হেরে না যাওয়া এক কৃষকের গল্প

fec-image

রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলায় শিলছড়ি এলাকায় বসবাসরত হেরে না যাওয়া একজন সফল কৃষকের গল্প। আগামী দু’মাসের মধ্যে কৃষকের নিজ ফসলি হতে ৮/১০লাখ টাকার লিচু ও পেঁপে বিক্রয় করে সফলতার আশা প্রকাশ করছে কৃষক বাচ্ছু ।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গা ইউনিয়নের শিলছড়িতে বসবাসরত মো. আব্দুল রাজ্জাকের ছেলে কৃষক মো. এনামুল হক প্রকাশ বাচ্ছু (৪৪)। বাচ্ছু বহুদিন যাবৎ বেকার জীবন যাপন করে হতাশায় ভুগছিল। কী করে অভাবের সংসারে সফলতা আনা যায়। বহু কষ্টে দিন যাপন করে রাাস্তায়, রাস্তায় অভাবে রাত কাটায়।

দীর্ঘ সাত বছর পূর্বে পার্বত্য চট্রগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের আওতায় সামাজিক বনায়ন বা পশু খাদ্য বাগানের কাজ পায় বেকার বাচ্ছু। নিজ উদ্যোগে সামাজিক বনায়নের পাশাপাশি কর্ণফুলী নদীর কুল ঘেঁষে শীতার পাহাড়ে বন বিভাগের প্রায় সাড়ে তিন একর পরিত্যাক্ত খোলা জায়গায় পশু খাদ্য বাগানের পাশাপাশি বেকার ওই কৃষক তার স্ত্রী, ২ মেয়ে এক ছেলে নিয়ে ওই খোলা জায়গায় হরেক রকম ফসল উৎপাদন শুরু করে। যেমন, লিচু, পেঁপে, মাল্টা, কমলা, লেবু, আমড়া, বড়ই, তেঁতুল, আমলকি, লাউ, কলা, তেজপাতাসহ বিভিন্ন সবজি চাষ শুরু করে। এবং পাশাপাশি পাহাড়ের মধ্যে গড়ে তোলে মাছের চাষ। এছাড়া ১১১ প্রজাতির ঔষধি গাছের চারা উৎপাদ করে এ কৃষক।

এনামুল হক বাচ্ছু পার্বত্যনিউজকে বলেন, আমি বহুদিন যাবৎ পরিবার পরিজন নিয়ে বেকার ও হতাশায় ভুগছিলাম। পরে বন বিভাগের সহযোগিতায় সামাজিক পশুখাদ্য বাগানের পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন লোকের নিকট, ব্যাংক এবং এনজিও হতে প্রায় ৪০ লাখ টাকা লোন নিয়ে বিভিন্ন ফলের ঔষধি গাছের চারা রোপনের কাজ শুরু করি। এ যাবৎ বিভিন্ন সবজি, ফসল ও নার্সারী চারা বিক্রয় করে প্রায় এক লাখ টাকা উপার্জন করি। এখন  আমি এবং আমার স্ত্রী ও ছেলে মেয়ে ৪ জন মিলে ফসলের পরিচর্যার পাশাপাশি আরও ৩/৪ জন কাজ করছে।

তিনি বলেন, প্রতিদিন একজনকে ৫শ টাকা করে এবং আরও একজনকে মাসে আট হাজার টাকা করে বেতন বা পারিশ্রমিক দিতে হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি জানান সরকারিভাবে কোন সাহায্য সহযোগিতা বা প্রনোদনা পায়নি। তবে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ থেকে সম্প্রতি ১৬০ কেজি সার, ১টি স্প্রে মেশিন ও ২টি কাটার মেশিন ছাড়া আর কিছুই পাইনি ।

তিনি অরও বলেন, আগামী দু’মাসের মধ্যে আমার লাগানো বিভিন্ন প্রজাতির লিচু ও পেঁপে থেকে ৮/১০ লাখ টাকার ফসল বিক্রয় করে স্বাবলম্বী হতে পারবো বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করে। তিনি জানান, সরকারি কোন প্রণোদনা বা সহযোগিতা পেলে আরও ভালো কিছু করতে পারবো বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আমার এ ফসল দেখে পাশাপাশি অনেক বেকার যুবক ও লোকজন এ ধরনের উদ্যোগ নিয়ে কাজ শুরু করেছে। কৃষক বাচ্ছু জানান, বর্তমান শুষ্ক মৌসুমে আমাকে সরকারিভাবে একটি পাম্প মেশিন এবং গাছে ঔষধ ছিটানোর জন্য উন্নত মানের স্প্রে মেশিন প্রদান করলে কৃতজ্ঞ থাকবো বলেও জানান।

এদিকে এলাকার সমাজ কর্মী মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন বলেন, কৃষক বাচ্ছু সত্যিকারের একজন সফল কৃষক, বহু কষ্ট করে স্ত্রী, সন্তানদের নিয়ে রাত-দিন পরিশ্রম করে যাচ্ছে। তার কৃষি চাষ দেখে এলাকার আরও বহু যুবক ও লোকজন এ ফসলি কাজে এগিয়ে আসছে। এদিকে সরকারিভাবে এ কৃষককে সহযোগিতা করলে সামনে আরও ভালো কিছু করতে পারবে বলেও মত প্রকাশ করেন।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: কাপ্তাই, কৃষকের গল্প
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × three =

আরও পড়ুন