parbattanews

উখিয়ায় টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ৩ ইউনিয়নে পানিবন্দী ৫০ হাজার মানুষ, চরম দুর্ভোগে জনজীবন

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার হলদিয়াপালং, জালিয়াপালং ও পালংখালী ইউনিয়নের অন্তত ৩০টির বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি, গ্রামীণ সড়ক ও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যায়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হলদিয়াপালং ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় অনেক পরিবার রান্না করতে পারছে না। ফলে অসংখ্য মানুষ শনিবার রাত থেকে না খেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পানিবন্দী পরিবারগুলোর মধ্যে শিশু, নারী ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন।

এদিকে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উখিয়া উপজেলা প্রশাসন জরুরি সভা করেছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ৪৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সিপিপি ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকেরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছেন।

হলদিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, “টানা বৃষ্টিতে ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।”

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, “ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে।”

বন্যার পাশাপাশি উখিয়ার স্থানীয়দের বসবাসের অন্তত ৮টি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। তবে এখন পর্যন্ত এসব ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। প্রশাসন সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Exit mobile version