‘আমরা আলেম-ওলামারা হলাম প্রভু ভক্ত প্রাণীর মতো’
আলমগীর মানিক, রাঙামাটি:
নিজেকে প্রভুভক্ত প্রাণী দাবি করে প্রভু ভক্ত প্রাণীর মতো আচরণ করার ওয়াদা দিলেন রাঙামাটি জেলাধীন কাপ্তাইয়ের নুরীয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুস সাকুর। শুক্রবার রাঙামাটি জেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে রাঙামাটি জেলার সন্মানিত ওলামা মাশায়েখদের সাথে পরিষদ চেয়ারম্যানের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি নিজেকে প্রভূভক্ত দাবি করেন। সভায় বক্তব্য রাখার এক পর্যায়ে তিনি আলেম ওলামাদেরকে প্রভূভক্ত হিসেবেও আখ্যায়িত করেন।
রাত আটটায় পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আল-হাসনাইন তা’লীমূল কোরআন সেন্টারের উদ্যোগে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মতবিনিময় করেন রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা।
তা’লীমূল কোরআন সেন্টারের সভাপতি ও রাঙামাটি জেলা ওলামালীগের সভাপতি মাওলানা ক্বারী ওসমান গণির সভাপতিত্বে এই মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রী কতৃক নিয়োগকৃত ইসলামীক ফাউন্ডেশনের কো’অর্ডিনেটর ও কেন্দ্রীয় মহিলা লীগের দপ্তর সম্পাদক কামরুন্নেছা মান্নান। রাঙামাটি আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান, জেলা মহিলা লীগের আহবায়িকা জেএফ আনোয়ার চিনু, জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ পরিষদের সভাপতি হাজ্বী কামাল উদ্দিন, জেলা কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মতিন, পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মনসুর আহম্মেদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা ওলামালীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ নাজমুল হক ইয়ামেনী।
মহাজোট সরকারের প্রায় শেষ সময়ে এসে রাঙামাটি জেলার কয়েকটি উপজেলার আলেমদেরকে ডেকে এনে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত করে মূলত ইমামদের দ্বারা স্ব স্ব এলাকায় সরকারের পক্ষে প্রচারনা চালানোর কৌশল হিসেবেই এই মতবিনিময় সভার আয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন আগতরা। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমনই তথ্য প্রকাশ করলেন কাপ্তাই নূরীয়া আলীয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুস সাকুর। তিনি বলেন, আমাদের কোনো প্রকার পূর্ব প্রস্তুতি নাই, আমরা শুনেছি এক রকম, আর এখানে এসে দেখছি এটা সরকারের পক্ষে প্রচারনা চালানোর জন্য আমাদের আজকের এই মতবিনিময় সভা। এটা হলো রাজনৈতিক প্লাটফর্ম।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে এই মাওলানা নিজের পরিচালিত মাদ্রাসাটির অবকাঠামোগত উন্নয়নে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণের পাশাপাশি আরো বলেন, স্যার এই আলেম ওলামারা ইসলামীক ফাউন্ডেশনের পয়সা খানেয়ালা। তারা এই ইসলামীক ফাউন্ডেশনের বেতনভূক্ত কর্মচারি। এক পয়সা, এক টাকা অথবা এক লাখ টাকা বেতন দিক না কেন ? তারা কেউ কিছু বলেনা, স্যার আপনি যদি জিজ্ঞাসা করে থাকেন তাহলে তারা তাদের অভিযোগের কথা বলতে পারবে অন্যথায় নয়। আলেম ওলামারা সকলেই জানে এই ইসলামীক ফাউন্ডেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সৃষ্টি তাই সবাই এটা স্বরণ রেখে চলে।
চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মাওলানা সাকুর আরো বলেন, স্যার আমরা আলেম ওলামারা খুবই নীরিহ ও গরীব তাই আমরা আপনাদের কাছে আসতে পারিনা। তাই স্যার আপনার কাছে আমার অনুরোধ থাকবে কিছু আলেম-ওলামার মাধ্যমে খোজঁ খবর নিয়ে তালিকা তৈরি করে আপনি কিছু ওলামাদেরকে সামান্য টাকা-পয়সা দিয়ে কিছু মক্তব, মাদ্রাসার ঘর তৈরি করে দিলে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসরত আলেম-ওলামারা আপনার প্রতি ও দলের প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবে এবং দলের পক্ষে কাজ করতে পারবে। আপনার কৌশলগত অবস্থানে থাকিয়া স্যার আপনি যদি তাদেরকে সাহায্য সহযোগিতা করেন কোনো দিন তারা আপনার কথা ভূলবেনা।
ওলামারা অনেক তুচ্ছ মানুষ উল্লেখ করে মাওলানা সাকুর বলেন, স্যার আপনার গায়ের কোর্টটার দাম পাচঁ হাজার টাকা আর আমার গায়ের এই পাঞ্জাবি টা হলো পাচঁশ টাকা। স্যার আমরা আলেম ওলামারা বেশি কিছু চাইনা, আমাদের চাহিদা সীমিত। স্যার আমরা আলেম ওলামারা হলাম একটা প্রভুভক্ত প্রাণী, যে প্রাণীটি সামান্য খাদ্যের বিনিময়ে সারারাত পাহারা দিয়ে তার প্রভূ ভক্ত বজায় রাখে, ঠিক তেমনি আলেম ওলামারা আপনার সামান্য সাহায্যের চাইতে বেশি কিছু চাইনা স্যার।
এছাড়া এই মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ইসলামীক ফাউন্ডেশনের কোঅর্ডিনেটর কামরুন্নেছা মান্নানের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষন করে সঞ্চালক ওলামালীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ নাজমুল হক ইয়ামেনী পার্বত্য রাঙামাটিতে আরো ১’শ গণশিক্ষা কেন্দ্র চালুর দাবি জানালে অতিথি কোঅর্ডিনেটর সবগুলো না পারলেও বর্তমান সরকারের মেয়াদে সামান্য কিছু হলেও চালু করা হবে বলে জানান। এছাড়া মতবিনিময় সভায় লংগদু থেকে আগত মাওলানা আমিনুর রশীদের একটি প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে কামরুন্নেছা মান্নান আগামীতে বর্তমান সরকার আবারো ক্ষমতায় আসলে, গণশিক্ষা কার্যক্রমকে রাজস্ব খাতে নিয়ে যাওয়া হবে জানিয়ে ইমামদের জন্য বেতন কাঠামো তৈরির পাশাপাশি বিগত ২০০৬ সালে গঠিত মসজিদ নীতিমালা বাস্তবায়নের ব্যাপারেও পদক্ষেপ নেবেন বলেও জানান।


















