১২ হাজার একর পাহাড়ী জমি ডেসটিনির দখলে

destiny

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক সংসদীয় কমিটি কথিত শেয়ারিং বনায়নের নামে বান্দরবান জেলায় ডেসটিনির জবরদখলে নেয়া বন বিভাগসহ স্থানীয়দের প্রায় ১২ হাজার একর পাহাড়ি জমি উদ্ধার করার সিদ্ধান্ত দেয় ২ বছর আগে। কিন্তু এখনও সেই উদ্ধার তৎপরতা শুরু করা হয়নি। ২০১২ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভায় বান্দরবানে ডেসটিনি কি পরিমাণ বনায়ন করেছে সেই প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছিল বন বিভাগের কাছে। অভিযোগ আছে, ডেসটিনির মাঠকর্মীরা বন বিভাগসহ স্থানীয়দের প্রায় ১২ হাজার পাহাড়ি দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণীর ভূমি নানা কৌশলে দখলে নেয় বনায়নের নামে প্রায় ৮ বছর আগে।

সূত্র জানায়, লামা, বান্দরবান সদর, নাইক্ষ্যংছড়ি, রুমা, রোয়াংছড়ি, থানছি ও আলীকদম উপজেলার নানা স্থানে ডেসিটিনি শেয়ারিং বনায়নের নামে (পাউলোনিয়া ট্রি প্লান্টেশনসহ) সহজ-সরল গ্রামবাসীর কাছ থেকে নিয়ে নেয় এসব জমি। ১০ বছরে ডেসটিনির দখলে নেয়া সরকারি সংরক্ষিত বাগানসহ বন বিভাগের ভূমির পরিমাণ প্রায় ২ হাজার একর। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় বন বিভাগের সংরক্ষিত প্রায় ২০০ একর জমি ডেসটিনি গ্র“পের স্থানীয় কর্মকর্তারা জবরদখলে নেয়ার ঘটনায় আদালতে মামলা চলছে। বন বিভাগ প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ টাকার বনজসম্পদ ও ভ্রুমির মূল্য আদায়ের জন্য এ মামলা রুজু করে ৪ বছর আগে।

অন্যমিডিয়া

 

লামা উপজেলার ইয়াংছা, কুমারী, দরদরী, রুপসীপাড়া, গজালিয়া, সরই, আজিজনগর, ফাইতং ও ফাসিয়াখালী এলাকা থেকেই বেশি জমি দখলে নিয়েছে ডেসটিনি। বান্দরবানের পার্শ্ববর্তী চকরিয়া, সাতকানিয়া, পটিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার কিছু অসাধু রাজনৈতিক নেতা, প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং জনপ্রতিনিধি সহায়তা করায় ডেসটিনি বান্দরবানের ৭টি উপজেলায় প্রায় ১২ হাজার পাহাড়ি জমির ‘মালিক’ হয়ে যায়। জানা যায়, জমি শিকারের জন্য উপজেলা ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাসমূহে মাসিক মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দালালচক্র পুষতো ডেসটিনি।

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি বলেন, ডেসটিনিসহ বহিরাগত প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি অবৈধভাবে কিংবা প্রভাব খাটিয়ে পাহাড়ি ভূমি ইজারা বা বন্দোবস্তু গ্রহণকারীদের তালিকা তৈরি করে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেই প্রক্রিয়াও এখনও চলছে।

লামা প্রেস ক্লাব সভাপতি সাংবাদিক প্রিয়দর্শী বড়ুয়া বলেন, এ উপজেলার সাধারণ অসহায় বাসিন্দাদের কাছ থেকে নানামুখী প্রলোভন দেখিয়ে ডেসটিনি প্রচুর জমি দখল করে। বিশেষ করে পাউলোনিয়া ট্রি প্যাকেজের নামে অনেক টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে।

রোয়াংছড়ি উপজেলার সদর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান অংশৈ মং মার্মা এবং ব্যবসায়ী রবিসেন তনচংগ্যা বলেন, পাউলোনিয়া ট্রি প্যাকেজ, সাধারণ বনায়ন ও বিভিন্ন কর্মসূচির অজুহাতে কেবল রোয়াংছড়ি উপজেলা থেকেই ডেসটিনি হাতিয়ে নিয়েছে কোটি টাকারও বেশি। অথচ কোনো ট্রি প্যাকেজ বিতরণ হয়নি।

আলীকদম উপজেলার সমাজ নেতা মংসানু মার্মা, কামাল হোসেন, সৈয়দ আলম ও শামসুল আলম জানান, এ উপজেলায় ডেসটিনি ও বহিরাগত প্রভাবশালীরা ম্রো, ত্রিপুরা ও মার্মা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর শত বছরের ভোগদখলীয় এবং বন্দোবস্তীয় প্রায় ২ হাজার একর পাহাড়ি জমি জবরদখলে নিয়েছে। ডেসটিনির এসব জমি উদ্ধারের দাবিতে একাধিকবার মানববন্ধন, সমাবেশ ও মিছিল হয়েছে উপজেলা সদরে। কিন্তু উপজেলা ও জেলা প্রশাসন সংসদীয় কমিটির সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে যথাযথ উদ্যোগ এখনও না নেয়ায় ভূমিদস্যুরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারীর বাসিন্দা সাবেক সেনা কর্মকর্তা আবদুল হামিদ বলেন, হাতছাড়া হয়ে যাওয়া জমিগুলো উদ্ধারে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া দরকার। তিনি তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দেয়ার দাবি জানান।

জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, অবৈধভাবে ইজারা নেয়া এবং জবল দখল করা পাহাড়ি ভূমি পুনরুদ্ধারে প্রশাসন থেকে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। অবৈধ ভূমি ইজারা গ্রহণ বা বন্দোবস্তু নেয়া ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগও নেয়া হয়েছে।

সূত্র: দৈনিক যুগান্তর

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × 1 =

আরও পড়ুন