুইন জাতের আনারসের ফলন ভাল হয়েছে। প্রতি বছর আনারসের চাহিদা বাড়ায় জেলায় আনারসের চাষ বাড়ছে। যে কারণে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চাষীদের আনারস চাষে সকল ধরণের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। কৃষকরাও লাভের মুখ দেখছেন।

কৃষক এবং ব্যবসায়ীদের দীর্ঘ বছরের দাবি রাঙামাটিতে একটি হিমাগার দরকার। হিমাগার না থাকায় প্রতি বছর হাজার টন আনারসসহ অন্যান্য ফসল পচে যায়। যে কারণে উৎপাদিত ফলের সংরক্ষণের জন্য একটি হিমাগার খুবুই গুরুত্বপূর্ণ। তাই জেলায় একটি হিমাগার তৈরির জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান ব্যবসায়ী এবং কৃষকরা।

 

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

17 + sixteen =

আরও পড়ুন