parbattanews

অগাস্টিনা চাকমার বিরোধিতা কেন?

মেহেদী হাসান পলাশ, এই প্রবন্ধের লেখক।

অগাস্টিনা চাকমা

জাতিসংঘের সদর দপ্তর, নিউইয়র্কে ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ইউএনপিএফআইআই-এর ২৫তম অধিবেশন শুরু হয়েছে এবং এটি ১ মে ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। এই অধিবেশনে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস)-এর তিনজন প্রতিনিধি— চঞ্চনা চাকমা, অগাস্টিনা চাকমা এবং প্রীতি বিন্দু চাকমা— অংশগ্রহণ করছেন।

এছাড়া, বাংলাদেশ থেকে আদিবাসী জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে এআইপিপির মহাসচিব পল্লব চাকমা, আদিবাসী জনগণের অধিকার বিষয়ক বিশেষজ্ঞ প্রক্রিয়া (EMRIP)-এর ড. বিনোতা ময় ধামাই এবং এআইওয়াইপি-এর টনি চিরানও অধিবেশনে অংশগ্রহণ করছেন। এছাড়াও কানাডার সিএইচটি আদিবাসী জনগণের কাউন্সিলের প্রতিনিধি খোকন চাকমা সহ আরো কয়েকজন এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছে। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নিয়েছে, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্র সচিব।

সম্মেলনের একটি অধিবেশনে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির প্রতিনিধি অগাস্টিনা চাকমা বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামে জুম্ম নারী ও শিশুরা প্রতিদিন ঘুম থেকে জেগে ওঠে এই অনিশ্চয়তা নিয়ে যে তারা পরবর্তী হামলা থেকে বাঁচতে পারবে কিনা। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিতে দেওয়া আত্মনিয়ন্ত্রণ, ভূমির মালিকানা এবং সাংস্কৃতিক সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতিগুলো ভেঙে পড়েছে, যার ফলে তারা প্রতিনিয়ত সহিংসতা ও বঞ্চনার মুখোমুখি হচ্ছে।” তিনি তার বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাবলি পর্যবেক্ষণ ও সমাধানে একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক সংস্থা গঠনে জাতিসংঘের এই ফোরামে প্রস্তাব দেন।

অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া জেএসএস এর আরেক প্রতিনিধি চঞ্চনা চাকমা বলেন, চঞ্চনা চাকমা সীমান্ত সড়ক নির্মাণের সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্ভাব্য জায়গাসমূহ আত্মসাৎ করছে এবং তারা পর্যটন উন্নয়নের পরিকল্পনা করছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৪ সালে, ২৬তম ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন (ইসিবি) রাঙামাটি জেলার বিলাইছড়ি ও জুরাছড়ি এলাকায় অবস্থিত গাছবাগান পাড়া ও থুমপাড়া নামে দুটি গ্রামে ২৩টি জুম্ম পরিবারকে উচ্ছেদ করেছে এবং ১৭টি পরিবারকে জুমচাষে বাধা প্রদান করেছে।

এছাড়াও এ জেএসএস ও বাংলাদেশের আদিবাসী দাবী করে অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া আরো যে সকল ব্যক্তি এই সম্মেলনে বক্তব্য রেখেছেন তাদের বক্তব্য একই ধাঁচের। এরপর থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে ও ঢাকায় উক্ত অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে সভা, সমাবেশ ও প্রতিবাদ মিছিল হচ্ছে। মূলত পার্বত্য বাঙ্গালীদের সংগঠনগুলো এই প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করছে।

এ ধরনের একটি সমাবেশে আমি নিজেও আমন্ত্রিত হয়েছিলাম। কিন্তু যাইনি। এর প্রধান কারণ, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ঢাকায় যে প্রতিবাদ সমাবেশগুলো হয়েছে সেগুলো মূলত সেখানে অংশ নেয়া পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিনিধিদের দেয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ হিসেবে। বিশেষ করে অগাস্টিনা চাকমার বক্তব্যের প্রবল প্রতিবাদ করা হচ্ছে এসব সমাবেশ থেকে। সমাবেশগুলোর ব্যানারে তার নাম ও ছবি বড় করে উল্লেখ থাকছে। এই অগাস্টিনা চাকমার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশকে আমার কাছে ছায়ার সাথে যুদ্ধ বলে মনে হয়। সে কারণে এই ছায়ার সাথে যুদ্ধে নিজেকে জড়াতে আগ্রহ জন্মেনি।

অগাস্টিনা চাকমা জন্মসূত্রে একজন কানাডিয়ান নাগরিক। পেশাগতভাবে একজন মডেল। বাংলাদেশে আদৌ কখনো এসেছেন কিনা আমার জানা নেই। পার্বত্য চট্টগ্রামে কয়টা উপজেলা আছে, কয়টা নদী আছে তিনি জানেন বলে আমার মনে হয় না। আনুষ্ঠানিক প্রোগ্রাম ছাড়া সারা বছর পার্বত্য চট্টগ্রাম ও এর জনগোষ্ঠীর কোন বিষয়ের সাথে তার কোন সম্পৃক্ততা থাকে না। তার ব্যস্ত ও পেশাগত জীবনের কারণে সেটি সম্ভবও নয়। বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক বলতে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতির সভাপতি সন্তু লারমার মেয়ের মেয়ে। অর্থাৎ মেয়ের ঘরের নাতনি। নানার খবর নেয়া ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামের আর কোন খবর তিনি স্বাভাবিক সময়ে নিতে পারেন কিনা বা নেন কিনা আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে। অপরদিকে চঞ্চনা চাকমাও সন্তু লারমার আত্মীয়।

তাহলে এরকম একজন ব্যক্তি কোন প্রটোকলে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিনিধি হিসেবে জাতিসংঘে প্রতিনিধিত্ব করছেন? কে তাকে সেখানে পাঠিয়েছেন? কে তাকে এই বক্তব্য লিখে দিয়েছেন ও পাঠ করার অনুমতি দিয়েছেন? উত্তর অবশ্যই জেএসএস সভাপতি সন্তু লারমা। তিনি সেখানে যা বলেছেন তা পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির অথরিটিতেই বলেছেন। সন্তু লারমার অথরিটিতেই বলেছেন। তাহলে যদি প্রতিবাদ করতেই হয় সেটা করা উচিত সন্তু লারমার বিরুদ্ধে, জনসংহতি সমিতির বিরুদ্ধে। সেটা না করে অগাস্টিনা চাকমার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ ঘাতকের পরিবর্তে পিস্তলের বিরুদ্ধে মামলা করার মত। এই ছায়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে শামিল হতে আমার মন সায় দেয়নি। সে কারণে এ নিয়ে কিছু লিখিও নি।

গত প্রায় ২০ বছর ধরে এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত এই জাতিসংঘ আদিবাসী বিষয়ক সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। ১/১১ সরকারের আমলে বিশেষ সহকারি হয়েই সরকারি প্রটোকলে এই সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়। সে সময় তার চরম বিতর্কিত বক্তব্যের প্রতিবাদে লিখেছিলাম। মন্ত্রণালয় তার দায়িত্ব পালনকালে তিনি সার্কুলার জারি করেছিলেন, বাংলাদেশে আদিবাসী নেই। অথচ তিনি নিজে ওই সম্মেলনে বেশ কয়েকবার অংশ নিয়েছেন। এখন তার দ্বিতীয় স্ত্রী ইয়ান ইয়ান দেশে-বিদেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে।

রাখাইন সম্প্রদায়ের এই নারী বিলাইছড়ির মারমা যুবতীদের ধর্ষণের বানোয়াট অভিযোগ প্রচার করতে গিয়ে রাঙামাটি সদর হাসপাতালে প্যাদানি খেয়েছিলেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর বেরিয়েছিল। প্রায় প্রত্যেকবারই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা সেখানে নিজেদের অধিকারের পাশাপাশি রাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বক্তৃতা দিয়ে থাকে। এছাড়াও বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রতিনিধি দল সেখানে অবজারভার হিসেবে অংশগ্রহণ করে। তারাও সেখানে সরকারি ব্যাখ্যা প্রদান করে থাকে। এরপর ঢাকায় ও পার্বত্য চট্টগ্রামের এ নিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখি হয়। এটা একটা বাৎসরিক ইভেন্টে পরিণত হয়েছে।

আমি অনেকবার বলেছি, বাংলাদেশ সরকার যেহেতু সাংবিধানিকভাবে এখানে আদিবাসী বলে কাউকে স্বীকার করেনি, তাহলে এই সমাবেশে বাংলাদেশ কেন অংশগ্রহণ করবে? কেন বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের আদিবাসী নাম দিয়ে উক্ত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের অনুমতি দেবে, যেতে দেবে? অংশগ্রহণকারীরা এই সম্মেলনে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী যে সকল প্রস্তাব ও বক্তব্য অতীতে বিভিন্ন সময় দিয়েছে, দেশে ফেরার পর বাংলাদেশ সরকার কি কখনো তাদের কাছে এ ব্যাপারে জবাবদিহি চেয়েছে? এ সমস্ত রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্যের জন্য তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে? যে সকল এনজিও এই যাতায়াতে ফান্ডিং করে থাকে তাদের আয়-ব্যয়ের হিসেব প্রতিবছর তো সরকারই অনুমোদন করে থাকে। এই ব্যয় নিয়ে কখনো কি প্রশ্ন তুলেছে? সরকার চাইলে তো এই ব্যক্তিগুলোর কাছে তাদের বক্তব্যের জন্য জবাবদিহি চাইতে পারতো? এনজিওগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারত। কিন্তু কিছুই করেনি গত ২০ বছরে।

বরং সরকার নিজে যেটা স্বীকার করে না সেই সম্মেলনে প্রতিবছর রাষ্ট্রীয় অর্থ খরচ করে সরকারি টিম প্রেরণ করে থাকে। এটি মূলত সরকারি কর্মকর্তাদের এক ধরনের প্লেজার ট্রিপে পরিণত হয়েছে। কারো জন্য এটা প্রথমবার মার্কিন ভিসা লাগানোর উপলক্ষ, আবার কারো জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের উপলক্ষ। এ সকল টিমে অধিকাংশ সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নেতৃত্ব দেন। কয়েক বছর আগে অংশ নেয়া এক সচিব আমাকে বললেন, তার সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে থাকে। বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি সন্তানের সাথে দেখা করার জন্য সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, কিন্তু নানা কারণে হয়ে ওঠেনি। এবারে সেই সুযোগটা নিতে চান।

এসব সম্মেলনে সরকারি টিম যে বক্তব্য রাখে দেশে বসে তা শোনা ও দেখার সুযোগ হয়েছে আমার বহুবার। এগুলো একেবারেই গতানুগতিক সরকারি ব্যাখ্যা। অন্য পক্ষ যেভাবে বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ ও ঘটনাবলী উল্লেখ করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বা সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখে তা খন্ডন করতে দেখিনি কখনো তাদের। সেটা সম্ভবও নয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাজ মূলত সরকারি প্রতিষ্ঠান তদারকি ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা। এর বাইরে আর কোন কিছুর খোঁজ খবর তারা রাখে না, কখনো রাখেনি।

এক বছর বা দুই বছর মেয়াদে দায়িত্বে এসে একজন সচিবের পক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো হাইলি টেকনিক্যাল বিষয়ে জানাও সম্ভব নয়। কিন্তু সেখানে তারা কোন এক্সপার্ট নেন না। যে পার্বত্য বাঙালিদেরকে এই রাজপথে মিছিল করানো হচ্ছে তাদেরকেও কখনো এই টিমে অন্তর্ভুক্ত করেন না। কদাচিৎ নাম প্রস্তাবিত হলেও তা কেটে দিয়ে কোন সরকারি কর্মকর্তার নাম বসিয়ে দেন। মাঝেমধ্যে অবশ্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোন কোন সদস্য অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। পেশাগত কারণে তাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কে অভিজ্ঞতা থাকায় তাদের পক্ষে এ বিষয়গুলোর কাউন্টার করার সক্ষমতা থাকলেও সরকারি নীতি ও প্রোটকলে সেগুলো কখনো করার সুযোগ পাননি।

এই সম্মেলনে পার্বত্য বাঙালির কোন প্রতিনিধি কখনো সংযুক্ত করা না হলেও সেখানে দেয়া রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন বক্তব্যের প্রতিবাদ কিন্তু সব সময় এরাই করে থাকে। এটা নিয়েও আমার প্রশ্ন আছে। রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশে যত আলাপ-আলোচনা, সভা, সেমিনার হয়, সেগুলো কিন্তু কেবল কক্সবাজার জেলার বাসিন্দারা করে না। বরং সমগ্র বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী, নাগরিক সমাজ, রাজনীতিবিদরা এতে আয়োজক হিসাবে বা আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করে থাকে। তাহলে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা নিয়ে কেবল পার্বত্য বাঙ্গালীদের কথা বলতে হবে? অথবা পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা নিয়ে কথা বলতে কেবল পার্বত্য বাঙালিদেরকেই ঠেলে দেয়া হবে? এভাবে এই জনগোষ্ঠী প্রান্তিকীকরণ ও বিতর্কিত হয়ে পড়ছে। তাদেরকে স্যাটেলার বলে গালি দেয়া হচ্ছে। তাদের পার্বত্য চট্টগ্রামে যাওয়া ও বসবাস নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।

যদি রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে সমতলের বুদ্ধিজীবীরা কথা বলতে পারে, যদি সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াত নিয়ে সারা বাংলাদেশের মানুষ কথা বলতে পারে, তাহলে সেন্টমার্টিন এর থেকে বহু গুণে বড় পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা নিয়ে সারাদেশের মানুষ কেন কথা বলবে না? কেন পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যাকে ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা’ হিসেবে না দেখে বাংলাদেশের সমস্যা হিসেবে দেখা হবে না? রোহিঙ্গা সমস্যাকে তো কক্সবাজারের সমস্যা বলা হয় না।

এভাবেই পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যাকে ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা’ হিসেবে মার্কিং করে সারা দেশের থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে স্বাধীনতার পর থেকে। ফলে এই সমস্যা নিয়ে জাতীয় মনোযোগ, সচেতনতা ও গুরুত্ব তৈরি হয়নি। ফলে অগাস্টিনা চাকমার রাষ্ট্র বিরোধী বক্তব্যের প্রতিবাদ কেবল পার্বত্য বাঙ্গালীদের করতে হচ্ছে।
অগাস্টিনা চাকমা জাতিসংঘে যা কিছু বলেছেন তা পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ও সন্তু লারমার অনুমোদিত বক্তব্য। কাজেই এই বক্তব্যের জন্য যদি কারো বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হয় তাহলে সন্তু লারমার বিরুদ্ধে, জেএসএসের বিরুদ্ধে করা উচিত। বাংলাদেশ রাষ্ট্র কি সন্তু লারমাকে ডেকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করার সক্ষমতা রাখে? কেন তিনি প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করার পরেও তার নাতনিকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্বার্থ বিরোধী বক্তব্য রাখার জন্য পাঠিয়েছেন?

এই যে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্রে গেল তার জন্য আঞ্চলিক পরিষদের সরকারি বাজেট থেকে কোন অর্থ ব্যয় করা হয়েছে কিনা? তিনি সরকারি পদে দায়িত্ব পালন করে কিভাবে সরকারি অবস্থানের বিরুদ্ধে আদিবাসী দাবি করে প্রতিনিধি দল জাতিসংঘে পাঠালেন? পার্বত্য চট্টগ্রামকে উপজাতি অধ্যুষিত এলাকা বলে শান্তি চুক্তি করে কিভাবে নিজেকে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি পদের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন?

একই প্রশ্ন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহৃতি সমিতিকেও করা যায়। এই সংগঠনটি বাংলাদেশের সংবিধানের প্রতি অবিচল আনুগত্য পোষণ করে কিভাবে অসাংবিধানিক দাবি করতে পারে দেশে ও বিদেশে? এই সংগঠনের সিনিয়র নেতারা আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য হিসেবে সরকারি বেতনভুক্ত ও সুবিধাপ্রাপ্ত। তাহলে কি করে তারা সরকারি অবস্থানের বিরুদ্ধে নিজেদের দাঁড় করাতে পারে? বাংলাদেশ রাষ্ট্র এ সকল প্রশ্ন সরকারি পদধারি সন্তু লারমা ও জেএসএস এর সিনিয়র নেতাদের যতদিন করতে না পারবে এবং এর দায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে না পারবে ততদিন এ ধরনের প্রতিবাদ সভা সমাবেশ ও মিছিল এবং লেখালেখিতে কোন সমাধান আসবে না। যে সকল এনজিও ও এর কর্মকর্তারা বিপুল ব্যয়ে এই সম্মেলনে অংশ নিয়ে থাকে তাদের ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় এখন।

আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানে এটি সর্বোৎকৃষ্ট সময়। পার্বত্য চট্টগ্রামের বিরোধিত বিষয়গুলো যদি এখন সমাধান না করা যায় তাহলে আর কখনোই করা যাবে কিনা সে সন্দেহ থেকেই যায়। কাজেই রাষ্ট্র যদি সমস্যার সমাধান করতে চায় তাহলে, এর উৎসে যেতে হবে। পাহাড়ের নিচে বাঁধ দিয়ে ঝরনার পানি আটকানো যায় না।

লেখক : সম্পাদক, পার্বত্যনিউজ ও চেয়ারম্যান, সিএইচটি রিসার্চ ফাউন্ডেশন, ঢাকা।

Exit mobile version