রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

২৮ বছর পর প্রথম সিজারের মাধ্যমে চালু হল অপারেশন থিয়েটার

fec-image

খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থাপনের দীর্ঘ প্রায় ২৮ বছর পর প্রথম চালু হলো অপারেশন থিয়েটার(ওটি)।

শনিবার (৬ জুলাই) সকালে রামগড় পৌরসভার গর্জনতলীর বাসিন্দা মো. রাসেলের স্ত্রী বিবি রহিমার অস্ত্রোপচারে কন্যা সন্তান জন্মদানের মাধ্যমে এ অপারেশন থিয়েটারের কার্যক্রম চালু হয়।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর হাসপাতালের এ অপরেশন থিয়েটার চালু এবং প্রসূতি সেবার নতুন দ্বার উন্মোচন হওয়ায় এ পার্বত্য এলাকার সর্বস্তরের মানুষ অত্যন্ত খুশি।

প্রসূতির স্বামী রাসেল বলেন, ‘গত বুধবার স্ত্রীকে রামগড় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। স্বাভাবিক ডেলিভারি না হওয়ার আশঙ্কায় রোগীকে ফেনী নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। কিন্তু এখানকার ডাক্তারদের কথায় আর কোথাও নিয়ে যায়নি। আজ (শনিবার) এ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আমার কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে সিজারের সুবিধা পাবো প্রথমে বিশ্বাস হয়নি। আজ এখানে এ অকল্পনীয় সুবিধা পেয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।’

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নাছির উদ্দিন বলেন, বুধবার ভর্তি করার পর নরমাল ডেলিভারির জন্য ৩ দিন অপেক্ষা করা হয়। কিন্তু শিশুর অধিক ওজন ও মায়ের কিছু সমস্যার কারণে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এখন মা ও নবজাতিকা দুজনই সুস্থ আছে।

তিনি জানান, গাইনী বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. মাসুমা তাবাচ্ছুম প্রসূতির অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ওটির কার্যক্রম চালু করলেন। এসময় তাকে সহায়তা করেন অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের ডা. হোসেন মো. জাহেদ সরওর্য়াদী. মেডিকেল অফিসার ডা. রোকসানা ইয়াসমিন, সিনিয়র নার্স সুমনা দেবী চাকমা, অনিমা রানী দাসসহ ওয়ার্ডের সকলে। তিনি বলেন, ‘আজকের দিনটি আমাদের সকলের কাছে অত্যন্ত আনন্দের দিন ছিল।’

১৯৯৬ সালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থাপিত হওয়ার পর বিভিন্ন সমস্যার কারণে কমপ্লেক্সের অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার চালু করা সম্ভব হয়নি। এতদিন প্রসূতি অস্ত্রোপচারের সুবিধা না পেয়ে এ পার্বত্য এলাকার বাসিন্দারা ফেনী, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে রোগীদের নিয়ে যেতে হতো। আর্থিকভাবে অসচ্ছল অনেক প্রসূতি অন্যত্র যেতে না পেরে সন্তানজন্মদানকালে মৃত্যুবরণও করতে হয়েছে।

এদিকে, শনিবার (৬ জুলাই) প্রসূতির অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ওটি চালুর উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (এমএনসি ও এএইচ) ডা. মো: নিজাম উদ্দিন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধিদপ্তরের প্রকল্প ব্যবস্থাপক (মাতৃ স্বাস্থ্য) ডা. আজিজুল আলম, ইউনিসেফের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপক ডা. দেওয়ান মো. এমদাদুল হক, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এবিএম মোজাম্মেল হক।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (এমএনসি ও এএইচ) ডা. মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করা এবং মাতৃত্বকালীন মৃত্যুর হার শূণ্যের কোটায় আনার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কাজ করছে। তারই অংশ হিসেবে সকল সমস্যা কাটিয়ে দীর্ঘ ২৮ বছর পর রামগড় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ সেবা চালু করা হলো।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন