২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনও কিছুটা সময় বাকি থাকলেও সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন নিয়ে আলোচনা ইতিমধ্যেই তুঙ্গে। এবার সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে বিশ্বের শীর্ষ বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকস। তাদের পরিসংখ্যানভিত্তিক মডেলের বিশ্লেষণ বলছে, ২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ের সবচেয়ে বড় দাবিদার দেশ হলো স্পেন।
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে আসরটি। গোল্ডম্যান স্যাকসের হিসাব অনুযায়ী, স্পেনের জয়ের সম্ভাবনা ২৬ শতাংশ।
তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ফ্রান্স, তাদের সম্ভাবনা ১৯ শতাংশ। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা তৃতীয় স্থানে, সম্ভাবনা ১৪ শতাংশ, এর পরে ব্রাজিল (৮%) এবং ইংল্যান্ড (৫%)।
এই পূর্বাভাসে মূলত ব্যবহার করা হয়েছে ‘এলো রেটিং’ পদ্ধতি। এটি মূলত দাবার জন্য তৈরি হলেও বর্তমানে ফুটবলেও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়াও বিশ্লেষণে দলের আক্রমণভাগের শক্তি, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, মানসিক অবস্থা এবং ভৌগোলিক বিষয়গুলিও বিবেচনা করা হয়েছে।
গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, “স্পেনকে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দেখা হচ্ছে কারণ তাদের এলো রেটিং সবচেয়ে বেশি। এছাড়াও তাদের আক্রমণভাগের মান এবং টুর্নামেন্টের আগে দারুণ ছন্দ এই পূর্বাভাসকে আরও শক্তিশালী করেছে।”
অন্যদিকে আর্জেন্টিনার সম্ভাবনা কিছুটা কমেছে ‘উইনার্স স্লাম্প’ প্রভাবের কারণে। অর্থাৎ, শিরোপাধারী দল পরবর্তী বিশ্বকাপে তুলনামূলক কম সফল হওয়ার প্রবণতা হিসাবের মধ্যে রাখা হয়েছে। ফ্রান্সের সম্ভাবনাও কিছুটা কমেছে সম্ভাব্য সেমিফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কায়। ইংল্যান্ডের ক্ষেত্রে অতীতের বড় টুর্নামেন্টে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতার ইতিহাস, ভৌগোলিক কিছু প্রতিবন্ধকতা এবং কঠিন ড্র নেতিবাচক হিসেবে দেখা হয়েছে।
তবে গোল্ডম্যান স্যাকস জানিয়েছে, তাদের পূর্বাভাস বুকমেকারদের হিসাবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, শুধু ইংল্যান্ডের ক্ষেত্রে কিছুটা কম সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে।
বিশ্বকাপ চলাকালীন এই মডেল নিয়মিত হালনাগাদ হবে। ১৯৭৮ সাল থেকে অনুষ্ঠিত প্রায় ২০ হাজার আন্তর্জাতিক ম্যাচের তথ্য ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে এই পূর্বাভাস। প্রতিদিনের ফলাফলের ভিত্তিতে নতুন করে হিসাব করা হবে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়নের নাম।
