৬ দিনেও উদ্ধার হয়নি মাটিরাঙ্গা থেকে অপহৃত চার শ্রমিক : মুক্তিপণ নিয়ে দেন-দরবার চলছে

Follow Up

নিজস্ব প্রতিনিধি:

৬দিনেও উদ্ধার হয়নি খাগড়াছড়ি’র মাটিরাঙ্গা থেকে অপহৃত সেতু উন্নয়ন প্রকল্পের অপহৃত চার শ্রমিক। মুক্তিপণের অঙ্ক নিয়ে অপহৃতদের আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে চলছে সন্ত্রাসীদের দেন-দরবার। নাম প্রকাশ না করা শর্তে এমন তথ্য দিয়েছেন অপহৃতদের স্বজনরা। তবে পুলিশ বলছে, এমন কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।

অপহৃত এক শ্রমিকের স্বজন জানান, অপহরণকারীরা জেএসএস (এমএন) গ্রুপের। মূলত ৫০ হাজার টাকা বাকি চাঁদা পরিশোধ না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে শ্রমিকদের অপহরণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সেতু উন্নয়ন প্রকল্পের ঠিকাদার জেএসএস (এমএন) গ্রুপকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কালেক্টরের মাধ্যমে দেড় লাখ টাকা পরিশোধ করে। বাকি ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করার জন্য দীর্ঘদিন চাপ দিয়ে আসছিল সশস্ত্র (জেএসএস) গ্রুপের লোকজন। কিন্তু ঠিকাদার বাকি টাকা পরিশোধ না করায় শ্রমিকদের অপহরণ করা হয়।

এদিকে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় সেতু উন্নয়ন প্রকল্পের অপহৃত চার শ্রমিকের মুক্তিপণ হিসেবে ১০ লাখ টাকা দাবি করেছে সন্ত্রাসীরা। খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে বৃহস্পতিবার দুপুরে পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন অপহৃত শ্রমিক ফারুক মিয়ার বড় ভাই মো. আইয়ুব আলী। সংবাদ সম্মেলনে বাঙালি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল মজিদ অপহৃত চার শ্রমিককে উদ্ধার ও রাঙ্গামাটিতে বাঙালি নেতাদের দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবিতে আগামী ১৬ জুলাই খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে, অপহৃত রাজু আহমেদের পিতা মো. হাবিব মিয়া নাইট গার্ড সুনতি বিকাশ চাকমা জানান, অপহরণের ঘটনার কয়েক দিন পূর্বেও কয়েকজন পাহাড়ি সন্ত্রাসী মোটর সাইকেল যোগে এসে চাঁদা দাবি করে এবং কাজ বন্ধ রাখতে হুমকি দিয়ে যায়। অপহরণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে মো. হাবিব মিয়া জানান, অপহৃতদের উদ্ধারে ঠিকাদার কোনো ধরনের সহযোগিতা করছেন না। তাই বাধ্য হয়ে নিজেরা চেষ্টা করছি। আজকালের মধ্যে হয়ত ফলাফল আসতে পারে।

অপহৃত ফারুক মিয়ার বড় ভাই মো. আইয়ুব আলী আরো জানান, অপহরণের পর সন্ত্রাসীরা গত সোমবার ও মঙ্গলবার দুই দফায় মাত্র চার মিনিট তার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ করে দেয়। এ সময় তার ছোট ভাই ফারুক কান্নাকাটি করে বলেছে, ‘১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ না দিলে অপহরণকারীরা তাদের ছাড়বে না।’

মাটিরাঙা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাঈন উদ্দিন খান জানান, এবিষয়ে থানায় মামলা হয়েছে। আমরা তদন্তের পাশাপাশি সেনাবাহিনীকে নিয়ে অভিযান চালাচ্ছি। এর চেয়ে বেশি তথ্য আমাদের কাছে নেই।

উল্লেখ্য, গত ৬ জুলাই রবিবার রাতে খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম আঞ্চলিক সড়কের মাটিরাঙার ব্যাঙমারা এলাকায় নির্মাণাধীন সেতু উন্নয়ন প্রকল্পের চার শ্রমিক বুলডোজার চালক রাজু আহমেদ, বুলডোজারের হেলপার হাসান মিয়া, মো. ফারুক মিয়া ও লিয়াকত আলীকে অপহরণ করে সন্ত্রাসীরা।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

10 − four =

আরও পড়ুন