র্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর অব্যাহত প্রচেষ্টা, সমন্বিত উদ্যোগ এবং মানবিক তৎপরতার মাধ্যমে মায়ানমার হতে দেশে ফিরেছে বঙ্গোপসাগরে মায়ানমার আরাকান আর্মির হাতে আটক ১৪ জন (বাংলাদেশী-১৩ জন এবং এফডিএমএন-০১ জন) জেলে।
বিগত ২০২৫-২০২৬ সালের বিভিন্ন সময়ে বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে গমনকৃত বেশকিছু বাংলাদেশী জেলে অনিচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করে মায়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করলে তাদেরকে মায়ানমার আরাকান আর্মি ধরে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে, আটককৃত জেলেদের মায়ানমারের অভ্যন্তরে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন ক্যাম্পে স্থানান্তর করা হয় এবং বিভিন্ন মেয়াদে তারা সেখানে আটক অবস্থায় থাকে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মানবিক বিবেচনাকে অগ্রাধিকার প্রদান করে কক্সবাজার রিজিয়নের বিজিবি’র উদ্যোগের ফলে আরাকান আর্মির সাথে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপন করা হয়। দীর্ঘ প্রচেষ্টা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে আটক জেলেদের ধাপে ধাপে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয় এবং পর্যায়ক্রমে তাদের হস্তান্তরের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
এ প্রেক্ষিতে ৯ মে বিজিবি’র একটি প্রতিনিধিদল নাফ নদীর শূন্যলাইনে আরাকান আর্মির নিকট হতে মোট ১৪ জন (বাংলাদেশী-১৩ জন এবং এফডিএমএন-১ জন) জেলেকে গ্রহণ করে টেকনাফ জেটিঘাটে ফেরত নিয়ে আসে। বর্তমানে দেশে ফিরিয়ে আনা জেলেদের তাদের পরিবারের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ইতোমধ্যে স্থানীয় উপজেলা প্রতিনিধি ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ সফল উদ্যোগের ফলে আটক জেলেদের পরিবার-পরিজনের মাঝে স্বস্তি ও আশ্বাসের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আটক জেলেদের প্রত্যাবর্তন একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অবশিষ্ট আটক জেলেদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্যে বিজিবির প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিজিবি সর্বদা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে। মানবিক সংকট মোকাবিলায় বিজিবির পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা ও কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে আটক জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
