আরাকান আর্মির তাড়া খেয়ে ঢুকে পড়েছে বাংলাদেশে

টেকনাফে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ৫০ সদস্য আটক

fec-image

​মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরকান আর্মির (এএ) তাড়া খেয়ে টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে ঢুকে পড়েছে আরাকানের ৫০ জন রোহিঙ্গা। বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের পর আরাকানের এই ৫০ জন রোহিঙ্গাকে আটক করে হেফাজতে নিয়েছে বিজিবি ও পুলিশ।

বিজিবির দাবি, আটক রোহিঙ্গারা আরাকানের সশস্ত্র গ্রুপের সদস্য। আটক ৫০ জনের মধ্যে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির ৩ জন, রোহিঙ্গা ইসলামী মাহাস’র ১৮ জন, আরাকান রোহিঙ্গা আর্মির ২৯ জন এবং বাকি ২ জন রোহিঙ্গা কাঁকড়া শিকারি।

পার্বত্যনিউজের টেকনাফ প্রতিনিধি জানান, ​মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরকান আর্মি (এএ) ও রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে উত্তাল হয়ে উঠে সীমান্ত এলাকা। দু’পক্ষের এই লড়াইয়ে টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় হুজাইফা সুলতানা আফনান (৯) নামে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়ে। এছাড়া প্রাণভয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় আরসাসহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর ৫০ সদস্যকে হেফাজতে নিয়েছে বিজিবি ও পুলিশ। এসময় আরও ২ জন রোহিঙ্গা কাঁকড়া শিকারিকে আটক করা হয়।

হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকয় সরেজমিনে ঘটনাস্থলে দেখা যায়, নাফনদীর বিলাইছরি ও হাসরদ্বীপে ধোঁয়ার কুন্ডলী দেখা যায়। স্থানীয়রা কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক অবরোধ করে রাখে। পরে সেনাবাহিনী ও উখিয়া টেকনাফের সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী ঘটনাস্থলে এসে ক্ষুব্ধ জনতাকে শান্তনা দেন এবং অবরোধ তুলে নেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার দিবাগত রাত থেকে আজ রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত মিয়ানমার সীমান্তে দুপক্ষের মধ্যে ব্যাপক গুলি বিনিময় হয়। সকালের দিকে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায় আরকান আর্মি। হামলায় টিকতে না পেরে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা পিছু হটলে আরকান আর্মি তাদের তাড়া করে বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন বেড়িবাঁধ পর্যন্ত চলে আসে।

টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউপির তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় হঠাৎ করে সীমান্তের ওপার থেকে আসা গুলি শিশু আফনানের গায়ে লাগে। সে স্থানীয় হাজী মোহাম্মদ হোছন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। ​মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে প্রথমে এমএসএফ হাসপাতালে এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, হুজাইফা চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেঁচে আছে।

সীমান্তের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ৫০ জন সদস্যকে আটক করে হেফাজতে নিয়েছে বিজিবি ও পুলিশ। তাদের মধ্যে ৩-৪ জন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রয়েছে বলে জানা গেছে। এসময় আটক করা হয় আরো ২ জন রোহিঙ্গা। তারা কাঁকড়া শিকারে গিয়েছিল।

কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহি উদ্দিন আহমেদ ৫০ জনকে হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এব্যাপারে সন্ধায় মিডিয়াকর্মীদের প্রেস ব্রিফিং করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে সীমান্তের এই উত্তেজনায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ক্ষুব্ধ জনতা সড়ক অবরোধ করলে পরে সেনাবাহিনী ও শাহজাহান চৌধুরীর হস্তক্ষেপে তা তুলে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে উখিয়া টেকনাফের সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে ক্ষুদ্ধ জনতা ও আহত পরিবারের সদস্যদের শান্তনা দেন।

এব্যাপারে স্স্থানীয় বাসিন্দা ছৈয়দ আলম বলেন, শনিবার রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত আরসা ও আরকান আর্মির সাথে প্রচুর শব্দ শোনা যায়। একপর্যায়ে আরসার সদস্যরা আরকান আর্মির তাড়া খেয়ে এপারে চলে আসে। তাদের গুলাগুলিতে শিশুটির কানের পাশে গুলি লাগে এবং মাটিয়ত লুটিয়ে পড়ে। আমরা খুবই অনিরাপদ ও আতংকের মধ্যে রয়েছি।

বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় বিপুল সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন সাময়িকভাবে শান্ত থাকলেও স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোকন কান্তি রুদ্র জানান, আরসাসহ ৫০ জন বিদ্রোহী রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর সদস্যকে হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাদের টেকনাফ মডেল থানায় সোপর্দ করা হবে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: কক্সবাজার, টেকনাফ, রোহিঙ্গা
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন