উখিয়ায় সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে ২৫ হেক্টর বনভূমি দখলের পাঁয়তারা : সন্ত্রাসীদের সশস্ত্র মহড়া

fec-image

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের উখিয়া রেঞ্জের আওতাধীন পালংখালী ইউনিয়নের মুছারখোলা টহল ফাঁড়ির ২০১২-১৩ সনের ২৫ হেক্টর স্বল্পমেয়াদী সামাজিক বনায়নের জায়গা জোর পূর্বক দখলে নেওয়ার পায়তারা করছে কিছু সন্ত্রাসী মহল। এ নিয়ে সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীরা অবৈধ দলখদারদের হাত থেকে বনায়নটি রক্ষা করার জন্য বনবিভাগের প্রতি উক্ত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন।

সরজমিন এ উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের মোছারখোলা টহল ফাড়ির আওতাধীন গহীণ অরন্যে ঘটনাস্থলে ঘুরে স্থানীয় উপকারভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পালংখালী নলবনিয়া গ্রামের কিছু খারাপ প্রকৃতির লোক বিশাল সামাজিক বনায়নের মাঝখানে বাঁধ দিয়ে মৎস্য ঘের তৈরি করেছে। পাহাড়গুলোতে বেড়ে উঠা সারি সারি বড় আকাশ মণি গাছগুলো কেটে সাবাড় করে ফেলেছে সন্ত্রাসীরা।

স্থানীয় উপকারভোগী ও পালংখালী এলাকার বয়োবৃদ্ধ মোঃ আবদুল্লাহ বলেন, পালংখালী ইউনিয়নের নলবনিয়া গ্রামের কতিপয় ইয়াবা ও মাদক পাচারকারি এবং এক সময়ের মৎস্য ঘেরে কুখ্যাত ডাকাত ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা আমাদের সামাজিক বনায়ন ধ্বংস করে তাদের আস্তানা তৈরি করছে।

পশ্চিম পালংখালী গ্রামের বাসিন্দা ও সামাজিক বনায়নের উপকারভোগী গিয়াস উদ্দিন বলেন, নলবনিয়া এলাকার শতাধিক ডাকাত ও সন্ত্রাসী সশস্ত্র মহড়া দিয়ে রাতের আধারে সামাজিক বনায়নের গাছ গুলো কেটে বনভূমি দখলের বিভিন্ন পায়তারা চালাচ্ছে। আমরা নিরহ গ্রামবাসির তাদের অস্ত্রের সামনে গিয়ে প্রতিবাদ করার ক্ষমতা না থাকায় তারা ভয় করছেনা।

একই কথা ওই গ্রামের মোঃ কালু, ওসমান গণির। তারা বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের দখলকৃত বনভূমি এবং সামাজিক বনায়নের গাছ গুলো কেটে সাবাড় করে ফেলছে সন্ত্রাসীরা। এদের মধ্যে বিশেষ যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারা হলেন পালংখালী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের নলবনিয়া গ্রামের একাধিক মামলার আসামি হাজী আবু কালামের ছেলে আহমদ, একই গ্রামের নজির হোসেনের ছেলে মোঃ ইউছুপ, আবুল হাশেমের ছেলে নুরুল বশর, জাহেদ আলমের ছেলে মোঃ আইয়ুব, মৃত ছব্বির আহমদের ছেলে জাফর আলম, এজাহার মিয়ার ছেলে শাহজাহান, ভুলু মিয়া মিস্ত্রির ছেলে আব্দুল হালিম ও ইসহাকসহ অনেকে৷

উক্ত সামাজিক বনায়নের সেক্রেটারী ফরিদ আলম বলেন, উখিয়া রেঞ্জের পালংখালী ইউনিয়নের মুছারখোলা টহল ফাঁড়ির আওতাধীন ২০১২-১৩ সনের ২৫ হেক্টর স্বল্প মেয়াদী সামাজিক বনায়নের ৬৩ জন উপকারভোগীকে দলিলসহ বুঝিয়ে দেন বনবিভাগ। কিন্তু গাছ গুলো যখন বড় হয়, তখন সন্ত্রাসীদের দৃষ্টি পড়ে৷ যার ফলে নলবনিয়া এলাকার কতিপয় চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা গাছ গুলো কেটে বনভূমি দখলের চেষ্টা করছে৷ ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে মাটি কেটে বাঁধ দিয়েছে। আমরা বনবিভাগের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি এদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য। অন্যথায় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে তিনি জানান।

হেডম্যান মুফিজ উদ্দিন বলেন, এই সামাজিক বনায়নটি দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের পর গাছ গুলো কাটার উপযোগী হলে কিছু সন্ত্রাসীরা অস্ত্র ধরে রাতের আধারে কেটে নিয়ে যাচ্ছে এবং বনভূমি দখলের ষড়যন্ত্র করছে। আমি বিষয়টি বনবিভাগ জানিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, এ অবস্থা হলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে ২৫ হেক্টর সামাজিক বনায়ন ধ্বংস হয়ে যাবে। এতে বনবিভাগ এবং উপকারভোগীরা বড় ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মূছারখোলা টহল ফাড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টি আমি জানার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে যারা অবৈধ দখলে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছি। এদের মধ্যে নলবনিয়া ও পশ্চিম পালংখালীর লোকজন রয়েছে। কিন্তু এরপরেও কতিপয় সন্ত্রাসীরা রাতে আধারে গাছ গুলো কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও তারা কয়েক মাটির বাঁধ দিয়েছে বলে শুনেছি।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: উখিয়া, কক্সবাজার, বনবিভাগ
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

17 − 9 =

আরও পড়ুন