কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ঈদগাঁও নদীর বাঁধে সৃষ্ট বিপদজনক ফাটল স্থান পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মংচিংনু মার্মা।
১৩ জুলাই (সোমবার) সকালে উপজেলা নির্বাহী কার্যালয় সংলগ্ন ইসলামাবাদ-পোকখালী গোমাতলী সড়কের বাঁশঘাটা ইসলামাবাদ জাহানারা ইসলাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সাম্মুখস্থ ঈদগাঁও নদীর বাঁধে যে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে তা সরেজমিনে পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিদর্শনকালে ইউএনও মংচিংনু মার্মা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে যোগাযোগ করে দ্রুতসময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন উপস্থিতদের।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মংচিংনু মার্মা’র সাথে এ বিষয়ে কথা হলে জানান, বাঁধের ফাটল ধরা স্থানটি একাধিকবার পরিদর্শন করা হয়েছে। ফাটল ধরা নদী এলাকাটিপানি উন্নয়ন বোর্ড, কক্সবাজার এর অধীনে হলে তাদের সাথে যোগাযোগ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।আর যদি তাদের অধীনে না হয় তবে প্রকল্প তৈরি করে দ্রুত প্রস্তাবনা পাঠানো হবে।যাতে তড়িৎ ব্যবস্থা নেয়া যায়।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড, কক্সবাজার এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ: নুরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে জানান, তিন রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে অবগত ছিলেন না। নদীর ফাটল ধরা স্থানটি যদি তাদের দপ্তরের অধীনে হয় তবে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে।
উপজেলার সচেতন জনগণের দাবি, ঐতিহ্যবাহী ঈদগাঁও নদীর উভয় পাশের জায়গা দখল করে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে নদীর গতিপথ পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে এবং উভয় পাশে পরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করলেই কেবল এ নদী এবং জনগণ রক্ষা পাবে। নয়ত নদীর উক্ত পয়েন্টসহ বিভিন্ন স্থান ভাঙ্গনের মুখে পড়বে নিকট অতীতে।
এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, ইসলামাবাদ ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি হুমায়ুন কবির কোম্পানি, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক মোহাম্মদ নোমান ও ইউপি সদস্য জোনায়েদ জিকোসহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উল্লেখ্য, বিগত কয়েকদিনের টানা ভারি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের পানি উক্ত নদীর বিপদসীমা অতিক্রমের পর্যায়ে ছিল । যা নিয়ে পুরো এলাকাবাসী আতষ্কিত হয়ে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত এলাকাবাসীর প্রচেষ্টা ও বৃষ্টি কমে আসায় ঢলের পানি বিপদসীমা অতিক্রম না করলেও উক্ত স্থানে বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি হয়। যা নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন হয়েয়পড়ে এলাকার জনগণ ও ঐসড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী লাখো জনগণ। প্রতি বর্ষা মৌসুমে যখনই বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় তখনই উক্ত স্থান ভাঙ্গন বা ঝুঁকির মুখে পড়ে।
