parbattanews

ইরানে বিশ্বের ব্যয়বহুল বি-টু স্পিরিট বম্বার দিয়ে হামলা চালালো যুক্তরাষ্ট্র

শনিবার ৬টি বি-টু স্পিরিট বম্বার বিমান দ্বারা ইরানের পারমাণবিক ৩টি কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরান তাদের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কথা স্বীকার করলেও এতে তেমন বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে দাবি করছে। ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রসমূহ বড় ধরনের হামলার শিকার হতে পারে, তাই আগে থেকেই সরিয়ে ফেলা হয় গুরুত্বপূর্ণ সব পারমাণবিক উপকরণ।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ব্যবহৃত বিশ্বের ব্যয়বহুল বোমারু বিমান বি টু স্পিরিট বিমান হলো এমন এক বোমারু বিমান যা মাটির নিচে ৬০ মিটার গভীরতায় অবস্থিত স্থাপনায় আঘাত করতে সক্ষম । তাছাড়া ৩০ হাজার পাউন্ডের বোমা জিবিইউ ৫৭ শুধুমাত্র এই বিমানই নিক্ষেপ করতে পারে।

কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের চার হাজার কিলোমিটারের মধ্যে থাকা একটি বিমানঘাঁটিতে এই ধরনের কয়েকটি বিমান নিয়ে প্রস্তুত রাখে। তবে দুদিন আগে এই ধরনের কয়েকটি বিমান ইরান থেকে প্রায় সাড়ে নয় হাজার কিলোমিটার দূরের বিমান ঘাঁটিতে নিয়ে রাখা হয়।

বি টু স্পিরিট বম্বার বিমান হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ভারী বোমারু বিমান। এই বিমান রাডার দ্বারা সহজে শনাক্ত করা যায় না এবং বড় ধরনের আকাশযুদ্ধের উপযোগী করে এটিকে নির্মাণ করা হয়েছে। এটি প্রচলিত ও নিউক্লীয় উভয় প্রকার বোমা বহন ও বর্ষণ করতে পারে। এই বিমানের উচ্চ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচের জন্য এটি মার্কিন কংগ্রেস ও পেন্টাগনে বেশ কিছু বিতর্ক তৈরি করে। উচ্চ নির্মাণ ব্যয়ের কারণে ১৯৮০-র দশকের শেষ ভাগ থেকে ১৯৯০-র দশকে, মার্কিন কংগ্রেস প্রাক্কালিত ১৩২টি বিমান নির্মাণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে মাত্র ২১টি বিমান নির্মাণ করা হয়।

প্রতিটি বি-২ বোমারু বিমানের গড় নির্মাণ ব্যয় ৭৩ দশমিক ৭ কোটি মার্কিন ডলার। এছাড়া প্রতিটি বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় গড়ে প্রায় ৯২ দশমিক ৯ কোটি মার্কিন ডলার, যার মধ্যে আছে খুচরো যন্ত্রাংশ, বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপকরণ, রেট্রোফিটিং এবং সফটওয়্যার সাপোর্ট। এই বিমান নির্মাণ প্রকল্পে প্রতিটি বিমানের ক্ষেত্রে গড়ে মোট ব্যয় হয়েছে ১৯৯৭ সালে ডলারের মূল্যমান অনুযায়ী প্রায় ২১০ কোটি মার্কিন ডলার এবং এর মধ্যে আছে উন্নয়ন, প্রকৌশল, পরীক্ষণ প্রভৃতি ব্যয়।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর মোট ২০টি বি-২ স্পিরিট পরিচালনা করছে। এই বিমানে আরোহীর সংখ্যা দুই জন। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাসমূহে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি বি-২ বোমারু বিমান অংশ নেয়। বিমানগুলো থেকে মাটির গভীরে অবস্থিত ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনার ওপর এক ডজন ৩০ হাজার পাউন্ড ওজনের বাঙ্কার বাস্টার বোমা ফেলা হয়েছে।

রোববারের ভোরে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলাকারী বি-২ বিমানগুলো মিসৌরিতে অবস্থিত ঘাঁটি থেকে প্রায় ৩৭ ঘণ্টা একটানা উড়ে যায়। এই দীর্ঘ যাত্রাপথে বিমানগুলো মাঝ-আকাশেই কয়েকবার জ্বালানি ভরে নেয়।

এর আগে নিউইয়র্ক টাইমসসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানায়, যুক্তরাষ্ট্র প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দিকে অন্তত দুই থেকে চারটি বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমান মোতায়েন করেছে। ইরানের পর্বতের নিচে অবস্থিত অত্যন্ত সুরক্ষিত ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করতে সক্ষম বোমা বহন করতে পারে এসব বিমান। এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের প্রধান তিন পারমাণবিক স্থাপনায় অত্যন্ত সফল হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ফোরদো ধ্বংস হয়ে গেছে।

তবে ইরান তাদের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কথা স্বীকার করলেও এতে তেমন বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে দাবি করছে। ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রসমূহ বড় ধরনের হামলার শিকার হতে পারে, তাই আগে থেকেই সরিয়ে ফেলা হয় গুরুত্বপূর্ণ সব পারমাণবিক উপকরণ।

Exit mobile version