২০২৫ সালে ৪০৩ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

fec-image

গত এক বছরে সারা দেশে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসার ৪০৩ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। মোট আত্মহত্যাকারীর মধ্যে ২৪৯ জন (৬১.৮%) নারী এবং ১৫৪ জন (৩৮.২%) পুরুষ। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি স্কুল পর্যায়ে, যেখানে ১৯০ জন শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছেন, যা মোট ঘটনার ৪৭.৪০ শতাংশ। কলেজ পর্যায়ে ৯২ জন (২২.৮%) রয়েছে। তা ছাড়া ২৪৯ জন (৬১.৮%) নারী এবং ১৫৪ জন (৩৮.২%) পুরুষ রয়েছে।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভার্চুয়ালি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করে আঁচল ফাউন্ডেশন।

এ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডা. আনিস আহমেদ (কনসালট্যান্ট ফরেন্সিক সাইকিয়াট্রিস্ট, যুক্তরাজ্য), ডা. সৈয়দ মাহফুজুল আলম (মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, যুক্তরাষ্ট্র), ডা. মারুফ আহমেদ খান (সহকারী পরিচালক, টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ), সংগঠনের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সোহেল মামুন ও প্রেসিডেন্ট তানসেন রোজ।

ফাউন্ডেশনের গবেষণা অনুযায়ী, ১৬৫টি জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

শিক্ষা স্তরভিত্তিক চিত্রে দেখা যায়, স্কুল পর্যায়ে ১৯০ জন (৪৭.৪০%), কলেজ পর্যায়ে ৯২ জন (২২.৮%), বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৭ জন (১৯.১০%) ও মাদরাসায় ৪৪ জন (১০.৭২%) আত্মহত্যা করেছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৈশোরের আবেগীয় অস্থিরতা ও পারিবারিক যোগাযোগের ঘাটতি স্কুল শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে ফেলছে।

কারণ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, হতাশা ২৭.৭৯%, অভিমান ২৩.৩২%, একাডেমিক চাপ ৭২ জন, প্রেমঘটিত কারণ ১৩.১৫%, পারিবারিক টানাপোড়েন ৭.৯৪%, মানসিক অস্থিতিশীলতা ৬.২০%, যৌন নির্যাতন ৩.৪৭% এবং সাইবার বুলিং ১ জন নারী শিক্ষার্থী। স্কুল পর্যায়ে অভিমান (৩২.৬১%) এবং একাডেমিক চাপ (২৩.৬৯%) সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার ৬৬.৫০%, যা মোট ঘটনার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। এছাড়া ১২ বছর বয়সী ৪৪ শিশুর আত্মহত্যা দেশকে নাড়া দিয়েছে।

বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১১৮ জন (২৯.২৪%). চট্টগ্রামে ৬৩ জন, বরিশালে  ৫৭ জন ও রাজশাহীতে ৫০ জন।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: আত্নহত্যা
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন