রামুর কচ্ছপিয়ায় ভূমিদস্যুর তাণ্ডব, ১ বছর ধরে সরকারি পাহাড় কাটছে সংশ্লিষ্টদের সহায়তায়

fec-image

দেশীয় আইন ও সামাজিক প্রথা না মেনে রামুর কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের বড়জাংছড়ি পশ্চিমকূলে বনবিভাগের (ফাতেরবাপের পাহাড়) একাধিক পাহাড় কেটে সাবাড় করছে একদল ভূমিদস্যূ।

ক্রমে ১ বছর ধরে এ পাহাড়গুলো কেটে তাণ্ডব চালিয়ে নিজে এবং প্রতিবেশীকেও চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে এ চক্রটি। ফলে দিনের পর দিন আতংকে দিন কাটছে এ সব প্রতিবেশীরা।

আর বন বিভাগ বিষয়টি জেনেও কোন রকম ব্যবস্থা না নেয়ায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। কেননা একদিকে পাহাড় কাটা অপরদিকে পাহাড় ধসের মাটি গিয়ে ঘরবাড়ি-উঠোন বা চলাচলের পথ তলিয়ে যাওয়ার আশংকা।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার আবু হানান জানান, পাহাড়টি রামুর বাঁকখালী রেঞ্জাধিন মৌলভীকাটা বনবিটের অধীন। বিএফ (পিএফ) বিধায় এ পাহাড়টিতে সহজে কেউ মাটি কাটতে পারতো না। বন বিভাগের লোকজনের অজ্ঞাতসারে কেউ ঘর বাধলেও পরে তা ভেঙ্গে দেয়া হতো।

কিন্তু বর্তমানে এখানে সব কিছু এক সাথে হচ্ছে। তিনি জনপ্রতিনিধি, তাই-প্রশাসনের লোকজন ব্যবস্থা নিতে চাইলে হয়তো সহায়তা করতে পারতেন । তবে তিনি শংকিত এ জন্যে যে-মাটি কাটার চাইতে পাহাড় ধসের বিষয়টি নিয়ে। কখন কী হয়! অপরাধি মহলটি বিচার-আচার মানে না।

মহিলা মেম্বার তামান্না বেগমের কথাও একই। পাহাড় কাটা আর পাহাড় ধস দুটোই অপরাধ। ফাতের বাপের পাহাড়ে এ নিয়ে দু’গ্রুপের অনেক বিচার তারা করেছেন, কিন্তু মাটি ও পাহাড় কাটা পক্ষটি সহজে কারও কথা শুনেন না। তাতে তাদের করার কী আছে বলে জানান এ প্রতিবেদককে।

অপরদিকে এ পাহাড়ের পাশে বসবাসরত মৃত মো. কালুর পুত্র ছুরত আলম, মো. হোছনের পুত্র জাফর আলম এ প্রতিবেদককে বলেন, এ পাহাড়টিতে যে সব বাড়ি ঘর রয়েছে তাদের অধিকাংশ গরিব। তারা দেশের আইন-কানুন মানে।

কিন্তু একদল রয়েছে ভয়ংকর ও ঝগড়াটে। তারা দেশের আইন কানুন মানে না। নিজের লাভ ছাড়া তারা আর কিছুই বুঝে না। আর তারাই এ পাড়ার বন বিভাগের একাধিক পাহাড় কেটে সাবাড় করছে গত ১ বছর ধরে।

তাদের মতে, স্থানীয় ছৈয়দ আলম, লালু বিবি, রশিদা খাতুন, আবছার কামাল, সানজিদা বেগম, শফিক আহমদ ,মারফত উল্লাহ ও মো. ইউনুছ রা মিলে এ অপরাধের সাথে জড়িত। তারা বিগত ১বছর ধরে সরকারি এ পাহাড়টি কেটে কেটে মাটি ফেলেছে তাদের উঠানে ও সামনের চলাচলের পথে। এতে তাদের সামনের চলাচলের পথটি পর্যন্ত সারা বছর ভরাট হয়ে যায়।

এ নিয়ে গ্রামবাসির সাথে এ ভূমিদস্যুদের ঝগড়া লেগে থাকে সারা বছর। এসব নিয়ে বিচার করেন ওর্য়াড মেম্বার আবু হান্নান ও তামান্না মেম্বার‘সহ অনেকেই।

তারা আরো বলেন, মাটিদস্যুরা ভয়ংকর ও ঝগড়াটে। তাদের সাথে কখা বললেই ঝগড়া লেগে যায়। এখন এলাকার মানুষ অসহায়। বন বিভাগের লোকজন এখানে আসে-চলে যায়। কেন আসে, কেন চলে যায় তারা তা বুঝে না। কেননা মাটি কাটা তো বন্ধ হয় নি।

এখন বাড়িগুলো তাল গাছের মতো মাটি ছাড়া পাহাড়ের চুড়াতে দাড়িয়ে আছে আর নিচে ঘর-বাড়ি। কখন কী হয় আল্লাহ ই জানে। যে কোন সময় পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।সরেজমিন দেখলেই বোঝা যাবে।

নিরপেক্ষ একটি দলের মতে, বন বিভাগের সহায়তায় সব অপরাধ এখানে হচ্ছে। নচেৎ এতো ঘরবাড়ি বিভাবে বাঁধে। গোপনে তদন্ত করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে বলেও তারা দাবি করেন।

এ বিষয়ে প্রতিপক্ষ রশিদা বেগম গংদের দাবি তারা চুড়ার উপরের এ বাড়িঘরে থাকে না। পাশের বাড়িতে থাকে। মাঠি কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, তারা তত কাটেনি, সামান্য কেটেছে। বৃষ্টির পানিতে পাহাড় ধসে মাটি সরে যাচ্ছে। বাকী অপরাধের কথা তারা অস্বীকার করেছেন।

এ বিষয়ে কচ্ছপিয়া (মৌলভীকাটা ) বনবিট কর্মকর্তা শেখ মিজানুর রহমান বলেন, ফাতেরবাপের পাহাড়টি বনবিভাগের। পাহাড় কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি এ মাত্র শুনেছেন তিনি। তাই তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন। অপরাধিকে ছাড় দেবেন না বলেও সাফ জানিয়ে দেন এ প্রতিবেদককে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: পাহাড়, বন বিভাগ, রামু
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twelve − two =

আরও পড়ুন