করোনা থেকে জনগণকে সুরক্ষায় সরকারি নির্দেশনামতে প্রশাসন কর্তৃক বারবার সচেতনতা এবং সতর্ক করার পরও তা অমান্য করায় ক্রেতা সেজে ফের ঈদগাঁও বাজারে অভিযান চালিয়েছে কক্সবাজার সদরের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার মুক্তার।
২৩ মে(শনিবার) দুপুরে ঈদগাঁও বাজারের বিভিন্ন পয়েন্টে এ অভিযান চলে। অভিযান চলাকালীন দোকান খোলা রাখার অপরাধে দুই ব্যবসায়ীকে হাতে নাতে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে একসপ্তাহ বিনাশ্রম কারাদণ্ড ঘোষণা করা হয়।
এছাড়া প্রায় সময় প্রশাসনের অনুপস্থিতির সুযোগে মার্কেটের সব দোকান খোলা রেখে বেচা কেনা অব্যাহত রাখায় লাল পতাকা উচিঁয়ে লকডাউনের আওতায় আনা হয় বাজারের বঙ্গ মার্কেট, সৌদিয়া মার্কেট ও কবিরাজ সিটি মার্কেটকে।
অন্যদিকে অভিযানের সংবাদ পেয়ে যে সব সওদাগর দোকান ফেলে পালিয়ে যায়, তাদের দোকান গুলো সীলগালা করে দেওয়া হয়।সীলগালার আওতায় আসা দোকান গুলো হলো সিদ্দিক এন্ড ব্রাদার্স, সানা ফ্যাশন, ভাই ভাই ক্লথ স্টোর, আলম ফ্যাশন, বিনিময় ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, তুষার ডিপার্টমেন্ট, বিছমিল্লাহ স্টোর, সূবর্ণ ডিপার্টমেন্ট, হাজী ডিপার্টমেন্ট স্টোর, কায়সার স্টোর, ফাহিম ডিপার্টমেন্ট স্টোর, রাকিব স্টোর, পরশমনি বিপনী বিতান, ফায়সল গার্মেন্টস, আপন গ্যালারী, ফেমাস কালেকশন, চমক ডিপার্টমেন্ট স্টোর, সিরাজ ক্লথ স্টোর ও অধির বাবুর কসমেটিকস দোকান।
অভিযানকালে উপস্থিত ৫ ক্রেতাকেও ২৫শ টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযান পরিচালনাকারী ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহরিয়ার মুক্তার জানান, করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষায় প্রশাসন জেলার সকল শপিং মল বন্ধের নির্দেশ জারি করেছে ইতিপূর্বে। বিশেষ করে ঈদগাঁও’র কিছু লোভী দোকানদার ও অসচেতন জনগোষ্ঠী এ মরণঘাতি ভাইরাসের তোয়াক্কা না করে ভোর রাত থেকে বাজারে ক্রয় বিক্রয়ের জন্য জড়ো হয়।যা বর্তমান জারিকৃত স্বাস্থ্যবিধির সম্পুর্ন পরিপন্থী। এ সংবাদ পেয়ে অব্যাহত অভিযানের অংশ হিসেবে ক্রেতা সেজে দ্বিতীয়বারেরমতো পুনরায় অভিযান চালিয়ে উপরোক্ত মার্কেট, দোকান, ক্রেতা ও আটক দুই দোকানির বিরুদ্ধে উপরোক্ত আইন প্রয়োগ করা হয়।যতদিন পর্যন্ত করোনার প্রকোপ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে না আসবে, জনস্বার্থে এ অভিযান চলমান থাকবে বলেও জানান।
দীর্ঘ ৩ ঘন্টা এ অভিযান চলে। এসময় ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (পরিদর্শক) মো. আছাদুজ্জামানের নির্দেশে পুলিশের একটি চৌকস দল আদালতকে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করেন। এ অভিযান অব্যাহত থাকায় এলাকার স্বাস্থ্য সচেতন জনগণ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অভিনন্দন জানান।
